Loading...
উত্তরকাল > বিস্তারিত > অর্থনীতি > ব্যবসার বুদ্ধি > কম পুঁজিতে গাছের পাতা দিয়ে থালাবাটির ব্যবসা

কম পুঁজিতে গাছের পাতা দিয়ে থালাবাটির ব্যবসা

পড়তে পারবেন 2 মিনিটে

।। অর্থনীতি প্রতিবেদক ।।

দেশে অনেকদিন ধরেই ওয়ানটাইম প্লেট ও গ্লাসের চল। কিন্তু প্লাস্টিকের এসব ওয়ানটাইম গ্লাস ও প্লেটে যে পরিবেশ দূষণ হয়, তাও এখন বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই ভাবনা থেকেই আপনি বাস্তবায়ন শুরু করতে পারেন এক চমৎকার ব্যবসায়িক বুদ্ধির।

বুদ্ধিটা হলো, খুব সহজেই আপনি পাতা কিংবা সুপারি বা নারকেল অথবা পাম গাছের খোল থেকে বাণিজ্যিকভাবে প্লেট-গ্লাস উৎপাদন শুরু করতে পারেন। পুঁজি কম, কিন্তু মুনাফার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

ব্যবসার বিস্তারিত বলার আগে জানিয়ে রাখি, এই ব্যবসার বুদ্ধি ভারতে বেশ প্রসার লাভ করেছে। সেখানে অনেক জায়গায় কুটির শিল্পের আদলে ঘরে ঘরেই তৈরি হচ্ছে এই পরিবেশ-বান্ধব প্লেট। তবে ওদের দেশে শালপাতার তৈরি প্লেটটাই বেশি চলছে।

সম্প্রতি আমাদের দেশে একজন উদ্যোক্তা সবেমাত্র নারকেলের খোল থেকে প্লেট তৈরি শুরু করেছেন। এ বছরের এসএমই মেলায় তার এই উদ্যোগ প্রশংসিতও হয়েছে।

তো, আসুন শুরুতেই ভাবি এই ব্যবসা শুরু করতে আমাদের কী কী লাগতে পারে।

  • হাজার খানেক বর্গফুটের একটা জায়গা, যেখানে আমরা প্লেট তৈরি করে রাখতে পারবো।
  • প্লেট বা গ্লাস তৈরির মেশিন। পুরো বিনিয়োগে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হবে এখানে। তবে সেটাও খুব বেশি নয়। আমরা কিছুক্ষণ পরেই জেনে নেবো এর আদ্যোপান্ত।
  • মেশিনপ্রতি দুজন মানুষ সারাদিন চালানোর জন্য।
  • কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাত করতে জনা তিনেক মানুষ।
  • পাতা বা খোল সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল। সেটাও খুব গুছিয়ে করলে কমিশনের ভিত্তিতে জনা পাঁচেকই যথেষ্ট।
  • বাজারের প্রত্যাশিত আকার অনুযায়ী বিপণনের লোক নিতে হবে।
  • অনলাইনে বিক্রির জন্য নিজেদের সাইট বা সামাজিক মাধ্যমে পেজ।

জায়গা তো পাওয়া যাবেই চাইলে। কিন্তু মেশিন? আমাদের দেশে এই মেশিন এখনও সহজলভ্য নয়, বুঝতেই পারছেন। কাজেই আপনাকে বাইরের দেশ থেকে মেশিন আনতে হবে।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ উপায় ভারত। কারণ ওদেশে এখন অনেক প্রতিষ্ঠান এই মেশিন তৈরি করছে। ওরা আবার এদেশে ছোট ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য ঝামেলাবিহীনভাবে মেশিন আনার সুযোগও করে দিচ্ছে।

মেশিন আবার নানা ধরনের আছে। কোনোটা ম্যানুয়াল, কোনোটা অটোম্যাটিক। আপনাকে বাছতে হবে আপনার চাহিদা অনুযায়ী। এর পাশাপাশি ঘণ্টায় কতোটা প্লেট বা গ্লাস তৈরি করতে পারে, সেই বিবেচনাও রাখতে হবে।

ভারতের রূপীতে ধরণভেদে এই মেশিনগুলোর একেকটি ইউনিটের দাম দেড় থেকে তিন লাখ। আমি এখানে ভারতের তামিলনাড়ুর একটি প্রতিষ্ঠানের লিংক দিচ্ছি-

এখানে ক্লিক করুন

আপনি চাইলে ওদের সাইটে ঢুকে নিজের চাহিদা মাফিক মেশিনের অর্ডার করতে পারেন। অথবা নেটে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করলেই আরও মেশিনের সন্ধান মিলবে।

এই ব্যবসাটি যেহেতু প্রচলিত নয়, কাজেই আপনাকে এর কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে শুরু করে বিপণন পর্যন্ত সবগুলো ধাপেই নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে হবে।

কাাঁচামাল হিসেবে যেটিকেই ব্যবহার করুন না কেন, আপনাকে সবার আগে যা মনে রাখতে হবে, তা হলো, আপনাকে অবশ্যই আপনার সব কাঁচামালকে ফুডগ্রেইড বা দূষণমুক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে নানা ধরনের ফুডগ্রেউড লিকুইড কিনতে পাওয়া যায়।

আপনি প্রথমে কাঁচামালগুলোতে ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে নেবেন। এরপর বাছাই শেষে গরম পানিতে ধুয়ে সেগুলোর ওপর ফুডগ্রেইড লিকুইড ব্যবহার করবেন।

আপনি যদি কাঁচামাল হিসেবে পাতা ব্যবহার করেন, তাহলে মাথায় রাখবেন পর্যাপ্ত শাল কিংবা কলাপাতা যেনো আপনি সংগ্রহ করতে পারেন।

আর যদি গাছের খোল ব্যবহার করেন, তাহলে আপনার প্রথম পছন্দ হতে পারে সুপারি গাছের খোল।

এখন কীভাবে উৎপাদন করবেন, দেখে নিন এখানে-

এরপর তো আপনার পছন্দ মতো বিপণন প্রক্রিয়া থাকছেই। আপনি এই ব্যবসায় চাইলে ব্যাংকঋণও নিতে পারেন।

সবশেষ আপডেট

Advertisements
উত্তরকাল

বিশ্বকে জানুন বাংলায়

All original content on these pages is fingerprinted and certified by Digiprove
%d bloggers like this: