।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। উদযাপনকে ঘিরে কোনও হুমকি না থাকলেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে এবারও গৃহবন্দি করে রাখা হচ্ছে থার্টিফার্স্ট নাইটের উদযাপনকে। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, উন্মুক্ত স্থানে কোনও ধরনের আয়োজন করা যাবে না। তবে চার দেয়ালের ভেতরে অনুমতি নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে। প্রয়োজনে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

থার্টিফার্স্ট নাইটকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে পুলিশ সদর দফতর থেকে গত ২৬ ডিসেম্বর সকল ইউনিটে এক বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা, রেঞ্জ ও জেলা পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়িয়ে তল্লাশি বাড়ানোসহ বিশেষ বিশেষ এলাকায় প্রবেশাধিকার সীমিত করা হবে। সারাদেশের মদের বার বন্ধ থাকবে। আতশবাজি- পটকা বিক্রি ও ফোটানো নিষিদ্ধ থাকবে।

ঢাকা রেঞ্জের পুলিশ ডিআইজি হাবিবুর রহমান বলেন, থার্টিফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক রয়েছি। চেকপোস্ট বৃদ্ধি করাসহ আমাদের নজরদারি বাড়ানো হবে। বিশেষ বিশেষ জায়গায় আমাদের পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

পুলিশ সদর দফতর থেকে পাঠানো নির্দেশনা মোতাবেক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আইন শৃঙ্খলা ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে,  থার্টিফার্স্ট উদযাপনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা হুমকি পর্যালোচনা করে নাশকতারোধে আগাম ব্যবস্থা নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সব অনুষ্ঠানস্থলে সিসিটিভি স্থাপন, আর্চওয়ে ও সোয়াইপ এর ব্যবস্থা থাকবে। অনুষ্ঠানের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে এবং পর্যাপ্ত চেকপোস্ট স্থাপন করা হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গুলশান, তেজগাঁও, হাতিরঝিল, ধানমন্ডি, বারিধারা, বাড্ডা, মিরপুর, টিএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি এরইমধ্যে বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ টহল জোরদারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, টিএসসি, গুলশান, হাতিরঝিল এলাকায় সাধারণ জনগণের প্রবেশ সীমিত করা হবে। তবে যথাযথ তল্লাশির মাধ্যমে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে। যেকোনও অবস্থায় পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ক্রাইম সিন ভ্যান এবং সোয়াটের টিম প্রস্তুত থাকবে।

দেশের কোথাও থার্টিফার্স্ট নাইট উপলক্ষে খোলা জায়গায়, রাস্তা ও ফ্লাইওভারে কনসার্ট বা নাচগানের আয়োজন করা যাবে না বলেও নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। এসব আয়োজন থেকে বিরত রাখতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ইউনিটকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও থার্টিফার্স্ট নাইটে দেশের কোথাও কোনও আতশবাজি ও পটকা ফোটানোর ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে আতশবাজি ও পটকা বিক্রি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে লালবাগ ও আশেপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর ব্যাপারে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপি লালবাগ বিভাগের উপ কমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, লালবাগ এলাকায় আশবাজি ও পটাকো ফোটানো বন্ধ করতে ইতোমধ্যে মাইকিং করা হয়েছে। বিক্রি ও বহন বন্ধ করতে প্রত্যেকটিথানার অফিসারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কারও কাছে পাওয়া গেছে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৩০ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি সকাল ১০টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষদের কোনও বৈধ অস্ত্র বহন  ও প্রদর্শন করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এদিকে ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশের মদের বার ও দোকানগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরও এ ব্যাপারে নজরদারি অব্যাহত রাখবে বলে জানা গেছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা মেট্রোর উপ পরিচালক মুকুল জ্যোতি চাকমা বলেন, থার্টিফার্স্ট উপলক্ষে আমাদের কঠোর নজরদারি থাকবে। মহানগরীতে কোনও বার যাতে খোলা না থাকে সে ব্যাপারে বারগুলোর সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পাঁচ তারকা হোটেলগুলো খোলা থাকবে। যাতে বিদেশিদের প্রয়োজন মেটাতে অসুবিধা না হয়।

কোনও বারে মদ বিক্রি হচ্ছে কিনা তা তদারকি করার জন্য ঢাকা মহানগরীতে চারটি টিম গঠন করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। এই টিমের সদস্যরা নিজেদের পরিচয় গোপন করে বার ও বিভিন্ন ক্লাবগুলোতে মদ বিক্রি হচ্ছে কিনা তা তদারকি করবে বলে জানান মুকুল জ্যোতি চাকমা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটরিং করবে পুলিশ। যাতে থার্টিফার্স্টকে কেন্দ্র করে কেউ কোনও ধরনের অপপ্রচার বা গুজব ছড়াতে না পারে। একইসঙ্গে ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে সেজন্য সতর্ক দৃষ্টি রাখবে পুলিশের সাইবার ইউনিট।

পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার, কুয়াকাটা, সুন্দরবন এলাকায় আসা অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও যথাযথ তল্লাশির মাধ্যমে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করতে বলা হয়েছে।