।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে বাগদাদে হামলা চালিয়ে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক কমান্ডার এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলেমানিকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকায় ইরাক ছাড়তে শুরু করেছেন দেশটির তেল কোম্পানিতে কর্মরত মার্কিন নাগরিকরা।

শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসের এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জরুরিভিত্তিতে ইরাক ছাড়ার আহ্বান জানানো হয়। তারপর থেকেই দক্ষিণ ইরাকের তেলের শহর বসরায় অবস্থিত তেল কোম্পানিগুলোতে কর্মরত মার্কিন নাগরিকরা ইরাক ছাড়তে শুরু করেন। ইরাকের তেল মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।

তবে ইরাকি কর্মকর্তারা বলছেন, তেল উৎপাদন, রপ্তানিসহ অন্য কার্যক্রম এতে বাধাগ্রস্ত হবে না। বিশ্বের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠনে (ওপিইসি) দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরাক। সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন ৪ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করে দেশটি।

তেল কোম্পানি সূত্রে রয়টার্স জানায়, বিদেশি অনেক কর্মকর্তাই ইরাক ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইতোমধ্যে বসরা এয়ারপোর্টে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য দেশের বেশ কয়েকজন নাগরিককে লক্ষ করা গেছে। ফ্লাই দুবাই এয়ারলাইন ও কাতার এয়ারওয়েসে চেক ইন করতে দেখা গেছে তাদের। তবে পরিস্থিতি শান্ত ছিল।

কর্মকর্তারা দেশ ছাড়ছেন কি-না এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায় মার্কিন জ্বালানি গ্রুপ এক্সন মোবিল। তারা বলেন, উৎপাদন ‘স্বাভাবিক’ গতিতেই চলছে। ইরান সীমান্ত ঘেঁষে দক্ষিণ ইরাকের এক্সন মোবিলের ‘ওয়েস্ট কুরনা ১’ এর এক মুখপাত্র জানান, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন তারা।

গত মে মাসে ওই অঞ্চলে তেল সংরক্ষণাগারে হামলার পর প্রায় ৬০ জন বিদেশি কর্মীকে সরিয়ে নেয় কোম্পানিটি। দু’ সপ্তাহ পর সরকার আরও নিরাপত্তা দিতে সম্মত হলে ইরাকে ফেরেন ওই কর্মীরা। বিদেশি কর্মীদের ইরাক ছাড়ার বিষয়ে জানার জন্য তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি তারা।