।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

বাংলাদেশে আর ষড়যন্ত্রের রাজনীতি সফল হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

বুধবার (১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নতুন বছরের প্রথম দিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন। এসময় নতুন তথ্যসচিব কামরুন নাহার ও প্রধান তথ্য অফিসার সুরথ কুমার সরকার উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানের ‘হঠাৎ করেই সরকারের পতন হবে’ এ মন্তব্যের বিষয়ে মন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকারের পতন হবে- সেলিমা রহমানের এ কথা তো আমরা গত ১১ বছর ধরেই শুনে আসছি। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকেই সরকারের পতন হবে, এ কথা শুনে আসছি। সরকার পরিবর্তনের একটিই পথ, সেটি হচ্ছে নির্বাচন। যখন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তখন সেই নির্বাচনে যদি জনগণ বর্তমান সরকারকে সমর্থন না জানায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আমরা সরকারে থাকবো না। এছাড়া অন্য পথ তো নেই।’

‘অবশ্য তারা (বিএনপি) নানা পথে বিশ্বাস করে, কারণ তারা রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগকে, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’।

হাছান বলেন, সেলিমা রহমানের এ বক্তব্য সেই ষড়যন্ত্রেরই ইঙ্গিত ছাড়া অন্য কিছু নেই। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে অতীতের মতো আর ষড়যন্ত্রের রাজনীতি সফল হবে না এবং সরকারকে বিদায় দেয়ার একটিই পথ- সেটি হচ্ছে নির্বাচন।

বিরোধীদলকে ‘স্পেস’ দেয়া প্রসঙ্গে হাছান বলেন, বাংলাদেশে আমরা বহুদলীয় গণতান্ত্রিক সমাজেই বসবাস করি। এখানে বিরোধীদল সবসময় তাদের মত প্রকাশ, প্রতিবাদ করার আইনগতভাবে, সাংবিধানিকভাবে যে অধিকার, সেই অধিকার সবসময় প্রয়োগ করছে। এখানে কাউকে অধিকার দেয়ার বিষয় নেই। সুতরাং এখানে বিরোধীদল সবসময়ই সংসদে, সংসদের বাইরে তাদের মত প্রকাশ করছে। অধিকার দেয়া না দেয়ার প্রশ্ন অবান্তর।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মেয়র তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগের নতুন মেয়র প্রার্থীকে সমর্থন দেবার বিষয়ে কিছু বলেননি- এ বিষয়ে হাছান বলেন, দক্ষিণের মেয়র যেটি বলেছেন, মন্ত্রীর মর্যাদায় তিনি মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন। মন্ত্রীর মর্যাদা থাকলে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ আছে। সেই বিধিনিষেধের কথাই তিনি স্মরণ করে দিয়েছেন।

তথ্যমন্ত্রী সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আজকে বছরের প্রথম দিনে আপনাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করার জন্যই মূলত: আপনাদের আহ্বান জানিয়েছিলাম। একইসঙ্গে আমাদের মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব যোগদান করেছেন। কামরুন নাহার তথ্য মন্ত্রণালয়ের ইতিহাসে প্রথম একজন মহিলা সচিব। এর আগে তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অধিদপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি তথ্য ক্যাডারের অফিসার। এ মন্ত্রণালয়ের বিষয়াদি নিয়ে তার আগে থেকেই জানাশোনা আছে। যেহেতু তার আগে থেকেই অভিজ্ঞতা আছে সেহেতু মন্ত্রণালয়ের কাজ করতে তা অত্যন্ত সহায়ক হবে।