।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন, ঢাকা ।।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সূচির বাড়তি চাপ সামলাতে পাঁচ দিনের টেস্টকে চার দিনের টেস্টে রূপ দিতে যাচ্ছে আইসিসি। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অধীনেই এমনটি বাধ্যতামূলকভাবে করতে চায় সংস্থাটি। নিয়ম পাল্টাতে আইসিসির ক্রিকেট কমিটিরই ভূমিকা থাকে। তাই তারা আগামী বছরই এই পরিবর্তনটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভেবে দেখতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ক্রিকইনফো।

ক্রিকেট ক্যালেন্ডারের বাড়তি চাপ নিয়ে কথা হচ্ছে দীর্ঘ দিন ধরে। ২০২৩ সাল থেকে প্রতি বছরে একটি বাড়তি বৈশ্বিক ইভেন্ট যোগ হচ্ছে ক্যালেন্ডারে। আছে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগের প্রাচুর্যতা। একই সঙ্গে পাঁচ দিনের টেস্ট আয়োজনে আর্থিক অসঙ্গতির বিষয়টিও ভাবাচ্ছে আইসিসিকে। তার ওপর নতুন করে বিপত্তি দেখা দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) চাহিদা অনুসারে দ্বিপক্ষীয় সিরিজের ক্যালেন্ডার সাজানো। এসব কিছুই এমন পরিবর্তনের নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। এমনটি যদি করেই ফেলে তাহলে ২০২৩ থেকে ২০৩১ সালের চক্রে বিশাল পরিমাণে সময় বেঁচে যাবে আইসিসির।

উদাহরণ হিসেবে ২০১৫ সাল থেকে ২০২৩ সালের চক্রে এমনটি করা হলে আইসিসির সময় বাঁচতো ৩৩৫ দিন। এমনটি করা গেলে তখন বৃহস্পতিবার থেকে রোববার ভাবনায় রেখে টেস্ট ম্যাচ সূচিতে রাখা সম্ভব। যেমন সূচি দেখা যায় গলফ টুর্নামেন্টের মেজর ট্যুর গুলোতে। এই সময় বাঁচিয়ে সিরিজে আরও বেশি করে টেস্ট যোগ করে দেয়াও সম্ভব হবে তখন। তাহলে স্বাগতিক বোর্ডের রাজস্ব প্রাপ্তির বিষয়টিও নিশ্চিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আবার সাম্প্রতিক টেস্ট সিরিজের ফলও এমন ভাবতে বাধ্য করছে শীর্ষবোর্ডগুলোকে। ২০১৮ সালে ৬০ভাগ ম্যাচই শেষ হয়েছে চার দিন বা তার চেয়েও কম সময়ে। তাই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী এই ফরম্যাট নিয়ে ভেবে দেখতে বললেন নতুন করে, ‘আমাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভেবে দেখা উচিত। এটা এমনই একটি বিষয় যা আবেগ দিয়ে নয় যুক্তি দিয়ে বুঝতে হবে। আমাদের দেখতে হবে গত ৫ থেকে ১০ বছরে টেস্টগুলো গড়ে কত দিনের মধ্যে শেষ হয়েছে।’

অবশ্য এমন আকস্মিক পরিবর্তনে সম্মত নন ক্রিকেটের অনেকেই। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক টিম পেইন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মেলবোর্নে ২৪৭ রানে টেস্ট জয়ের পর পার্থক্য দেখাতে চাইলেন এ ধারণার, ‘অ্যাশেজে যদি এমনটি করা হতো আমরা মনে হয় ফল দেখতে পেতাম না। আমার মনে হয় প্রতিটি খেলাই পঞ্চম দিনে গেছে। টেস্ট ক্রিকেটের সঙ্গে পার্থক্য এটাই- এটা পাঁচ দিনের। এটা মানসিকতা, শারীরিকভাবে কঠিন করে তোলে খেলোয়াড়কে। চার দিনের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট যা করে তার চেয়ে বরং এটা খেলোয়াড়দের পরীক্ষা নেয় বেশি। আমার মনে হয় এটা এভাবেই থাকা উচিত।’  

অনেকের আপত্তি থাকলেও এরই মধ্যে চার দিনের টেস্ট আলোর মুখ দেখেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা-জিম্বাবুয়ে ও ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড বছরের শুরুতে চার দিনের টেস্ট খেলে ফেলেছে। পরের গ্রীষ্মকালীন সূচিতে অস্ট্রেলিয়ারও চার দিনের টেস্ট খেলার কথা আফগানিস্তানের সঙ্গে।