Loading...
উত্তরকাল > বিস্তারিত > ঘরে বাইরে > দুষ্টুমি: বয়ঃসন্ধি কালের প্রবলেম নাকি ডিপ্রেশন?

দুষ্টুমি: বয়ঃসন্ধি কালের প্রবলেম নাকি ডিপ্রেশন?

পড়তে পারবেন 2 মিনিটে

।। ডা. তনয় মাইতি ।।

‘ওকে নিয়ে আর পারলাম না ডাক্তার বাবু, বাড়ি স্কুল সব জায়গায় সবাই ওকে নিয়ে অতিষ্ঠৃ।’

রজত বাবুর আওয়াজে হাল ছেড়ে দেয়া স্পষ্ট, বড় সাধের একমাত্র ছেলেকে নিয়ে আজ বিরক্ত তিনি।

‘পড়াশোনায় একটুও মন নেই, স্কুলে টিচাররাও শাস্তি দিয়ে দিয়ে হাঁপিয়ে গেছেন।আবার এদিকে জেদ রোজ রোজ বাড়ছে, না পেলেই ভাংচুর, কান্নাকাটি, আজকাল তো গালিগালাজও করছে, আমাদের বংশে এরকম কখনো কেউ দেখে নি।’

ওর জন্য পাড়ায় মুখ দেখানো যাচ্ছে না, আমাদের শেষে না ওর জন্য সুইসাইড করতে হয়। ‘

সমস্ত দুঃখ, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা একসাথে মিশে গেলো রজত বাবুর গলায়।

বাবা বেরোনোর কিছু সময় পর যাকে নিয়ে এতো কথা সেই ক্লাস সেভেনের অনিকেত-এর প্রবেশ।

ক্লাসের সব থেকে দুষ্টু অথচ স্কুলের ফুটবল টিমের সেরা স্ট্রাইকার অনিকেত সেন।

শরীরী ভাষায় বিদ্রোহ, কথা না শুনবার জেদ এবং দুষ্টুমি ভরা চোখের ফাঁকে কৈশোরের সাপোর্ট না পাওয়ার অসহয়তা  ডা. সুপ্রিয় এর চোখ এড়িয়ে গেলো না।

তবে বরফটা গললো ডাক্তার আংকেল যে বাবার লোক না সেটা বোঝানোর পর এবং মেসি- রোনাল্ডোর মধ্যে রোনাল্ডোই যে বেস্ট সেই বিষয়ে একমত হওয়ার পর।

একটু আলাপ জমানোর পর, বেরিয়ে এলো মনের ভেতরে থাকা কথাগুলো।

‘কেউ ভালোবাসে না আমায়, সবাই আমায় দুষ্টু বলে।বেশ করব দুষ্টুমি করব, কারুর কথা শুনবো না আমি। মামনি আর বাপি তো নিজেরাই সবসময় ঝগড়া করছে আর রাগটা আমার উপর দেখাচ্ছে…’

‘ওরা কখনো জানতে চেয়েছে আমি কি ভালোবাসি, আমার কি ভালো লাগে, আমি কি হতে চাই? কাউকে ভালোবাসতে হবে না আমায়, আমিও কাউকে ভালোবাসবো না।’

অনেক সময় লাগলো ছেলেটিকে শান্ত করতে।

একটু সময় নিয়ে ডা. সুপ্রিয় রজত বাবুকে নিজের চেম্বারে ডেকে নিলেন, বোঝাতে শুরু করলেন আস্তে আস্তে।

১.  ছোটদের অনেক সময়ই মানসিক অশান্তি উৎকণ্ঠা থেকে বা কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াও ডিপ্রেশন হতে পারে।

২. ছোটোদের মন খারাপকে বাচ্চাদের ছেলেমানুষী বলে উড়িয়ে দেবেন না।

৩.  একলা হয়ে যাওয়া, ক্রমশ নিজেকে গুটিয়ে নেয়া, ভাংচুর করার প্রবণতা বেশি করে মিথ্যে কথা বলা, অন্য বাচ্চাদের সাথে মারামারি করা।

৪. বাঁচতে ভালো লাগছে না, আমায় কেউ ভালোবাসে না, আমি মরে গেলেই সবাই খুশি হয়, এই জাতীয় কথাগুলোতে সতর্ক থাকুন।

৫. ওষুধ আছে আর তাতে কখনই মাথা খারাপ হয়ে যায় না বা সারাজীবন কারো উপর নির্ভরতা আসে না। আর সমস্ত চিকিৎসার মতন এর ও নিরদিষ্ট চিকিৎসা আছে।

৬. ও তো নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যাবে বা ও জেদ পূরণ এর জন্য এরকম করছে সেটা আগে থেকেই ভেবে নেবেন না।

৭. শুধু দুষ্টুমিটা নয়, পেছনে কারণটাও বোঝার চেষ্টা করুন, কথা বলুন, সময় দিন, আর কথা শুনুনও সব সময় নিজের চিন্তা বা নিজের মতামত বাচ্চার উপর চাপিয়ে দেবেন না।

৮.  আমাদের সময় আমরা বড়দের সব কথা বিনা প্রশ্নে শুনতাম, এতো আলোচনার কি আছে, ওরা কি নিজেদের ভালোমন্দ কিছু বোঝে নাকি

এই ধরনের কথাগুলোর বিশেষ আর নেই।

৯. মনে রাখবেন ২০১৯ এর শেষে আজকালকার বাচ্চারা অনেক বেশি জানে আবার পরিণত একই সাথে।

১০.  অনেক বেশি, ওদের সময়কে বুঝুন, ওদের চাহিদাকে বুঝতে চেষ্টা করুন।

১১. নিজেদের মধ্যে কে দায়ী, কার আদরে সন্তান বিগড়ালো সেটা খুঁজবার থেকে দুজনে মিলে কীভাবে এই সমস্যা সমাধান করা যায় সেটায় বরং মন দিন।মনে রাখবেন, আপনাদের একজোট থাকা এবং একই রকম কথা বলা খুব জরুরি।

রজত বাবু একটু চুপ করে রইলেন, একটু কি সময়টা ঘুরে দেখতে চাইলেন?

সবশেষ আপডেট

উত্তরকাল

বিশ্বকে জানুন বাংলায়

All original content on these pages is fingerprinted and certified by Digiprove
%d bloggers like this: