।। রয়টার্স/এনডিটিভি, মুম্বাই ।।

নতুন নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ভারতজুড়ে এমন প্রতিক্রিয়া হবে, তা সরকার ভাবতে পারেনি বলে জানিয়েছেন দেশটির শাসক দলের নেতারা। রয়টার্সকে তারা জানিয়েছেন, এখন সরকার ক্ষতি মেরামতের চেষ্টা করছে।

আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অ-মুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেয়ার বিধান রেখে নাগরিকত্ব আইনটি অনুমোদনের পর থেকে ভারতজুড়ে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে নামেন। এ অবধি অন্তত ২১ জন মানুষও মারা যান। ২০১৪ সালে শাসনভার নেয়ার পর থেকে এটাই মোদীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রয়টার্সকে তারা বলছেন যে, তারা কিছু মুসলিমদের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু দুসপ্তা ধরে যে এভাবে দেশটির বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভ চলতে থাকবে, তা ছিলো তাদের ধারণারও বাইরে।

সূত্র বলছে, যেহেতু মাসের গোড়ার দিকে এই আইনটি অনুমোদন হয়ে গেছে, সে কারণে দল ও সরকার তার মিত্র ও বিরোধীদের কাছ থেকে এই সংকট মোকাবেলার জন্য সহায়তা চাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়েছে।

বিজেপি নেতা ও সরকারের প্রতিমন্ত্রী সঞ্জীব বল্যান বলেন, “আমি সত্যিই এ ধরনের প্রতিবাদ হবে ভাবি নি। সত্যিকার অর্থে শুধু আমি না বিজেপির কোনো আইনেপ্রণেতাই এমন জনরোষ হবে বুঝতেই পারেন নি।”

বিজেপির তিন আইনপ্রণেতা ও দুই প্রতিমন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, তারা দলের সমর্থকদের কমিউনিটি সংলাপ ও আইনটির ব্যাখ্যা নিয়ে মানুষের কাছে যাবার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছেন।

আইনটি প্রণয়নের আগে মিত্র ও বিরোধীদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা না করার দিকে ইঙ্গিত করে একজন প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আইনটির পেছনে রাজনৈতিক সমীকরণ আমলে নেয়া হয় নি বলে আমার মনে হচ্ছে।”