।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

প্রায় দেড় দশক, মানে টানা পনেরো বছর পর রাজশাহীতে ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবৈধ দখলে থাকা সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী বিমানবন্দর সড়ক চারলেন প্রকল্পের কাজের অংশ হিসেবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে ভেঙে ফেলা হয় দখল করা জমিতে গড়ে তোলা হাসপাতালটির প্রধান ফটক।

রাজশাহী সওজ সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী-নওগাঁ সড়কটি প্রশস্ত করার জন্য ১৯৬২ সালের ২৬ ডিসেম্বর সরকারি নির্দেশে নওদাপাড়া বর্তমান বিএডিসি গেটের বিপরীত এলাকায় ১ দশমিক ৮৭ একরের ১৭ টি প্লট সরকারি নিয়মে অধিগ্রহণ করে সওজ।

১৯৬১-৬২ সালের মূল ভূমি হুকুম দখলের ফাইল অনুযায়ী অধিগ্রহনকৃত প্লটগুলোর মধ্যে ২০৬৩ ও ২০৬৪ নম্বর প্লট দু’টি পাশপাশি অবস্থিত। এই দু’টি প্লটের পরিমাণ দশমিক ৫৯ একর। অধিগ্রহণের আগে ২০৬৩ প্লট নম্বরের জমিটির প্রকৃত মালিক ছিলেন জীবনকৃষ্ণ মণ্ডলের পুত্র কালিপদ মণ্ডল এবং ২০৬৪ প্লট নম্বরের জমিটির মালিক ছিলেন পূর্ণ চন্দ্র মণ্ডলের পুত্র অধীর কুমার মণ্ডল।

দীর্ঘদিন ধরে সড়ক ও জনপথের এই জমিগুলো বহাল তবিয়তেই ছিলো। বিপত্তি বাধে ২০০৪ সালে। ২০০৩-২০০৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে যাত্রা শুরু করা রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মূল ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষ নওদাপাড়া বিএডিসি গেটের সামনে সওজ’র জমির পাশে ৬ একর জমি কেনে। ২০০৩ সাল থেকেই তারা নিজেদের জমি ঘিরে নিতে শুরু করে। পরের বছর এসে তারা সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধিগ্রহণকৃত ২০৬৩ ও ২০৬৪ নম্বর প্লট দু’টিও ঘিরে নেয়। এরপর তারা শুরু করে ভবনের নির্মাণ কাজ। স্থানীয় এলাকাবাসী সেই সময় কয়েকবার বাধা দিলেও তাদের বাধা না মেনেই চলে ওই দখল প্রক্রিয়া।

২০০৫ সালে ঢাকার একটি সংবাদপত্রে এ নিয়ে সিরিজ প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য বলেন। বিষয়টির সত্যতা মেলায় সওজ কর্তৃপক্ষ ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ওই দুটি প্লট দখল না করতে কয়েক দফা মৌখিক নির্দেশ দেয়। কিন্তু তা না মেনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দু’টি সরকারি প্লটেই মাটি ভরাট করে দখলে নেয়।

এরপর থেকে দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর এ ব্যাপারে আর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এর মাঝে ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দখল করা জমিতে বাউন্ডারি ওয়াল, গার্ডরুম ও প্রধান ফটক নির্মাণ করে। সম্প্রতি রাজশাহীর শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বর থেকে নওহাটা সেতু পর্যন্ত বিমানবন্দর সড়কটি চারলেনে উন্নীত করার প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়। এরপরই এই সড়কের দুপাশে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের নোটিশ দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার সেই নোটিশের আলোকে উচ্ছেদ কর্মকাণ্ডে উদ্ধার হয় ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের দখলকৃত জমিও।

সওজ সূত্রে জানা যায়, এই অভিযান ২৮ ডিসেম্বর অবধি চলবে। প্রথমদিন নওদাপাড়া আমচত্বর থেকে অভিযান শুরু হয়েছে। সড়ক ও জনপথের এস্টেট ও আইন কর্মকর্তা যুগ্ম-সচিব মাহবুবুর রহমান ফারুক উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেন।