।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

চীনের উহান থেকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ বিমানের যে ফ্লাইটটি পাঠানো হয়েছিল, তার পাইলট ও ক্রুদের অন্য দেশ ভিসা দিচ্ছে না। এ কারণে চীন থেকে বাংলাদেশিদের ফেরত আনতে নিজস্ব আর কোনও বিমান পাঠানো হবে না। করোনাভাইরাস নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের এক বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল হক এই তথ্য জানান।

সচিব জানান, চীনের উহানে এখনও ১৭১ জন শিক্ষার্থী আছেন। তাদের দেশে আনা হবে। কিন্তু তাদের আনতে দেশ থেকে বিমান পাঠানো যাবে না। কারণ যে বিমান পাঠানো হয়েছিল, তার পাইলট ও ক্রুদের সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য দেশ ভিসা দিতে চাচ্ছে না। একারণে বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়কে চার্টার্ড বিমান নিতে বলা হয়েছে।

বিমান মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হকও এই সভায় উপিস্থত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক প্রফেসর এম আবদুল্লাহও ছিলেন বৈঠকে।

তিনি জানান, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিশেষ বৈঠক করে কয়েকটি জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকের পর মন্ত্রী ও কর্মকর্তাসহ ২৪/২৫ জনকে নিয়ে বিশেষ এই বৈঠক করেন তিনি।

সচিব জানান, উহান থেকে ঢাকায় যে চারটি ফ্লাইট আসে, তারা খুব বেশি প্যাসেঞ্জার বহন করে না। তাই ইউএস বাংলাসহ অন্যান্য এয়ারলাইনগুলো নিজেরাই এসব ফ্লাইট বন্ধ করে দেবে।

উল্লেখ্য চীনে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় দেশটির উহান সিটিতে থাকা শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরিয়ে এনেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এজন্য গত শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) উহানে পাঠানো হয় ৪১৯ জন যাত্রী বহনে সক্ষম বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ ‘আকাশ প্রদীপ’। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ৩১২ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ঢাকায় আসে উড়োজাহাজটি।

চীনের উহান থেকে শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার পর উড়োজাহাজ ‘আকাশ প্রদীপ’কে জীবাণুমুক্ত করতে প্রায় ১২ ঘণ্টা সময় লেগেছে বিমানের প্রকৌশল বিভাগের। তবে ফ্লাইটের বর্জ্য নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ। কীভাবে এগুলো ধ্বংস করা যাবে তার কোনও উপায় বের করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।