।। গ্রেগ ওয়ালড্রন, ফ্লাইট গ্লোবাল ।।

বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার কিনতে চায় বাংলাদেশ। দেশটির চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিটি জানায়, সম্প্রতি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এএইচ-৬৪ই অ্যাপাচি সংগ্রহের জন্য তার আগ্রহের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করায় বোয়িং আগ্রহী হয়েছে।

এটি হবে দুই সরকারের মধ্যে ‘ফরেন মিলিটারি সেল’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। একে সহায়তা দিতে বোয়িং প্রস্তুত।

বোয়িংয়ের এক প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিও অ্যাটাক হেলিকপ্টারের ব্যাপারে ঢাকার কাছে তথ্য জমা দিয়েছে। তবে তারা সম্ভাব্য ক্রয়ের ব্যাপারে কোনো তথ্য জানে না বলে জানিয়েছে। বিষয়টি ক্রেতার জন্য স্পর্শকাতর হওয়ায় তারা আর কোনো তথ্য জানাতে রাজি হয়নি।

বাংলাদেশের কত সংখ্যক রোটরক্রাফট প্রয়োজন, তা পরিষ্কার নয়। তবে চুক্তি সই হলে এটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নতুন শক্তি যোগাব। এয়ারক্র্যাফট বহর সংক্রান্ত তথ্যসম্ভার সংস্থা সিরিয়াম ফ্লিটসের তথ্য বলছে, বাংলাদেশের হাতে কোনো ডেডিকেটেড অ্যাটাক হেলিকপ্টার নেই।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কাছে উড্ডয়নক্ষম ৫৮টি রোটরক্রাফট রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৩২টি সামরিক এমআই-৮ পরিবারের হেলিকপ্টার, ১৪টি বেল ২১২, ছয়টি বেল ২০৬, চারটি লিওনার্দো হেলিকপ্টার্সের এডব্লিউ১৩৯, ও দুটি এডব্লিউ১১৯ হেলিকপ্টার রয়েছে। এগুলোর গড় বয়স ২০ দশমিক ৯ বছর। তবে লিওনার্দো হেলিকপ্টারগুলো তুলনামূলক নতুন, গড় বয়স আড়াই বছর।

এর মধ্যে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার সংখ্যা ১০টি, ছয়টি এমআই-৮ পরিবারের হেলিকপ্টার, দুটি বেল ২০৬ ও দুটি এয়ারবাস হেলিকপ্টার এএস৩৬৫।

সংসদে আলোচনা

এদিকে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য মুহিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে  সংসদ কাজে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিমান বাহিনীকে আরও গতিশীল, যুগোপযোগী ও আধুনিকায়নের লক্ষ্য ১৬টি মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এমআরসিএ), ৮টি অ্যাটাক হেলিকপ্টার, তিনটি ভিভিআইপি হেলিকপ্টার, দু’টি এয়ার ডিফেন্স রাডার ইউনিট, ২৪টি প্রাইমারি ট্রেইনার এসি, দু’টি লাইট এসি, একটি কে-৮ ডাব্লিউ সিম, চারটি এমআরএপি ভ্যাকেল, একটি এডব্লিউ-১১৯ সিম, দু’টি কাউন্টার ড্রোন সার্ভ রাডার সিস্টেম এবং একটি মোবাইল এটিসি টাওয়ার ক্রয়ের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।

একই প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক জানান, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় বিস্ফোরক হামলা থেকে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য ১৫টি মাইন রেসিস্ট্যান্ট অ্যাম্বুস প্রোটেক্টেড (এমআরএপি) ইউথ জ্যামার কেনা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৫০টি এমআরএপি কেনার চুক্তি করা হয়েছে।