।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গত এক শতকের মধ্যে সবচেয়ে শীত পড়েছে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সেখানকার জনজীবন। সোমবার তাপমাত্রা নেমে যায় ৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বেড়ে গিয়েছিলো দূষণও। তীব্র শীতে আশ্রয়কেন্দ্রে দ্বারস্থ হয়েছে অনেক মানুষ।

১৯০১ সাল থেকে দিল্লিতে তাপমাত্রা পরিমাপ করা হয়। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত এবারই তাপমাত্রা সর্বোচ্চ কমে গিয়েছে। এর আগে ২০১৩ সালের ২ জানুয়ারি সর্বনিম্ন ৯.৮ সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো।

দিল্লির উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ জুড়ে তাপমাত্রা নিয়মিতিই ১০ সেলসিয়াসের কম রয়েছে। তীব্র এই ঠাণ্ডায় শহরের ২০০টি রাত্রিকালীন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে বহু বাস্তুহারা মানুষ। বিগত কয়েকদিনে সর্বনিম্ন ১ থেকে ৩ সেলসিয়াস তাপমাত্র রেকর্ড করা হয়েছে।

পশ্চিমা দেশগুলোতে বেশিরভাগ বাড়িতেই হিটার রয়েছে। কিন্তু ভারতে সবচেয়ে শীতপড়া অঞ্চলগুলোতে থাকা বাড়িগুলোও এতটা ঠাণ্ডা মোকাবিলায় প্রস্তুত নয়। তাই শীতের সময় রুম হিটারের চাহিদা বেড়ে যায় বহুগুণ।

তবে লাখ লাখ দরিদ্র ভারতীয় এই হিটার কেনার সামথ্য নেই। ফলে মোটা কম্বল কিংবা গরম পানির বোতলের মাধ্যমেই নিজেদের উষ্ণ রাখতে হচ্ছে তাদের। ভারতে খুব ভারী শীতের জ্যাকেটও পাওয়া যায় না। বেশিরভাগ মানুষই শাল বা চাদরের ওপর নির্ভরশীল। 

তীব্র শীতের কারণে সেখানকার ছুটির পরিকল্পনাও বাতিল করেছেন অনেক। কুয়াশায় দৃষ্টিসীমা বিঘ্নিত হওয়ায় বিলম্ব হয়েছে ৪৫০টি ফ্লাইট ও ৩০টি ট্রেনসূচি। কিছু ফ্লাইট বাতিলও করা হয়েছে। এছাড়া বেড়ে গিয়েছে রাজপথের যানজট।

ভারতে শীতকালে সাধারণত বায়ু বেশি দূষিত থাকে। তবে এবার সেটার মাত্রাও বেশি। বায়ু পরিমাপক সূচক অনুসারে তার মাত্রা ৪৫০ এরও বেশি। আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার পর্যন্ত এই শৈত্যপ্রবাহ চললেও ধীরে ধীরে মাত্রা কমে আসবে।

দিল্লি ছাড়াও উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবে শৈত্যপ্রবাহ চলছে। সোমবার সেখানকার বেশিরভাগ সময়ই তাপমাত্র ১০ সেলসিয়াসের নিচে ছিলো।