।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

কেনিয়ায় একটি সামরিক ঘাঁটিতে জঙ্গি হামলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক সদস্য ও মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা প্রাইভেট মিলিটারি কোম্পানির ২ সদস্য নিহত হয়েছে। কেনিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা লামুর মান্দা দ্বীপের ক্যাম্প সিমবা ঘাঁটিতে রোববার হামলায় চালায় জাঙ্গি গোষ্ঠী আল শাবাব। কেনিয়ান ও মার্কিন বাহিনী, উভয়েই ঘাঁটিটি ব্যবহার করে।

এ ঘটনায় তাদের আরও দুই জন আহত হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। বিবৃতিতে মার্কিন বাহিনীর আফ্রিকা কমান্ড বলেছে, আহত আমেরিকানদের অবস্থা স্থিতিশীল আছে এবং তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বিবিসিকে গুলির শব্দ ও ক্যাম্প সিমবা থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডুলি উঠতে দেখার কথা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা কমান্ডের কমান্ডার জেনারেল স্টেফেন টাউনসেন্ড তার সহকর্মীদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এ হামলার জন্য যারা দায়ী এবং আমেরিকান ও মার্কিন স্বার্থের ক্ষতি করা আল শাবাবের ‘পশ্চাদ্ধাবন’করার অঙ্গীকার জানিয়েছেন তিনি।

কেনিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী (কেডিএফ) বলেছে, মান্দার বিমানক্ষেত্রের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের একটি উদ্যোগ প্রতিহত করা হয়েছে। এ ঘটনায় চার জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

হামলার কারণে লাগা আগুন নিভানো হয়েছে এবং বিমানক্ষেত্রটি এখন নিরাপদ বলে জানিয়েছেন কেডিএফের এক মুখপাত্র। বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য ব্যবহৃত নিকটবর্তী একটি বিমানেক্ষেত্র ফের খুলে দেওয়া হয়েছে বলে কেনিয়ার বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

অপরদিকে সুরক্ষিত ক্যাম্প সিমবা ঘাঁটিতে ‘সফল’ হামলা চালানোর দাবি করেছে আল শাবাব। হামলার এক পর্যায়ে তারা ঘাঁটির একটি অংশের ‘নিয়্ন্ত্রণ’ নিয়েছিল বলে জানিয়েছে।

হামলা প্রতিরোধ করতে কেনিয়ার সামরিক বাহিনী যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছে বলেও জানিয়েছে তারা। আন্তর্জাতিক একটি বার্তা সংস্থা হামলায় দুটি বিমান, দুটি মার্কিন হেলিকপ্টার ও বহু সামরিক-বেসামরিক যান ধ্বংস হওয়ার কথা জানিয়েছে।

আল শাবাব নয় কেনীয় সৈন্যকে হত্যা ও লড়াইয়ে ১৭ মার্কিন সেনাকে আহত করার দাবি করেছে। সাতটি বিমান ও পাঁচটি সামরিক যান ধ্বংসেরও দাবি করেছে তারা। ভয়েস অব আফ্রিকার এক সাংবাদিক একটি জ্বলন্ত বিমানের কিছু ছবি টুইট করেছেন। জঙ্গিরা বলেছে, মার্কিন এই বিমানটিকে লক্ষ্যস্থল করেছিল তারা।

বিবিসি জানিয়েছে, আল শাবাবের এসব দাবি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব না হলেও নিশ্চিত করা হয়নি এমন কয়েকটি প্রতিবেদনে হামলায় ধ্বংস হওয়া একটি বিমান যুক্তরাষ্ট্রের এবং সেটি ওই অঞ্চলে গোয়েন্দাগিরির কাজে ব্যবহৃত হতো বলে জানানো হয়েছে। কেনিয়ার প্রতিবেশী সোমালিয়াভিত্তিক আল শাবাব জঙ্গি গোষ্ঠী আল কায়েদার অনুগত। ২০১১ সালে আল শাবাবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সোমালিয়ায় সৈন্য পাঠায় কেনিয়া। তারপর থেকে কেনিয়ান ভূখণ্ডে নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে জঙ্গি গোষ্ঠীটি।