Loading...
উত্তরকাল > বিস্তারিত > খেলা > ক্লাব বিশ্বকাপ শিরোপা লিভারপুলের

ক্লাব বিশ্বকাপ শিরোপা লিভারপুলের

পড়তে পারবেন 2 মিনিটে

 ।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

ইউরোপের পর বিশ্ব জয়ের আনন্দে মাতলো লিভারপুল। উত্তেজনায় ঠাসা ফাইনালে ফ্লামেঙ্গোকে হারিয়ে ক্লাব বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হলো তারা। আজ শনিবার দোহায় কোপা লিবার্তাদোরেস চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা দিয়ে প্রথমবার বিশ্ব শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি আদায় করলো ইয়ুর্গেন ক্লপের দল। নির্ধারিত সময় গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচ তারা জিতেছে ১-০ গোলে।

১৯৮১ সালে আন্তমহাদেশীয় কাপ ফাইনালে জিকো-তিতার শক্তিশালী ফ্লামেঙ্গোর কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল লিভারপুল। ৩৮ বছর পর লিভারপুলের সামনে দাঁড়ানো ফ্লামেঙ্গো যে কম শক্তিশালী ছিল তা নয়। জর্জ জেসুসের অধীনে লিগ ও কোপা লিবার্তাদোরেস জেতা দলে ছিলেন ইউরোপে খেলা ডিয়েগো আলভেস, ফিলিপ লুইস ও রাফিনিয়ার মতো খেলোয়াড়। তাদের নিয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বেশ ভালোভাবেই সামাল দিয়েছে ক্লাবটি। কিন্তু পারেনি আরেকটি শিরোপা যোগ করতে।

বরং প্রায় চার দশক আগের ওই হারের প্রতিশোধ তুলে উয়েফা সুপার কাপের পর মৌসুমের দ্বিতীয় ট্রফি জিতলো লিভারপুল। ২০০৫ সালে প্রথমবার ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠে আরেক ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সাও পাওলোর কাছে হেরেছিল তারা। এবার কঠিন চাপের মুখেও সফল হলো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব।

প্রথম ৬ মিনিটে তিনটি ভালো সুযোগ পেয়ে কাজে লাগাতে পারেনি লিভারপুল। প্রথম মিনিটে জর্ডান হেন্ডারসনের পাসে ঠাণ্ডা মাথায় জালে বল জড়াতে চেয়েছিলেন ফিরমিনো। এগিয়ে আসা গোলকিপার ডিয়েগো আলভেসের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করেন তিনি। কিন্তু শটটি গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

পরে ন্যাবি কেইটা ও ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের শটও হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট। ঠিক এরপরই লাতিন আমেরিকান চ্যাম্পিয়নদের কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়ে অলরেডরা। এমনকি বলের দখল পেতেও কষ্ট করতে হয়েছে তাদের। তাতে স্কোর গোলশূন্য থাকলেও লিভারপুলের চেয়ে আত্মবিশ্বাসী থেকে বিরতিতে যায় ফ্লামেঙ্গো।

দ্বিতীয়ার্ধটা ছিল দুদলের। কিন্তু দুর্ভাগ্য লিভারপুলের। নির্ধারিত সময়ে জিততে পারতো তারা। ইনজুরি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে সাদিও মানে ফাউলের শিকার হলে সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টি দেন রেফারি। হলুদ কার্ড দেখান রাফিনিয়াকেও।

ফিরমিনোর একমাত্র গোলে জিতেছে লিভারপুলতবে ফাউল বক্সের বাইরে না ভেতরে হয়েছে, তা ভিএআর মনিটরে ৩ মিনিট ধরে যাচাইয়ের পর পেনাল্টি প্রত্যাহার করেন রেফারি। এমনকি ট্যাকলেও কোনও সমস্যা দেখেননি, তাতে ফ্রি কিকও পায়নি লিভারপুল। উত্তেজনার মুহূর্ত শেষে ফাইনাল গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

এর আগে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একাধিক সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি ইংলিশ জায়ান্টরা। ফিরমিনোর শট দূরের পোস্টে আঘাত করে। আরেকবার আলভেস হতে দেননি গোল। আলেক্সান্ডার আর্নল্ড খুঁজে পান সালাহকে। তার জোরালো শট ক্রসবারের ওপরে উঠিয়ে দেন ফ্লামেঙ্গো গোলকিপার। আলেক্সান্ডার আর্নল্ডের ভুল পাসে ফ্লামেঙ্গোও দারুণ সুযোগ পায় ৫৪ মিনিটে। বারবোসার নিচু শট ঠেকিয়ে ওই যাত্রায় লিভারপুলকে বাঁচান আলিসন। নির্ধারিত সময়ে জাল খুঁজে পেয়েছিল লিভারপুল। মানের পাস থেকে সালাহর শট লক্ষ্যভেদ হলেও উদযাপনের আগেই অফসাইডের বাঁশি বাজে।

লিভারপুলের ‘পেনাল্টি নাটকের’খানিক আগে সালাহর বাড়িয়ে দেওয়া বলে হেন্ডারসনের শট রুখে দেন আলভেস। দারুণ কয়েকটি সেভে তিনি ব্রাজিলিয়ান ক্লাবের প্রতিরোধ ধরে রাখলেও ৯৯ মিনিটে গোলমুখ খোলে লিভারপুল। হেন্ডারসনের বাড়িয়ে দেওয়া বলে লক্ষ্যে শট নিতে গিয়েও নেননি মানে। তিনি পাস দেন ফিরমিনোর একটু সামনে। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ঠাণ্ডা মাথায় রোদ্রিগো কাইয়োকে ফাঁকি দিয়ে খালি জালে বল জড়ান। কিছুক্ষণ পর সালাহর বাঁকানো শট রুখে দিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি আলভেস।

অবশ্য শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরানোর একেবারে কাছে ছিল ফ্লামেঙ্গো। বদলি ফরোয়ার্ড ভিতিনিয়োর শট ব্লক করেন ভার্জিল ফন ডাইক। ডাচ ডিফেন্ডার প্রতিহত করলেও দ্বিতীয়বার বল পায়ে পান ভিতিনিয়ো। তার পাসে বল নিয়ে গোলবারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন লিঙ্কন। তাতে ম্যাচ আর টাইব্রেকারে নিয়ে যেতে পারেনি ব্রাজিলিয়ান ক্লাব। একমাত্র গোলে বিশ্ব জয়ের উচ্ছ্বাসে মাতে লিভারপুল।

সবশেষ আপডেট

উত্তরকাল

বিশ্বকে জানুন বাংলায়

All original content on these pages is fingerprinted and certified by Digiprove
%d bloggers like this: