Loading...
উত্তরকাল > বিস্তারিত > শিল্প ও সাহিত্য > আফসানা জাকিয়ার গল্প: কমলালেবু বোনটি

আফসানা জাকিয়ার গল্প: কমলালেবু বোনটি

পড়তে পারবেন 6 মিনিটে

‘চোরের দাড়িতে খড়ের টুকরো’— দেখুন ইন্সপেক্টর সাহেব দেখুন। আপনাদের ভাবা দরকার এমন কাজ কী সবাই করতে পারে? এমনই করে চাঁন মিয়া হাপাচ্ছে আর বলছে। কিন্তু কেউ কোনো কান দিচ্ছে না। পাগলটা তার ব্যক্তিগত পোশাক ছিঁড়েছিল বটে। আর দৃশ্যের মধ্যে অহরহ পরষ্পরকে পিষে ফেলছিল।

এমনই একটা পাড়ার মরদ মানুষগুলো সারাদিন আর অর্ধেক রাত ধরে বাজার পাহারা দেয়। বিভিন্ন গলা ধরা কথা বলে। কখনো রাজনীতি যা বুঝুক বা না বুঝুক। কখনো একই বৃত্তের হাস্যোলাপ। কখনো আসর মাতানো শারীরিক প্রসঙ্গ। হোক না সে মেয়ে নতুবা নারী। এদেশের মানুষের রক্তের ভেতর শিল্পের সম্ভোগ। গভীর আয়না সম্মুখে এরা শুধু নিজেদেরকেই দেখে পবিত্র সাধু।

সে’বার সে পাড়ায় বেজায় চোরের উপদ্রব বাড়ল। চোরেরা হিসাব নিকাশে বেজায় পাকা জানা যায়। তবে আজকাল অহিংসা ধর্মের ন্যায় পাকা বাড়ি, কাঁচা বাড়ি, ধনী-গরিব, স্বজন-সুজন এমনকি; তল্লাটের সবচেয়ে গরিব ঘরের ফাইলপত্রও চুরি করে। চুমোতে চুমোতে নারকেল গাছের বুড়ো প্রাঙ্গণ মাড়িয়ে পেড়ে আনে কচি কচি ডাব। আহা এ পাড়ার মেয়েরা কচি ডাবের মতোই স্বচ্ছ ও সুন্দর। বরং তারা অন্ধকারে হাহাকার ঝুলিয়ে কখনো কখনো প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। আর মরদগুলোকে সকাল বেলার সূর্য দেখায়ে ঘুম ভাঙায়। কারণ অনুসন্ধানে দেখা যায়— মেয়ে মানুষগুলোই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে জন্ম নেয় অন্যমানুষটির জন্য। যেমনটি ভাবা হয় পানি নিচের দিকে গড়ে…। নদী সাগরের টানে ছোটে…।

