।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গে রেল ও সড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষোভকারীরা। দক্ষিণ এবং উত্তরবঙ্গের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা ৩৪ নম্বর জাতীয় মহাসড়ক বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা মুর্শিদাবাদে অবরোধ করা হয়েছে। এছাড়াও বিচ্ছিন্নভাবে এ জেলায় অবরোধ করা হয়েছে আরও বহু সড়ক। আগুন দেয়া হয়েছে রেল স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে এবং বাসে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও গভর্নর বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি এখনো ঘোলাটে।

অপরদিকে বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যেই জরুরি অবস্থা কিছুটা শিথিল করা হয়েছে আসামের গৌহাটিতে।

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) এসব তথ্য জানায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ এদিন সহিংসতায় রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা রেল স্টেশনে আগুন লাগিয়ে দেয়। অবরোধ করা হয় রেল ও সড়কপথ।

খবরে বলা হয়, এদিন শতাধিক বিক্ষোভকারী পশ্চিমবঙ্গের সাঁকরাইল রেল স্টেশন অবরোধ করে রাখে। এবং স্টেশনের বেশ কিছু দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে তারা আগুন লাগিয়ে দেয় টিকিট কাউন্টারেও। কর্মকর্তারা বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তারা মারধরের শিকার হন বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। এছাড়া আগুন দেয়া হয়েছে প্রায় ১৫টি বাসে। দক্ষিণ এবং উত্তরবঙ্গের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা ৩৪ নম্বর জাতীয় মহাসড়ক বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা মুর্শিদাবাদে অবরোধ করা হয়েছে। এছাড়াও এ জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে অবরোধ করা হয়েছে আরও বহু সড়ক।

আসাম পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, আসামের গৌহাটিতে জারি থাকা জরুরি অবস্থা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শিথিল করা হয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং গভর্নর জগদীপ ধনকর সহিংসতা বন্ধ করে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

রেল ও সড়কপথ অবরোধ না করার অনুরোধ করে মমতা বলেন, দয়া করে রেল ও সড়কপথ বন্ধ করবেন না। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। যারা ভোগান্তি সৃষ্টি করছেন, বাসে আগুন দিচ্ছেন, জনগণের সম্পদের ক্ষতি করছেন তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।

এর আগে পশ্চিমবঙ্গ আইনটির বাস্তবায়ন ‘কোনো পরিস্থিতিতেই’ মেনে নেবে না বলে ধারাবাহিক এ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।

মমতা বলেছিলেন, আমরা এনআরসি এবং নাগরিকত্ব আইন বাংলায় কখনো কার্যকর করতে দেবো না। একইসঙ্গে আমরা এখানে সংশোধীত এ নাগরিকত্ব আইন বাস্তবায়ন করবো না যদিও তা পার্লামেন্টে পাস হয়েছে। এ নাগরিকত্ব আইন ভারতকে বিভক্ত করবে। যতক্ষণ আমরা ক্ষমতায় আছি, রাজ্যের একজনকেও দেশ ছাড়তে হবে না।

ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ এবং নিম্নকক্ষে পাস হওয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে (সিএবি) দেশটির রাষ্ট্রপতি সই করার পর এটি আইনে পরিণত হয়েছে।

১৯৫৫ সালের ভারতীয় নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পারসিসহ অমুসলিম অবৈধ অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে এই আইনে।