।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।। 

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে ব্রিটিশ পতাকাবাহী জাহাজের সুরক্ষা নিশ্চিতে সেখানে ফের দুটি যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্যের নৌ বাহিনী।

শুক্রবার বাগদাদে মার্কিন হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেমানি নিহত হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস ব্রিটিশ নৌবাহিনীর দুটি ডেস্ট্রয়ারকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলসীমা হরমুজে ফের পাহারার দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।

সোলেমানি হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের নীরবতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে ওয়ালেস এ সিদ্ধান্ত নিলেন। ছুটি কাটাতে জনসন এখন ক্যারিবীয় দ্বীপে আছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। 

“আমাদের নৌযান ও নাগরিকদের সুরক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপই নেবে,” এক বিবৃতিতে বলেছেন ওয়ালেস।

গত বছর জিব্রাল্টারে একটি ইরানি নৌযান জব্দের পাল্টায় তেহরানের কমান্ডোরা হরমুজে একটি ব্রিটিশ পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করলে যুক্তরাজ্য ওই প্রণালীতে নিজেদের জাহাজের সুরক্ষায় যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছিল।

সোলেমানির হত্যাকাণ্ডের পর থেকে হরমুজে ফের ট্যাঙ্কারের ওপর হামলা হতে পারে, এমন আশঙ্কা বাড়ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। 

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, তিনি এরই মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপারের সঙ্গে কথা বলেছেন। সব পক্ষকে সংযত হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

“আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, নিজের নাগরিকদের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিতদের কাছ থেকে সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার আছে যুক্তরাষ্ট্রের,” বলেছেন ওয়ালেস।

যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ নাগরিক ও অন্যদের সুরক্ষায় কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে তা জানতে চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখেছেন তিনি।

“বরিস জনসনের উচিত তার ছুটি সংক্ষিপ্ত করে এমন একটি ইস্যুর মোকাবেলা করা যা যুক্তরাজ্য এবং বিশ্বের জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনতে পারে,” বিবৃতিতে বলেছেন করবিন।