দিনকাল যা পড়েছে তাতে পদস্থ চাকরিজীবী আর মোটা ব্যবসায়ী ছাড়া চলা কঠিন ব্যাপার। দিন দিন আবহাওয়া দ্রুত বদল হচ্ছে। হওয়ার সঙ্গত কারণ আছে বটে! ভারত-বাংলাদেশ সরকারের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা স্থবির। তাই গরু আসছে না। চোরাই কিংবা সোজা পথে। প্রশাসন টাইট। ফলে গোস্তের দোকানগুলোতে আগুনের ঝলকানি দেখা যায়। আর সেই সমর্থনে মুরগি, মাছ, ডিম, আলু, পটল, শিমসহ সকল সবজি ফাল পাড়িয়ে লম্বা হয়। ছাগল হওয়ারও উপায় নাই! যে আলু, পটল, শাক-সবজি খেয়ে দিনাতিপাত করা যাবে। তবে কিছু কিছু লোকের গাঁটের ভেতর প্রচুর টাকা থাকে। তাদের দেয়ালের ওজন অনেক কঠিন হয়। আর তাদের শক্ত দেয়ালের মাঝে আটকে থাকে জরিমান বন্ধক আইন। আইনের ফাঁকের চেয়ে ফোকরটাই বড়। ফাঁকটা খুব সরু মানে চিকন হয়। যেটা দিয়ে বের হওয়া খুব কঠিন। আর ফোকরটা গভীর গর্ত আর বিরাটাকার। যেখানে সহজেই পড়তে পারে সহজ লোকজন। আর দিনকালের স্বভাবের কারণেই গ্রামে অভাবী লোকদের অভাব চলতে থাকে পুরো দমে। কমলা ইটের ভাটায়, মানুষের ক্ষেত-খামারে, জমিদার গিন্নির খেশপানায়, বড় বড় বাড়িগুলোর ধানের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বাড়ির কর্তা যদি সাহায্যের হাত বাড়াতো, তাহলে হয়তো এমন অসুবিধা তেমন সমর্থন দিতো না। তাই হাল ধরেছে বেহাল অবস্থার। কয়েক মাস আগে যখন কমলা পেটের তাগিদে পাশ্ববর্তী এনজিওতে কাজের জন্য গেছিল তখন কয়েকদিন কাজ করার পর দেখে তার প্রাণের স্বামী অর্থাৎ মালেকের আরেকটা বউ আছে। সেই থেকে নাকে এক মুঠো মাটি ঘষে মালেককে ফষ্টি-নষ্টি করার সুযোগ দিয়ে কেবল খাবারের ব্যাপারে অন্য ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। সেদিন কমলা শুধু একটা কথায় বলেছিল— ‘লোভনীয় জমি বন্ধক রাইখ্যা যেদিন তোমার হাতে তুইল্যা দিছিলাম, যেদিন প্যাটে পাথর ভিজাইয়্যা রাইখ্যা তোমারে খাওয়াইছিলাম। সেদিন আমি ভালা আছিলাম রে। আজ আবার অন্য মেয়ে মানুষ…।’ কমলার অশিক্ষিত মাতা এসব শুনেও কমলার দোষ দিছিল। বলেছিল— ‘তুই কেমন অসাড় মাইয়্যা। তোর কি যৌবন নাই? ধরে রাখতে পারোস না।’ কমলা সঙ্গত কারণেই সেদিন ছোট ছোট কথাগুলো কানে ধরে রাখেনি।

সেদিন ছিল বৃষ্টির দিন। রাতের অবস্থাও তাই। আকাশ মেঘ, বৃষ্টি একই অবস্থানে। তার সাথে উথাল-পাথাল ধরনের অজস্র আষাঢ়ী কথা। চোর, চোর উৎপাত। কেউ চোররে ধরতে পারে না। আবার সবার মনে ভয়ও কাজ করে। ভাবে চোর জাদু জানে। চোর জাদুকরও বটে! কারণ একবার চোর দেখা গেল গরু নিয়ে পালাচ্ছে। কিন্তু লোকজন আসতে আসতে জঙ্গলে ঢুকে গেল। গ্রামবাসী যখন বলছে— ‘ওখানে কে রে?’ চোর নিজ মুখে বলছে— ‘এখানে কেউ নেই। চোর পালাইছে ভাই। গরুও নাই। অন্যখানে যেতে হবে এখন।’ চোরের কথা শুনে চোরকে ধরা তো দূরের কথা, মনে হলো যেন সহজ-সরল প্রাণোক্তি দিচ্ছে কেউ। আহারে! পরদিন দেখা গেল যে জায়গায় দাঁড়িয়ে লোকটা কথা বলছিল, সে জায়গাতেই গরুর পায়ের চিহ্ন। তো আষাঢ়ী সূর্য কয়েকদিন থেকে অজস্র গরম রশ্মি ছুড়তে ছিল। আর তাই মানুষের শান্তির জন্য একটু বৃষ্টির কামনা উচ্চরোলে বাজতে ছিল। ফলে খোদ দেবতা বৃষ্টি নামালো বুঝি এ তল্লাটে। যা আর ছাড়ে না।

মাস্টার বাড়ির লোকজন খুব নিশাচর। ভোর রাতে ঘুমায় কেউ কেউ। আবার কেউ কেউ চন্দ্র মাঝ আকাশ থেকে পশ্চিমে হেলে পড়লে। মানে ধরা যায়— একটা কিংবা দুইটায়। বাড়িটার অর্ধেক খুব পুরানো, মাটির দেয়াল। মাস্টার মশায়ের শাশুড়ির ঐতিহ্য বহন করে দেয়ালগুলো। তবে মাটি হলেও খুব শক্ত গোছের। মাস্টার মশায়ের কন্যা যুগল বেশি দেরি করে নাই আজ। ধরা যায় ২.৩০ টা তিনটা নাগাদ ঈষৎ আশ্চর্য লালিত ভয় ও ভীতির মিশ্রণে হাবুডুবু খেয়ে বোধহয় ঘুমিয়ে পড়েছিল কুমিরের মতো। এদিকে সামান্য বৃষ্টি। হালকা-সুন্দর আবহাওয়া। যতবার গা বিছানায় ঢলে দেওয়া যায় ততবার সুবিধাজনক ঘুম। চোর সুবিধা বঞ্চিত লোকের ন্যায় নিজেকে ভেবেছিল সেদিন। তাই তো তার দলের লোকজন নিয়ে হাজির হয়েছিল মাস্টার বাড়ির কোনাটায়। লোকজনের বাড়াবাড়ি নেই সে জায়গায়। খুব নিরিবিলি। তাছাড়া মাস্টার বাড়ির বড়বারান্দায় ঐ দিকটায় কেউ যায় না বললেই চলে। একজন চেনা আর তিন-চারজন অচেনা লোক ঢুকেছে এ পাড়ায়। সাক্ষী বৃষ্টি, মাটি আর রাতের নিরবতা।

প্রথম ব্যক্তি। যে কিনা এক নম্বরের ওস্তাদ। সে একটা দিয়াশলাইয়ের কাঠি পুড়ল। বিড়ির পাছায় আগুন ধরিয়ে দিয়ে বললো— ‘শোন তোরা। আশেপাশের কোথাও থেকে খড় আনতো দেখি। মাটিতে পাততে হবে। সিঁধ খোড়ার সময় যাতে শব্দ না হয় মাটি পড়ার।’ দুই সাগরেদ তাই অচেনা অজানা পথে খড় আনতে চলে গেল। হাতে তিন ব্যাটারি। বিদ্যুৎ চমকানোর মতো চমকাচ্ছে মাঝেমাঝে। তবে কেউ কেউ মাঝে মাঝে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বের হলেও ধরার উপায় নেই। ভাববে এই লোকগুলো হয়তো এখানকার বসত বাড়ির লোকজন। এদিক সেদিক লাইট ধরা মানে চোরও চোর ধরার মতো অবস্থায় আর কি। ফিরতি পথ সোজা হয় দুই অনুসারীর। তারা দুই আটি খড় এনে হাতে ধরিয়ে দেয়। পাতা হয় মাটিতে। তার পর চলে খোড়া-খুড়ির কাজ। ওস্তাদ শুরু করে দেয়। অভিজ্ঞ লোক। তার হাতের মাশলগুলো যেন চাইনিজদের মতো। চাইনিজ সামুরাইদের মতো। লোহা স্লিপ করবে এমন। তার মধ্যে সারা গায়ে তেলের বোতল ঢেলে একদম কুচ কুচে আকার দিয়েছে শরীরটাকে। এরকম একরাত্রির মধ্যে হাবুডুবু খাওয়া বিশাল অনিরাপদ জীবনে বাণিজ্য করে চলে এরা। এক দ- স্থগিত নেই। হঠাৎ গেরস্ত ঘরের আঙিনায় দরজা খোলার শব্দ কানে আসে একজনের। বলে— ‘ওস্তাদ কে যেন আসতেছে।’ তাদের কাজের কিছুটা স্থবিরতা নেমে আসে। মালেক শোনে পরিচিত মুখের ভাষা যেন। কমলা আর তার মা। কমলার গলার সুর ‘কে- রে…।’ আয় দেখি কত্ত সাহস। আমার সংসারের সীমানায়। তারপর কোনোদিকে সাড়া না পেয়ে ঔদাসীন্যের ডামাডোলে সচকিত হয়ে ঘরে চলে যায়।

চেনা মানুষটার স্বভাবে চলতে থাকে সমান্তরাল সরলরেখা। মৌলিক শিহরণ। তবু সেটা দুর্বল অনুভূতির নয়। বিরচিত ব্যথায় তার স্বভাবটা একটু একটু দুর্বল হচ্ছিল বারংবার। অবস্থা দেখে ওস্তাদ বার বার বলছিল— ‘ঐ অমন করিস কে? কত্ত কাম আছে হাত লাগা।’ ততক্ষণে খোড়ার কাজ শেষ। ঢুকে দেয় একজনরে। তারপর দুইজন… তারপর তিনজন… আর বাইরে থাকে একজন। ঘরের মধ্যেকার বিপুল আসবাবপত্রের সমাহার দেখে তাদের মাথায় চোখ ওঠে। আর সে চোখ রুপালি ইলিশের মতো চকচক করে। সোনালি আলো ছড়ায়। ভাঙা হয় বাক্সের তালা, শোকেস। এক ঘরের মধ্যে দিয়ে পার হয় অন্য ঘরে। লণ্ডভণ্ড হয় ঘর দুটো। বাক্সের মধ্যে থাকা সোনা, গহনা, শাড়ি, জামা-কাপড় সব তুলে দেওয়া হয় হাতে হাতে। মালেক ২২-২৪টা শাড়ির মধ্যে থেকে হঠাৎ একটা শাড়ি শার্টের মধ্যে লুকিয়ে রাখে। মালেকের শাড়ি লুকানোটা তার সীমার পক্ষে একটু বাড়ন্ততা ছিল। কারণ সে শুধু তথ্যদাতা হয়ে কাজ করে। তবে এখন অনেকটা আধা-পাকা হতে শিখেছে। যতটুকু উচিত তার চেয়ে বেশি বলতে শিখেছে। ভাগের চেয়ে বেশি দাবি করে। বলে ফেলে— আমি সঠিক তথ্য, ঠিকানা না দিলে বাড়ির লোকজনের স্বভাব-চরিত্র দুর্বলতার খবর না দিলে কেমনে কী হতো শুনি! সময়ের আশেপাশে অনেক ঘৃণা জমা হয় এসব করলে। ওস্তাদ আজকের দিনটাতেও ধমক দেয় মালেককে। বলে— ‘সংসারের স্থুলতা নেই, তার আবার কৃতিত্বের যৌবন ঢলে পড়ে।’ মালেক কথাটা ভালোভাবে নিতে পারে না। বলে— ‘এটা আমার বউয়ের প্রতিবেশীর বাড়ি। আমাদের নিকটতম। অনেক ছোটবেলা থাইক্যা কমলারে মানুষ করছে। আমি খুব বিশ্বস্ত কমলার অবিশ্বাসী স্বামী হয়ে এই কাজ করতাছি। আর ওস্তাদ তুমি অহন অমন করলে আর খেলবো না।’ ওস্তাদ হাসতে থাকে। হাসির শব্দটা বাড়ির ছোট ছোট চিপা গলি দিয়ে কমলার কানে আঘাত হানে। মালেক ওস্তাদের মুখ ঘাড়ের গামছা দিয়ে আটকাতে যায়। আর তখনই সকলে মিলে দুর্বল মালেকের সাথে ধস্তাধস্তি করে। এক পর্যায়ে তারা তাকে কোনো সোনা-দানা, টাকা-পয়সা, শাড়ি-কাপড়ের ভাগ না দিয়েই লাথি মেরে চলে যায়। এমতাবস্থায় ধস্তাধস্তির শব্দে কমলার আরো শঙ্কা ফিরে আসে। সে দরজা খুলে বের হয়। হাতে লাঠি আর এক হাতে তিন ব্যাটারি। টর্চ লাইটটা তাকে মালেকই উপহার দিয়েছিলো। চোর ধরার কাজে সহযোগিতার জন্য। কমলা আস্তে আস্তে বেড়াল-পায়ে এগোয়। তারপর কাছে গিয়ে এদিক-সেদিক তাকিয়ে দেখতে পায় কে বা কাহারা একজন লোককে মারছে। আর লোকটা লুটোপুটি খাচ্ছে। তিন-চারজন লোক একজনের সাথে। কমলা চিৎকার-চেচামেচি শুরু করে দেয়। চোর চোর বলে চিৎকার করতে থাকে। তারপর হাতের লাঠি দিয়ে বেদম প্রহার করতে থাকে। পড়ে থাকা লোকটারে। সময়ের ঘরে তখন কেবল একটা ঘণ্টায় বাজে। সারা গ্রাম জ্বালিয়ে মারছিস। গরিব-ধনী সকল ঘরে সিঁধ কাটিস। গোতর খাটিয়ে পয়সা রোজগার করতে পারোস না। বলে আরও চিৎকার শুরু করে দেয়। চোর… চোর… চোর…। কে কোথায় আছো দেখে যাও চোর ধরা পড়েছে। পাড়ার সকলের ঘুম ভেঙে গেছে ততক্ষণে। আর লোকজন আসতে শুরু করেছে। সেই ফাঁকে মালেক আধা মরা শরীরটাকে কোনোরকমে টেনে তুলে ভিড়ের মধ্যে দিয়ে চলে আসে চেনা দরজায়। খড়ের পালার মধ্যে। যা কমলা গতর খাটিয়ে গত রাতে গরুর খাবারের জন্য কামিয়ে এনেছিল গেরোস্থ বাড়িতে কামলা খাটিয়ে।

