।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ।।

এক দশক পেরোলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকর্মী ফারুক হোসেন হত্যা মামলার বিচারকার্য শেষ হয়নি। দ্রুত বিচারকার্য শেষ করে আসামিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ফারুকের পরিবার। এদিকে, শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহীদ ফারুক হোসেনের দশম মৃত্যুবার্ষিকীতে ক্যাম্পাসে শোক র‌্যালি ও সমাবেশ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ দাবি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, হল দখলকে কেন্দ্র করে ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে শিবিরকর্মীরা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে ছাত্রলীগকর্মী ফারুক হোসেন নিহত হন। নিহত ফারুকের লাশ একটি ম্যানহোলে ঢুকিয়ে রাখা হয়। ঘটনার পরদিনই অসংখ্য অজ্ঞাতসহ শিবিরের ৩৫ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে নগরীর মতিহার থানায় মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম অপু।

এ ঘটনার প্রায় আড়াই বছর পর ২০১২ সালের ২৮ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান আদালতে ১২৬৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন কেন্দ্রীয় আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, রাজশাহী মহানগর আমির আতাউর রহমান, রাবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি শামসুল আলম গোলাপ, সেক্রেটারি মোবারক হোসেন, নবাব আব্দুল লতিফ হল শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাসমত আলী, শহীদ হবিবুর রহমান হলের সভাপতি রাইজুল ইসলাম, শিবিরকর্মী রুহুল আমিন ও বাপ্পীসহ ১১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

পরে এই হত্যা মামলাটি দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। মামলার আসামিদের মধ্যে জামায়াত নেতা মুজাহিদ ও নিজামীর মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে। আর যাবজ্জীবন কারাদন্ড ভোগ করছেন সাঈদী। তবে অভিযুক্ত শিবির নেতাকর্মীদের অধিকাংশই জামিনে রয়েছে। কারণ হিসেবে জানা যায়, সাক্ষীরা সময়মতো আদালতে হাজির না হওয়ায় বিচার কার্যক্রম থমকে আছে।

ফারুক স্মরণে দলীয় টেন্ট থেকে একটি র‌্যালি নিয়ে তার স্মৃতি বিজড়িত শাহ্ মখদুম হলের সামনে নির্মিত স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে রাবি ছাত্রলীগ। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক মীর ইসতিয়াক আহমেদ লিমন, রাবি শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া,  ফারুকের বোন আসমা বেগম, সহ-সভাপতি কাজী লিংকন। সমাবেশে বক্তারা ফারুক হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। সেই সাথে আসামিদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত সনদপত্র বাতিল ও ফারুকের বোন আসমা বেগমের চাকরি স্থায়ী করণের দাবি জানান তারা। এছাড়া বাদ আসর শহীদ ফারুকসহ সকল শহীদদের স্মরণে শাহ মখদুম হল অডিটোরিয়ামে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।