।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

প্রাথমিক তালিকায় নাম না থাকার পরও চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়েছিল মুশফিকুর রহিমের নাম। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) আয়োজক কর্তৃপক্ষ বলেছিল, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছিল, এবার অন্তত দল পেতে পারেন মুশফিক। কিন্তু গতকাল তাকে নিতে আগ্রহী দেখায়নি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি। আরেক বাংলাদেশী মুস্তাফিজুর রহমানও অবিক্রীত থেকে গেছেন এদিন।

কলকাতায় গতকাল অনুষ্ঠিত নিলামের দ্বিতীয় ঘণ্টার শুরুতে উইকেটরক্ষক ক্যাটাগরি থেকে খেলোয়াড়দের নিলামে ওঠানো হয়। শুরুতে ডাক দেওয়া হয় অস্ট্রেলিয়ার অ্যালেক্স ক্যারিকে। ৫০ লাখ রুপি ছিল তার বেস প্রাইজ। বেঙ্গালুরু ও দিল্লির লড়াইয়ে তার দাম ওঠে ২.২ কোটি রুপি।

এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার হেনরিচ ক্লাসেনকে নিলামে ওঠানো হয়। তারও বেইজ প্রাইজ ছিল ৫০ লাখ। কিন্তু তার প্রতি আগ্রহ দেখায়নি কেউ। এরপর মুশফিকুর রহিমকে নিলামে তোলা হয়। বেইজ প্রাইজ ৭৫ লাখ থাকলেও মুশফিকের প্রতি আগ্রহ দেখায়নি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি।

এদিকে অনন্য এক কীর্তি গড়েছেন প্যাট কামিন্স। আইপিএলের ইতিহাসের সবচেয়ে দামি বিদেশি ক্রিকেটার এখন এই অস্ট্রেলিয়ান। টেস্ট র্যাংকিংয়ের সেরা এই বোলারকে সাড়ে ১৫ কোটিতে কিনে নিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। এর আগে এখানে শীর্ষে ছিলেন বেন স্টোকস। ২০১৭ সালের নিলামে তাকে সাড়ে ১৪ কোটি রুপি দিয়ে কিনেছিল রাইজিং পুনে সুপার জায়ান্ট। এর অর্থ হলো, স্টোকসের চেয়েও ১ কোটি রুপি বেশি পাচ্ছেন ফাস্ট বোলার কামিন্স।

মাত্র ৫০ লাখ রুপির জন্য তিনি দেশি-বিদেশি মিলিয়ে আইপিএলের ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার হতে পারেননি। ২০১৫ সালে যুবরাজ সিংকে ১৬ কোটি রুপিতে কিনেছিল দিল্লি। চড়া দামে বিক্রি হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে লড়াই করে তাকে পৌনে ১১ কোটি রুপিতে কিনেছে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার ক্রিস মরিস ১০ কোটি রুপির বিনিময়ে গেছেন বিরাট কোহলির দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে।

এবারের নিলামে অংশ নেন মোট ৩৩২ জন ক্রিকেটার। এই তালিকায় ১৮৬ জনই ভারতীয় ক্রিকেটার। এছাড়া টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলো থেকে ১৪৩ এবং আইসিসির সহযোগী দেশ থেকে ছিলেন তিন জন। বাংলাদেশ থেকে মুশফিক ছাড়া বাকি চার ক্রিকেটার হলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও সাব্বির রহমান।

আইসিসি কর্তৃক নিষিদ্ধ থাকায় এবারের নিলামে নাম নেই টুর্নামেন্টের নিয়মিত খেলোয়াড় সাকিব আল হাসানের। সাম্প্রতিক সময়ে তিনিই একমাত্র বাংলাদেশি ক্রিকেটার, যিনি নিয়মিত আইপিএলের আসরে অংশ নেন। তিনি লম্বা সময় কলকাতা নাইট রাইডার্সে খেলার পর সর্বশেষ খেলেছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে। আইসিসির নিষেধাজ্ঞার কারণে তাকে এক বছরের জন্য ঘরোয়া, আন্তর্জাতিক কিংবা ফ্র্যাঞ্চাইজি—সব রকমের ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে হবে।

এর বাদে মুস্তাফিজুর রহমান সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে কয়েকটি আসর খেলেছেন। এর বাদে আরো চার বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে বিভিন্ন সময়ে আইপিএলের কয়েকটি দল দলভুক্ত করেছে। তারা হলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা, আব্দুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ আশরাফুল ও তামিম ইকবাল।