Loading...
উত্তরকাল > বিস্তারিত > শিল্প ও সাহিত্য > মাহী ফ্লোরার তিন কবিতা

মাহী ফ্লোরার তিন কবিতা

পড়তে পারবেন < 1 মিনিটে

আমাদের সন্তান

আমার যে সন্তান হয়েছিল নর্মদা নদী, অতীত খুলেছিল পরতে পরতে, যাকে ডেকেছিলাম বিভিন্ন নামে। হতে পারতো সে সাহসী লতানো বলাগাছ। অথচ সে জলে মিশে গেল। ভাঙা ভাঙা রক্তে। তুমি তাকে চাইলে না। আমি তাকে চাইলাম না। আমাদের সন্তান সীমান্তের কোনও পাহাড় হয়ে দাঁড়ালো।

এইসব কুয়াশায় ভাবি, নদী সমুদ্র ঘন বন পেরিয়ে আমি আজ পাহাড়েই যাব। যেকোনও গাছ, যেকোনও নদী, যেকোনও পাহাড় অথবা মাড়িয়ে যাও যে ঘাস—

হয়ত সে আমাদেরই সন্তান!

নির্বাসন

একেকটি পাতা গর্ভে ধারণ করে এক মহাজীবনের গল্প। শুরুতেই আমার মনে পড়ে যাতনার কোনো রঙ নেই, প্রতিশোধের আছে বহুমুখী প্রবহমানতা! পৃথিবীর আর কোনো গল্পে আমার মন লাগে না। তাহলে পাতারা আর কি কাজে লাগবে?

এই যে বলতে পারি না, ভুলতে পারি না, মিশে যেতে পারি না দ্বিধায়, এসবই কি আমার নির্বাসন?

এমন দূরত্বে একটি নীল ছাতা ভেসে থাকে জলের ওপর। পায়ে পায়ে পেঁচিয়ে রয়েছে যে শাড়ির পাড়, সে কেবলই রহস্য, এইতো কেবলই ডুবে গেলো, যে রঙ মুখাগ্নির।

পাণ্ডুলিপি

নৈঃশব্দ্যের এই ব্যাখ্যা পারে না অতিক্রম করতে কোনো দূরত্ব। ভাল থাকা বা না থাকার দীর্ঘশ্বাস তাই ক্রমাগত ছুটে যাচ্ছে আমার শৈশবের দিকে। আমার আচমকা বড় হয়ে যাওয়া অতীতে। ভেঙে ফেলা মাটির ধনুক, ছুড়ে দেয়া তীর—আড়মোড়ার দিকে। নৈঃশব্দ্য এমনই অটল।

কিছু গান, কিছু ডুবতে থাকা পুরনো স্মৃতি, কিছু মানুষ পাথরের নুড়ির মত, জলের তৃষ্ণা মেটাতে যে কাক একটু একটু করে পাড়ি দেয় দূরত্বের অবাক মুহূর্ত।

নৈঃশব্দ্যের কোনো পাণ্ডুলিপি নেই। তাই দূরত্বের বই হতে হতেও হচ্ছে না। অথচ ছোট্ট নৌকাও ফের জলে ঢেউ লেগে ফিরে ফিরে আসে!

সবশেষ আপডেট

উত্তরকাল

বিশ্বকে জানুন বাংলায়

All original content on these pages is fingerprinted and certified by Digiprove
%d bloggers like this: