।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

ঢাকা-রাজশাহী রেলসূচিতে পরিবর্তন হবে বলে এই রুটে আগাম টিকেট বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া, এই রুটে চলাচলকারী একমাত্র বিরতিহীন ট্রেন বনলতা এক্সপ্রেসের অত্যাধুনিক ও বিলাসবহুল কোচের সঙ্গে ঢাকা-চিলাহাটি রুটের নীলসাগর এক্সপ্রেসের পুরনো কোচের অদলবদলও আগাম টিকেট বিক্রি বন্ধের একটা কারণ বলে কর্তৃপক্ষ বলছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বনলতা এক্সপ্রেসের ইন্দোনেশিয়ার তৈরি বিলাসবহুল কোচ ঢাকা-চিলাহাটি রুটে চলাচলকারী নীলসাগর এক্সপ্রেসে এবং নীলসাগর এক্সপ্রেসের ভারতীয় পুরনো কোচ বনলতার সংযোজন করা হয়েছে।

গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে বনলতাসহ ঢাকাগামী সব ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।

রাজশাহীর স্টেশন ম্যানেজার আবদুল করিম জানান, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ট্রেন চলাচলের টাইম শিডিউলে পরিবর্তন আসছে। এছাড়াও কোচ অদল-বদলের কারণে আসন বিন্যাস সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিয়েছে। ফলে নতুন করে আসন বিন্যাস করা হচ্ছে। এ কারণে ১৮ ডিসেম্বর থেকে আগাম টিকেট বিক্রি করা হচ্ছে না।

“চূড়ান্ত আসন বিন্যাস হাতে পেলে আবারও রাজশাহী-ঢাকা রুটের আগাম টিকিট বিক্রি করা হবে।”

গত ১৭ ডিসেম্বর থেকে বনলতা এক্সপ্রেস ও নীলসাগর এক্সপ্রেসের কোচের অদল-বদলে ক্ষুব্ধ রাজশাহীর মানুষ। এ ঘটনাকে এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা বলছেন বিশিষ্টজনরা।

রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, “ইন্দোনেশিয়ান কোচগুলো সরিয়ে নেয়ায় গতি হারাবে বনলতা। ফলে নির্ধারিত সময়ে ট্রেনটি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে না। এতে ভোগান্তি হবে যাত্রীদের।”

গত ২৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেছিলেন বনলতা এক্সপ্রেস। ৭৯১ আপ ও ৭৯২ ডাউন এই বনলতা এক্সপ্রেস রাজশাহী-ঢাকা রুটে বিরতিহীন চলাচল করছে। আন্তঃনগর এ ট্রেনটি একটি র‌্যাকে চলাচল করে।

একটি ট্রেনের সব বগি মিলে একটি র‌্যাক হয়।

বনলতা ট্রেনটি শুক্রবার বাদে প্রতিদিন ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছেড়ে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছায়। এরপর বেলা ১টা ৩০ মিনিটে ঢাকা ছেড়ে সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছে। ৩৪৫ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রমে ট্রেনটির সময় লাগে ৪ ঘণ্টা ৪০ মিনিট।

রাজশাহীর স্টেশন ম্যানেজার আবদুল করিম বলেন, একটি র‌্যাকের মাধ্যমে বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুইদিক থেকে চলাচল করে। এতে কোনো কারণে একদিকে ট্রেনটির বিলম্ব হলে পরদিন সিডিউল ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া মাত্র দুটি র‌্যাকের সাহায্যে রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহীর মধ্যে চলাচল করে ‘আন্তঃনগর সিল্কসিটি’, ‘পদ্মা এক্সপ্রেস’ ও ‘ধূমকেতু এক্সপ্রেস’ নামের তিনটি ট্রেন।

তিনি বলেন, যে ট্রেনটি সিল্কসিটি হয়ে ঢাকা যায় সেটি ফেরার সময় ধূমকেতু হয়ে রাজশাহী ফেরে। বনলতার জন্য বিপরীতমুখী দুটি পৃথক র‌্যাক (ট্রেনের সব কোচ মিলে একটি র‌্যাক) না থাকায় বিরতিহীন ট্রেনটির সিডিউল ঠিক রাখা যাচ্ছিল না। ফলে ভারত থেকে আমদানি করা কোচ দিয়ে একটি অতিরিক্ত র‌্যাক সংযোজন করা হয়েছে।

আবদুল করিম জানান, নতুন র‌্যাকটি অপেক্ষমাণ থাকবে রাজশাহী স্টেশনে। ফলে রাজশাহীতে আন্তঃনগর মোট চারটি ট্রেনের জন্য চারটি র‌্যাক থাকছে। এতে কোনো একটি ট্রেনে রাজশাহীতে ফিরতে বিলম্ব করলে অপেক্ষমাণ র‌্যাকটি দিয়ে ফিরতি ট্রেনটি ঠিক সময়ে ছাড়তে পারবে। এজন্যই বনলতায় ভারতীয় কোচ সংযোজন করা হয়।

বনলতার ইন্দোনেশিয়ার তৈরি নতুন বিলাসবহুল কোচ সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আসাদুল হক বিষয়টি এড়িয়ে যান।

তিনি বলেন, “বনলতার সময়সূচি স্বাভাবিক রাখতেই এ পদক্ষেপ। এতে রেল সেবার মানে কোনো হেরফের হবে না।”

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, নীলসাগর ট্রেনে থাকা ভারতীয় কোচগুলো কয়েক বছরের পুরনো। ভারতীয় কোচে ১০৫টি করে আসন আছে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার কোচগুলোতে রয়েছে ৯৫টি করে আসন। বনলতায় ভারতীয় কোচ সংযোজনের ফলে আসন সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও কোচগুলো পুরনো হওয়ায় সেগুলো ইন্দোনেশিয়ার কোচের মতো আরামদায়ক নয়।