।। শোবিজ প্রতিবেদন ।।

১৯৬৪ সালের এই দিনে (২৫ ডিসেম্বর) পৃথিবীর আলোয় চোখ মেলেন সংগীত ও সাংবাদিকতার আলোকিত প্রাণ সঞ্জীব চৌধুরী। অন্যদিকে চলতি মাসের ১৫ তারিখে বিস্ময় ছড়িয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান সংগীতের অন্যতম তরুণ প্রতিভা পৃথ্বীরাজ।   

মূলত দুটি বিষয়কে এবার এক সুতোয় গেঁথে নিয়েছে সঞ্জীব উৎসব উদযাপন পর্ষদ। এর অন্যতম সদস্য সংগীতশিল্পী জয় শাহরিয়ার জানান, অষ্টমবারের মতো আয়োজিত এবারের ‘সঞ্জীব উৎসব’ উৎসর্গ করা হলো পৃথ্বীরাজকে।

সঞ্জীব চৌধুরীর ৫৬তম জন্মদিন উপলক্ষে এদিন (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় মোমবাতি প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। টিএসসি’র সুইমিংপুল-সাইডে অনুষ্ঠিত এ উৎসব চলে রাত ৯টা পর্যন্ত।

উৎসবে অংশ নিলেন সঞ্জীব অনুরাগী কিছু ব্যান্ড ও সংগীতশিল্পী। এরমধ্যে রয়েছেন এলিটা করিম, জয় শাহরিয়ার, গানকবি, শহরতলি, অর্জন, ইনট্রয়েট, রিয়াদ হাসান, শেখ সালেকিন, রেহান রসুল, অনুরণ, সুহৃদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কালচারাল সোসাইটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যান্ড সোসাইটির সদস্যরাসহ অনেকে।

উৎসবের অন্যতম আয়োজক জয় শাহরিয়ার বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে একজন গীতিকার হিসেবে আমি নিজেকে সঞ্জীব স্কুলের ছাত্র মনে করি। আমি দাদার ভক্ত। আমি সৌভাগ্যবান, দাদাকে সরাসরি পেয়েছি। সঞ্জীব উৎসব দাদাকে ভালোবেসেই করা। অন্যদিকে এ মাসেই আমরা হারিয়েছি প্রিয় পৃথ্বীকে। তাকেও স্মরণ করছি এই উৎসবের মাধ্যমে।’

আরও বলেন, ‘এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য যারা সঞ্জীবদাকে কাছে পায়নি, তাদের কাছে তার গান ও গানের দর্শন পৌঁছে দেওয়া। আর তাদের গানের মাঝে দাদার আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখা।’

এ আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যান্ড সোসাইটি এবং আজব কারখানা।

উল্লেখ্য, আমি তোমাকেই বলে দেবো, সাদা ময়লা, সমুদ্র সন্তান, জোছনা বিহার, তোমার ভাঁজ খোলো আনন্দ দেখাও, আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিল চাঁদ, স্বপ্নবাজি প্রভৃতি কালজয়ী গানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সঞ্জীব চৌধুরীর নাম। গাড়ি চলে না, বায়োস্কোপ, কোন মিস্তরি নাও বানাইছে—গানগুলো গেয়ে বাংলা লোকগানকে তিনি নাগরিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছেন।

সঞ্জীব চৌধুরী ছিলেন ব্যান্ড ‘দলছুট’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ব্যান্ডটির চারটি অ্যালবামে কাজ করার পাশাপাশি অনেক গান রচনা ও সুর দিয়েছেন তিনি। জড়িত ছিলেন সাংবাদিকতায়।

১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার মাকালকান্দি গ্রামে জন্ম নেন এই শিল্পী। ২০০৭ সালের ১৯ নভেম্বর বাইলেটারেল সেরিব্রাল স্কিমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।