।। দ্য এক্সপ্লোরেচার, কলকাতা ।।

ভারতে পর্যটকের প্রিয় দার্জিলিং মেল একদিন ‘বলদ’ টেনে টেনে নিয়ে যেত। আর বর্ষাকালে বলদের জায়গা নিতো হাতি। সেই ট্রেনের নাম ছিলো ‘বুলক ট্রেন’। খুব বেশি আগের নয়। এই ইতিহাস মাত্র দেড়শ বছর আগেকার।

শিয়ালদহ থেকে সন্ধ্যে সাড়ে আটটায় ছাড়া দার্জিলিং মেল এখন ৯ ঘন্টা ৫৫ মিনিটে নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছলেও সে যুগে শিলিগুড়ি টাউন থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত চলত ট্রেনটি। আজকের শিয়ালদহ স্টেশনের ১৮৬০ সাল নাগাদ নাম ছিল ‘ক্যালকাটা স্টেশন’।

দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে তখনও তৈরি হয়নি। পাওয়া যায়নি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ এর তকমা লাগানো টয় ট্রেন। সেযুগে বার্ড কোম্পানি এই ট্রেনটি চালানোর পরিকল্পনা নেয়। যার প্রধান ছিলেন শ্যাম বার্ড। তবে সেই ট্রেনে যাত্রী ছিল না। মূলত ব্রিটিশ  সাহেবদের পরিচালিত চা বাগানগুলি থেকে পণ্য পরিবহনের জন্যই ট্রেনটি ব্যবহার হতো। 

সাহেবগঞ্জ থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত যাওয়ার সময় ভায়া কাঠগোলা ঘাট ও পূর্ণিয়া যেত ট্রেনটি। ট্রেনের বগিগুলি ছিল কাঠের, দুপাশে চাকা লাগানো থাকত। ছাদটি ঢাকা থাকত ত্রিপল দিয়ে। মোট ১৮৮ মাইলের যাত্রাপথ।

সেযুগে হিলকার্ট রোডের নাম ছিল ওল্ডকার্ট রোড। ট্রেনটি অনেকবার দাঁড়াতো পণ্য ওঠা নামার জন্য। দুটি বলদ ট্রেনটি টেনে নিয়ে যেত, কিন্তু আজকের মতো কোনো স্লিপারওয়ালা রেললাইন ছিল না। তবে রেলপথের আদলেই নির্ধারিত পথ দিয়ে চলতো এই বলদটানা ট্রেন।

কোনো বলদ অসুস্থ হলে আরও বলদ প্রস্তুত থাকত স্টেশনে স্টেশনে। পাশাপাশি তাদের খাবারও মজুত থাকত। আবার বর্ষাকালে বলদের বদলে হাতির ব্যবহার হোত এই ট্রেনে। বার্ড কোম্পানি সেযুগে ১৩০০ টাকায় একটি হাতিও কিনেছিল। আর একটি হাতিও ভাড়া করা হয়েছিল মাসিক ২০০ টাকায়।

এভাবে ১৪ বছর চলার পর ১৮৮১ সালে তৈরি হয় দার্জিলিং-হিমালয়ান রেলওয়েজ কোম্পানি। বার্ড কোম্পানির তরফে পল বার্ড বেশ কিছুদিন ব্যবসাটা চালিয়ে গেলেও পরে তা আর সম্ভব হয়নি।  ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ব্রিটিশরা বার্ড কোম্পানির সমস্ত গোডাউন, ট্রেন গাড়ি কিনে নেয়। আর চিরতরে হারিয়ে যায় সেই বুলক ট্রেন। পাহাড়ে চালু হয় ট্রয় ট্রেন।