।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য ৩০ হাজার ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রস্তুত রাখছে নির্বাচন কমিশন। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, প্রথমবারের মত ‍পুরো ঢাকা মহানগরে একসঙ্গে ইভিএমে ভোট করতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত।

দুই সিটিতে ২ হাজার চারশর বেশি কেন্দ্র রয়েছে। আর ১৪ হাজার ৬ শর মতো ভোটকক্ষ থাকছে। তাই সব মিলিয়ে আমরা রিজার্ভসহ ৩০ হাজার ইভিএম রাখার পরিকল্পনা করেছি, যাতে করে কোথাও ফেইল না করে। প্রতি কেন্দ্রে ব্যাকআপ হিসাবে একটি করে ইভিএম রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

দুই সিটিতে ইভিএমে ভোটের জন্য ১৯টি পয়েন্ট থেকে প্রশিক্ষণ, ডেমোনেস্ট্রেশন, মক ভোটিং ও ভোটকেন্দ্রে বিতরণের জন্য ইভিএম রাখা হবে। এর মধ্যে উত্তরের ইভিএম থাকবে ৮টি পয়েন্টে, আর দক্ষিণে ১১টি পয়েন্টে। ঢাকার দুই সিটিতে ৩০ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট হবে। এবারই প্রথম রাজধানীর অর্ধ কোটি ভোটারের সবাই মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনে ইভিএমে ভোট দেবেন। এর আগে ১৪ জানুয়ারির মধ্যে ইভিএমগুলো দুই সিটির নির্ধারিত পয়েন্টে পৌঁছে দেওয়া হবে।

বরাবরই ইভিএম নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসা বিএনপি নেতাদের সন্দেহ, যন্ত্রে ভোটগ্রহণ হলে ‘ম্যানিপুলেট’ করার এবং ফলাফল ‘নিয়ন্ত্রণ’ করার সুযোগ থেকে যাবে। তবে নির্বাচন কমিশন বরাবরই বলে এসেছে, ইভিএমে বরং কারচুপির সুযোগ কমবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা গত ২৫ ডিসেম্বর এক অনুষ্ঠানে বলেন, এর আগে বিভিন্ন নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবহার করে ‘সুফল’ পাওয়ার কারণেই নির্বাচন কমিশন ইভিএম ধরে রেখেছে।

ইভিএম পরিচালনার জন্য এবার প্রতি কেন্দ্রে দুইজন করে সেনা সদস্য রাখারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। তবে তারা শুধু ‘টেকনিক্যাল সাপোর্ট’ দেবেন।

এবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে সাধারণ ওয়ার্ড সংখ্যা ৫৪টি, সংরক্ষিত ওয়ার্ড সংখ্যা ১৮টি। মোট ভোটার ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৬২১ জন। আর সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র ১ হাজার ৩৪৯টি, ভোটকক্ষ ৭ হাজার ৫১৬টি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৫টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ২৫টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে। ১ হাজার ১২৪টি ভোটকেন্দ্রের ৫ হাজার ৯৯৮টি ভোটকক্ষে  এবার ভোটগ্রহণ হবে। মোট ২৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৮ জন ভোটার এ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।