পাড়ার সকলের ঘুম ভেঙেছে ততক্ষণে। লোকজন এসে দেখে কেউ নাই। শুধু মাস্টার বাড়ির পুরনো ঘরে সিঁধ কাটা। দুই ঘর লণ্ডভণ্ড। বাক্স খুলে সবকিছু নিয়ে গেছে চোর। কিছুই বাদ রাখে নি। সকলেই আধা হওয়া ঘুম নিয়ে আর আফসোস নিয়ে চলে যায় যার যার বাড়িতে। স্রোতের বিপরীতে শুধু থাকে কমলা। তার হাতের লাঠি। তার মনে সংশয়— আচ্ছা এত রাতে এত কাছে থেকে চোরটা গেল কোথায়।

সকালবেলা পাখির ডাক শুনে কমলার ঘুম ভাঙে। কমলা দরজা খুলে তার প্রাণের প্রিয় গরুটাকে খড় কেটে দিতে যায়। হায় আল্লাহ! একি! এ যে মানুষ! মানুষের লাশ। কমলা আবার চিৎকার দেয়— ‘কে কোথায় আছো দেখে যাও। মানুষ খুন হইছে।’ এবার লোকজনের সাথে আসে পুলিশ। পুলিশ যে লাশটা টেনে বের করে তা আর কারও নয়, তার স্বামী মালেকের। পুলিশ টেনে বের করে লাশটা। বের করে বুকে রাখা টুকটুকে লাল শাড়ি। কমলা অশ্রু শব্দটাকে খুব ভালোবেসেছিলো বটে। কিন্তু কান্নাকে সেদিন ছুঁয়ে দেখেনি। পরদিন খবরে আসল গণপিটুনিতে চোরের মৃত্যু!

কিছুদিন পর কমলা টের পায় তার পেটে বড় হচ্ছে আর একটা অভিশাপ। আর সেই দিন থেকেই বাড়তে থাকে তার সমস্যার ক্ষত…।

অলংকরণ : রাজিব রায়

সবশেষ আপডেট

Advertisements
উত্তরকাল

বিশ্বকে জানুন বাংলায়

All original content on these pages is fingerprinted and certified by Digiprove
%d bloggers like this: