।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

ভারতজুড়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে এবার রক্তাক্ত হল অশান্ত হয়ে ওঠা কর্ণাটক ও উত্তর প্রদেশে।

বৃহস্পতিবার কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালুরু শহরে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ চলার সময় পুলিশের গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সেখানে দুইজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উত্তর প্রদেশের লখনউয়েও গুলিতে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুই শহরেই আহত হয়েছে আরো বহু বিক্ষোভকারী ও পুলিশ কর্মী।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে ম্যাঙ্গালুরুতে চার পুলিশ সদস্যকে গুলি চালাতে দেখা গেছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের একটি দলকে লক্ষ করে গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার হাসপাতালের কর্মকর্তারা আহত দুইজনের মৃত্যুর খবর জানান।

স্থানীয় একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, এদিন বিকেল থেকেই শহরটিতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিক্ষোভে নামা বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে পুলিশের তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ মিছিল আটকালে প্রতিবাদকারীরা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে থাকে প্রতিবাদীরা। পাল্টা লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

ম্যাঙ্গালুরুর ডিসি অফিসের বাইরে বিক্ষোভে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে থাকে বিক্ষোভকারীরা। প্রতিবাদ হিংসাত্মক আকার নিলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। সংঘর্ষে আহত হয় ৬ জন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ওদিকে উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনউয়ে বৃহস্পতিবার একজনের মৃত্যুর খবর সম্পর্কে বিক্ষোভকারীরা বলেছে, বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের গুলিতে জখম হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন পুলিশের গুলিতে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর কথা অস্বীকার করেছে।

অশান্তির আশঙ্কায় বুধবার রাত থেকেই গোটা উত্তরপ্রদেশে ১৪৪ ধারা জারি করেছিল প্রশাসন। চারজনের বেশি লোকের জমায়েতের উপর জারি করা হয়েছিল নিষেধাজ্ঞা। একই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল ব্যাঙ্গালুরুসহ কর্ণাটকের বিভিন্ন স্থানেও। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে ২১ ডিসেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত ব্যাঙ্গালুরুতে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে বলে জানিয়েছিলেন পুলিশ কমিশনার ভাস্কর রাও।

তাছাড়া ম্যাঙ্গালুরুতে দুজনের মৃত্যুর জেরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে আশঙ্কায় ওই শহরেও জারি হয়েছে কারফিউ। পুরো শহরেই ইন্টারনেটও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ৪৮ ঘণ্টার জন্য। প্রথমে শনিবার পর্যন্ত কারফিউ জারি হলেও পরে তা রোববার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

ভারতে নাগরিকত্ব আইন পাশের পর থেকেই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ অষ্টম দিনে পড়ল। ক্রমেই তা ছড়িয়ে পড়ছে। বৃহস্পতিবার অন্তত ৮টি রাজ্যের ১৩টি শহরে পথে নেমে বিক্ষোভে শামিল হয়েছে মানুষ।