।। বিল গার্টস, ওয়াশিংটন টাইমস ।।

সদ্য ছড়িয়ে পড়তে থাকা ঘাতক করোনাভাইরাসের উৎস হতে পারে উহানের পরীক্ষাগার, যা চীনের গোপন জীবাণু অস্ত্রের গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। একজন ইসরায়েলি জীবাণু অস্ত্র বিশেষজ্ঞের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে ওয়াশিংটন টাইমস।

গত সপ্তাহে পুরোনো এক প্রতিবেদন সামনে এনে রেডিও ফ্রি এশিয়া জানায়, ভাইরাস নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে চীনের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তির গবেষণাগারটি হচ্ছে উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি। এটি চীনের একমাত্র স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান, যেখানে মরণঘাতী ভাইরাস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণা চালানো হয়।

ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ড্যানি সোহাম চীনের জৈব রাসায়নিক মারণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গবেষণা করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বব্যাপী জীবাণু ও রাসায়নিক অস্ত্র নিয়ে ইসরায়েলের কর্মসূচির উচ্চপদস্থ বিশেষজ্ঞ ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদমর্যাদার সোহাম।

করোনাভাইরাস সতর্কতায় করণীয় জানতে ক্লিক করুন

তার দাবি, জৈব রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির গোপন কর্মসূচি চলা একটি ইনস্টিটিউট থেকে করোনাভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে। করোনা ভাইরাসগুলো নিয়ে গবেষণা করা হয় ওই গোপন পরীক্ষাগারে। সার্সধর্মী ভাইরাস নিয়ে গবেষণাও চীনের জৈব রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত। বড় আকারের এই কর্মসূচি বেশ কয়েকটি ধাপে পরিচালনা করা হয়।

মার্কিন এই সংবাদমাধ্যমকে ড্যানি সোহাম ইমেইলে আরও জানিয়েছেন, ইবোলা, নিপা এবং ক্রিমিয়ান-কঙ্গো হেমোরজিক ফিভার ভাইরাস নিয়ে গবেষণায় জড়িত ছিল উহান ইনস্টিটিউটের ন্যাশনাল বায়োসেফটি ল্যাবটি। ইনস্টিটিউটটি চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সের অধীনে হলেও সামরিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জৈব রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত।

চীন অবশ্য বিতর্কিত জৈব অস্ত্র কর্মসূচি পরিচালনার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। জৈব রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে নতুন করোনাভাইরাসটির উৎপত্তি কিনা, জানতে চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চীনা দূতাবাসের কাছে ইমেইল পাঠালেও কোনও উত্তর পায়নি ওয়াশিংটন টাইমস।

চীনা কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা এই ভাইরাসের উৎস সম্পর্কে কিছু জানে না। চীনের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিকার বিষয়ক কেন্দ্রের পরিচালক গাও ফু বলেন, উহানের একটি সামুদ্রিক খাবারের বাজার থেকে এই রোগ ছড়িয়েছে। উহান ইনস্টিটিউট সার্স ভাইরাসের মতো করেই করোনা ভাইরাসের গবেষণা করছে। এছাড়া রাশিয়ায় তৈরি জৈব অস্ত্র অ্যানথ্রাক্স নিয়েও গবেষণা করেছে তারা। শোহামের দাবি, সার্স ভাইরাসও চীনের জৈব অস্ত্র তৈরির অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট।