।। শোবিজ প্রতিবেদন ।।

হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে বাস্কেটবল কিংবদন্তি কোবি ব্রায়ান্টের মৃত্যু সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছে– জীবন কতটা ঠুনকো। এমনই উপলব্ধি হয়েছে দুই পপ সুপারস্টার জেনিফার লোপেজ ও শাকিরার। সুপারবৌলের মধ্যবিরতির কনসার্টে কোবির মৃত্যুতে সেই বার্তা ছড়িয়ে দিতে চান তারা।

দু’জনই লাতিন আমেরিকান পপতারকা। জেনিফার লোপেজের জন্ম পুয়ের্তোরিকোতে। আর তিনবারের গ্র্যামিজয়ী শাকিরা কলম্বিয়ান। মিয়ামির বৃহৎ ল্যাটিনো গোষ্ঠী ও লাতিন আবহে প্রথমবার একমঞ্চে একসঙ্গে গাইবেন হেভিওয়েট দুই গায়িকা। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে সুপার বৌলের মধ্যবিরতিতে দেখা যাবে তাদের পরিবেশনা।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মিয়ামিতে বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ৪২ বছর বয়সী শাকিরা বলেন, ‘জীবন বড়ই ক্ষণস্থায়ী। সেজন্যই প্রতিটি মুহূর্তে যতটা সম্ভব নিবিড়ভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টা করতে হবে আমাদের। আমরা বেঁচে থাকা ও আমেরিকার জাতিবৈচিত্র্যকে উদযাপন করবো। এটি আমাদের ল্যাটিনো গোষ্ঠীর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যময় মুহূর্ত। আমি নিশ্চিত, মঞ্চে আমরা যে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করবো তা দেখে তিনি (কোবি ব্রায়ান্ট) গর্বিত হবেন।’

গত ২৬ জানুয়ারি কুয়াশায় বিভ্রান্ত পাইলটের অসতর্কতায় পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হলে দুর্গম গিরিখাতে নিভে যায় কোবি ব্রায়ান্টের জীবনপ্রদীপ। তার সঙ্গে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ১৩ বছরের মেয়ে জিয়ান্না।

৫০ বছর বয়সী লোপেজের কথায়, ‘এ ঘটনা (কোবির মৃত্যু) সবার ওপর ভীষণ প্রভাব ফেলেছে। কারণ এর মাধ্যমে আমাদের উপলব্ধি হয়েছে জীবন কতটা ঠুনকো। এজন্যই প্রতিটি মুহূর্তকে উদযাপন করতে হবে। কারণ খুব অনায়াসেই জীবনপ্রদীপ নিভে যেতে পারে। আমাদের একে অপরকে ভালোবাসতে হবে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে থাকতে হবে ও সহযোগিতার মনোভাব রাখতে হবে। সারাক্ষণ বিবাদে জড়িয়ে সময় নষ্ট করা ঠিক নয়। এটাই আমাদের আয়োজনের মূল লক্ষ্য ও বার্তা।’

কোবি ব্রায়ান্টের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেও সুপার বৌলে ১২ মিনিট দর্শক-শ্রোতাদের জন্য উপভোগ্য ও হৈ-হুল্লোড়ে ভরপুর পরিবেশনা থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন লোপেজ ও শাকিরা। একইসঙ্গে অল্পবয়সী ল্যাটিনো মেয়েদের জন্য শক্তিশালী বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা আছে তাদের। নারীর ক্ষমতায়নের জয়গান গাইবেন তারা।

সুপার বৌলের মধ্যবিরতির কনসার্টে সাধারণত সংগীত পরিবেশন করেন বিখ্যাত শিল্পীরা। গত বছর মেরুন ফাইভ ব্যান্ডের গান-বাজনা উপভোগ করেন ১০ কোটি দর্শক। মিয়ামিতে সবশেষ ২০১০ সালে সুপারবৌলে ব্রিটিশ রক ব্যান্ড দি হু সংগীত পরিবেশন করেছিল।