।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

দেশকে জঙ্গিরাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে হলি আর্টিজানে হামলা করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণ কখনও জঙ্গিবাদকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়নি, তাই আমরা জঙ্গিবাদকে অনেকাংশে দমন করতে সমর্থ হয়েছি। আমাদের যুবকরা জঙ্গিবাদের ওপর যে গবেষণা করছে, তা অনেক উপকারে আসবে।’

সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে ‘ডাকসু ল অ্যান্ড পলিটিক্স রিভিউ কর্তৃক ডিইউ থিংক্স’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছিলেন। এরপর আমরা এমন একটি পর্যায়ে এলাম, যখন ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হলো। জঙ্গিবাদের মূল হোতাদের খুঁজতে গিয়ে দেখলাম, সবাই দেশীয় জঙ্গি। তারা আমাদের দেশকে একটি অচল জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল।’

এ সময় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ বিষয়ে গবেষণা করতে গেলে প্রথমে যে সমস্যায় পড়তে হয় তা হলো, তথ্যের অপ্রতুলতা; অর্থাৎ কেউ অপরাধীদের বিরুদ্ধে মুখ খোলে না। এই প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে গবেষণা ও রিপোর্ট তৈরি করা খুবই চ্যালেঞ্জিং।’

মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় টেরোরিজম বৈচিত্র্যময়। ভারত কিংবা পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের টেরোরিজমের বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি মিলবে না। এখানে জঙ্গিরা মূলত ধর্মকে মাধ্যম করে চাঁদা তুলতো। তবে জেএমবি শুরু থেকেই ক্রিমিনাল অ্যাকটিভিটিসের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতো। তাছাড়াও ফেক ইন্ডিয়ান কারেন্সির মাধ্যমেও তারা অর্থায়ন করতো।’

অনুষ্ঠানে আলোচনা বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. রুহুল আমিন, একই বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্স ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার কামাল হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সাদ্দাম হোসেন। আলোচনা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাহরিমা তানজিন অর্নি।