।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

মেঘনায় দুই লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যাত্রী নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার চরকিশোরগঞ্জের কাছে শুক্রবার মধ্যরাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে নৌপুলিশ জানিয়েছে।

ঢাকা থেকে চাঁদপুরগামী এমভি বোগদাদিয়া-১৩ ও  শরীয়তপুর থেকে ঢাকাগামী এমভি মানিক-৪ লঞ্চের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ঢাকার সদরঘাটের লালকুঠির ঘাট থেকে চরভৈরবীর উদ্দেশে ছেড়ে গিয়েছিল বোগদাদীয়া-১৩ লঞ্চটি। অন্যদিকে শরীয়তপুরের ওয়াপদা থেকে ঢাকার পথে আসছিল মানিক-৪।

কলাগাছিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বোগদাদিয়া-১৩ লঞ্চের পেটের দিকে মেরে দেয় এমভি মানিক-৪। এতে মানিক লঞ্চের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। বোগদাদিয়া লঞ্চেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়। মানিক-৪ লঞ্চের এক যাত্রী ঘটনাস্থলেই লঞ্চের ভেতরে চাপা লেগে মারা যান জানিয়ে তিনি বলেন, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহতের নাম মো. হুমায়ূন (৩৭), তার বাড়ি শরীয়তপুরে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, লঞ্চ দুর্ঘটনায় আহত নয়জনকে হাসপাতালে আনা হয়। সাতজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যায়। রোজিনা (৩০) ও সোনা মিয়া (৪৬) নামে দুজনকে জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুর্নবাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠানো হয়েছে।

বাচ্চু মিয়া বলেন, রোজিনা দুই পায়ে জখম হয়েছে। সোনা মিয়ার দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। দুর্ঘটনার সময় কোনো যাত্রী নদীতে পড়ে নিখোঁজ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত না হলেও দুর্ঘটনাস্থলে তল্লাশি চলছে।

পরিদর্শক মোস্তাফিজুর বলেন, ঘটনাস্থলে ভোরে ঘন কুয়াশা ছিল। কুয়াশা কেটে যাওয়ার পর নৌ-পুলিশ সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করছে।

বিআইডব্লিউটিএ‘র চেয়ারম্যান মাহবুব-উল-আলম বলেন, ঘটনাস্থলে আর কেউ নিখোঁজ রয়েছে কি না, তা খুঁজতে বিআইডব্লিউটিএ, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল পাঠানো হয়েছে। রাত প্রায় ১টার দিকের এই ঘটনার পর উভয় লঞ্চ নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যায় বলে তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলোকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

বিআইডব্লিউটিএ’র পরিবহন পরিদর্শক মো. সেলিম বলেন, ভোর সাড়ে ৩টার দিকে মানিক লঞ্চটি সদরঘাট টার্মিনালে আসে। বোগদাদীয়া লঞ্চটি  চরভৈরব চলে গেছে, যাত্রী নামিয়ে লঞ্চটি ঢাকায় আনা হচ্ছে।

দুটি লঞ্চ জব্দ করা হয়েছে জানিয়ে বিআইডব্লিউটিএ‘র চেয়ারম্যান মাহবুব বলেন, কেন দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।