।। টাইমস অব ইন্ডিয়া/পিটিআই, গুয়াহাটি ।।

একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে আসাম। ৭১তম প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে আসামে পরপর গ্রেনেড হামলা। এই ধারাবাহিক বিস্ফোরণে পুরো উত্তর পূর্বাঞ্চল সন্ত্রস্ত। হামলার ঘটনার দায় স্বীকার করেছে উলফা (ইনডিপেনডেন্ট)।

আসামের তিন জেলার সাতটি স্থানে বিদ্রোহীরা বিস্ফোরণ ঘটায়। তিনটি তাজা আইইডি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখানেও কোনো হতাহত হওয়ার খবর নেই বলে রাজ্য পুলিশপ্রধান মুকেশ সহায় সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন।

একটি বিবৃতিতে উলফা (ইনডিপেনডেন্ট) জানায় যে তারা প্রজাতন্ত্র দিবসে এসব হামলা চালিয়েছে। পরেশ বড়ুয়ার নেতৃত্বে উলফা (ইনডিপেনডেন্ট) এবং উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের কিছু সংগঠন যৌথভাবে ওই অঞ্চলে প্রজাতন্ত্র দিবস বয়কটের ডাক দিয়েছিলো।

রোববার সকালের তিনটি বিস্ফোরণ দিব্রুগড় এলাকায় হয়েছে এবং অন্য আরেকটি হইয়েছে চরাইদেও জেলায়। দশ মিনিটের পার্থক্যে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরনের ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ছুটি থাকায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

প্রথম বিস্ফোরণটি হয়েছে চরাইদেও জেলায়। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেন, দ্রুত আসামকে আরও জঙ্গি মুক্ত করার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। বৃহত্তম এই জঙ্গি আত্মসমর্পণের কয়েক ঘণ্টা পরেই ধারাবাহিক বিস্ফোরণে কাঁপল আসাম।

আসাম পুলিশ জানিয়েছে, এবারও ২৬ জানুয়ারি উত্তর পূর্ব ভারতে বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কালো দিন পালন করছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান শুরু হতেই আসামের তিন জায়গায় নাশকতার চেষ্টা হয়। ডিব্রুগড়ে গুরুদ্বারের কাছে জঙ্গিরা প্রথম বিস্ফোরণ ঘটায়।

এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই আরও দুটি জায়গা থেকে বিস্ফোরণের খবর আসে। চারাইডিও এবং দুলিয়াজানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা আসামজুড়ে।

মণিপুরেও বিস্ফোরণ

এদিকে রোববার সকালে মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলের মন্ত্রী পুকুরি ও সিংজেমাইতে দুটি বিএসএফ ক্যাম্পের সামনে বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। কেউ হতাহত হননি বলে বিএসএফ সূত্রে দাবি করা হয়।