।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

কার্গো বিমান ওঠানামাসহ একসঙ্গে তিনটি উড়োজাহাজ পার্ক করার ব্যবস্থা নিয়ে আধুনিকায়ন হচ্ছে রাজশাহী শাহমখদুম বিমানবন্দর। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে।

শনিবার বেসামরিক বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীর নেতৃত্বে মন্ত্রণালয়ের একটি দল এ লক্ষ্যে সরেজমিন রাজশাহী বিমানবন্দর পরিদর্শন করেছেন।

মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মুহিবুল হক জানান, এই প্রকল্পের আওতায় বড় উড়োজাহাজ ওঠানামার জন্য রানওয়ে সম্প্রসারণ করা হবে। একসঙ্গে তিনটি উড়োজাহাজ পার্ক করার জন্য বর্ধিত করা হবে অ্যাপ্রনের আয়তন। সেই সঙ্গে নতুন একটি আধুনিক টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হবে। এসব মিলিয়ে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮৪ কোটি টাকা।

সচিব আরও জানান, এছাড়া যাত্রীদের জন্য বোর্ডিং ব্রিজের সুবিধা রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে তাদের। প্রকল্পে এটি যুক্ত হলে সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১০৭ কোটি টাকা।

প্রকল্প নকশা অনুযায়ী ভবিষ্যত বিমানবন্দরের ত্রিমাত্রিক ভিডিওচিত্র দেখুন এখানে

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে যাত্রা শুরু হওয়া বিমানবন্দরটির রানওয়ে দৈর্ঘ্যে ৬ হাজার ৬০০ ফুট থেকে বাড়িয়ে ন্যূনতম ১০ হাজার ফুট করা হবে। প্রস্থ ১০০ ফুট থেকে বেড়ে হবে অন্তত ১৫০ ফুট। ২৬০X২৫০ ফুটের অ্যাপ্রণ বেড়ে হবে ২৭৫X২৫০ ফুট।

প্রকল্প পরিকল্পনায় দেখা যায়, আধুনিক টার্মিনাল ভবনটির নিচতলা হবে ১৭ হাজার বর্গফুট আয়তনের। দ্বিতীয় তলা হবে ১১ হাজার বর্গফুট। টাওয়ার ও অন্যান্য মিলিয়ে টার্মিনাল ভবনটিতে থাকবে ৩১ হাজার বর্গফুট জায়গা।

সুপরিসর টার্মিনাল ভবনে চেকইন কাউন্টারের সংখ্যা এখনকার তুলনায় অনেক বাড়বে। সঙ্গে থাকবে বিস্তৃত কনকার্স হল, ডিপারচার লাউঞ্জ, অ্যারাইভাল লাউঞ্জ, স্ন্যাকস কর্নার ও একটি ভিআইপি লাউঞ্জ।

প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২২ সালের জুন নাগাদ এর আধুনিকায়ন কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

বিমান প্রতিমন্ত্রী জানান, খুব শিগগির প্রকল্পের মূল কাজ শুরু হবে বলে তারা আশা করছেন।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী কার্গো বিমান কেনার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। শিগগির সেই পণ্যবাহী উড়োজাহাজগুলোও দেশে আসবে। রাজশাহী বিমানবন্দর আধুনিকায়ন হলে এখান থেকে কার্গো বিমান পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী।