Loading...
উত্তরকাল > বিস্তারিত > শোবিজ > এক বছরে পাঁচ দফা ভাঙনে এলআরবি

এক বছরে পাঁচ দফা ভাঙনে এলআরবি

পড়তে পারবেন 2 মিনিটে

।। শোবিজ প্রতিবেদন ।।

ভাঙা মন নিয়ে তুমি আর কেঁদো না/ সব চাওয়া পৃথিবীতে পাওয়া হয় না/ তুমি কেঁদো না…। আইয়ুব বাচ্চুর কণ্ঠে এলআরবি’র এ গানটি মুছে যাওয়ার নয়।

বরং গানটি আরও অর্থবহ হয়ে উঠেছে সাম্প্রতিক সময়ে, এলআরবি ভক্তদের কাছে। কারণ, আইয়ুব বাচ্চুর অকাল প্রয়াণের পর তার দলের জীবিত সদস্যরা বুঝি ভাঙা-গড়ার খেলায় মেতেছেন।

সর্বশেষ গেলো আগস্ট মাসে তৃতীয় দফায় পুনর্গঠিত হয় এলআরবি। পুরনো সব সদস্যকে বাদ দিয়ে এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য স্বপন নতুন তিন সদস্যকে যুক্ত করেন। বেজিস্ট সাইদুল হাসান স্বপন জানান, নতুন আয়োজনে দলটিতে ভোকাল হিসেবে যুক্ত হয়েছেন ওয়ারফেইজের সাবেক সদস্য মিজান। নতুন লাইনআপ এমন—ব্যান্ড লিডার ও বেজ গিটার: স্বপন, ভোকাল: মিজান, গিটার: পুষ্প ফেরদৌস, ড্রামস: শাহরিয়ার রফিক এবং কিবোর্ডস: রনি শেখ।

বিষয়টি নিয়ে স্বপন বলেন, ‘বাচ্চু ভাইয়ের আকস্মিক মৃত্যুর পর, ব্যান্ড চলমান রাখার জন্য নানা সিদ্ধান্তে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ না থাকা, সবাই ব্যান্ড লিডার হতে চাওয়া, এভাবেই দ্বন্দ্বের শুরু। একপর্যায় রোমেল আমাকে নিয়ে আলাদা হয়ে যায় মনোমালিন্যের কারণে।’

গিটারিস্ট মাসুদ আর ম্যানেজার শামীম চলে যাওয়ার পর দলটির সর্বশেষ পুরনো সদস্য ড্রামার ও ভোকাল রোমেলকে কেন বাদ দেওয়া হলো। এ প্রসঙ্গে স্বপন বলেন, ‘এলআরবি ভাঙার অন্যতম কারিগর রোমেল। বাচ্চু ভাই মারা যাওয়ার পর, ব্যান্ড চালু রাখার প্রতিটা ডিসিশনের বিরোধিতা করেছে রোমেল। এছাড়া বিভিন্ন সময় টাকা নিয়ে যে কাউকে এলআরবিতে গান গাওয়ার সুযোগ দেয়ার কাজও সে করেছে। বাচ্চু ভাই এবং এলআরবির সম্মান রক্ষার্থে তাকে দল থেকে বাদ দিলাম।’

২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর দলের প্রধান আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর পর থেকে ব্যান্ডটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে অন্য সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধের কারণে। গত ১২ মাসে অন্তত পাঁচ দফা এলআরবি ‘ভাঙা-গড়া’র খবর আসে গণমাধ্যমে। শুরুটা হয় দলটিতে ভোকাল ও গিটারিস্ট হিসেবে বালামের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। এরপর থেকে খবরের শিরোনামে এলআরবি বারবার এসেছে ভাঙা-গড়া নিয়ে।

১৯৯১ সালের ৫ এপ্রিল এলআরবি গড়ে তোলেন আইয়ুব বাচ্চু। সঙ্গে ছিলেন মিল্টন আকবর, এসআই টুটুল ও সাইদুল হাসান স্বপন। এরমধ্যে মিল্টন আকবর আর এসআই টুটুল বহু আগে সরে গেলেও ছায়ার মতো শেষ পর্যন্ত আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে ছিলেন স্বপন।

আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী প্রসঙ্গে স্বপন বলেন, ‘বাচ্চু ভাই চলে যাওয়ার পর এই দলটিকে নিয়ে আমি একাই যুদ্ধ করে গেলাম। এখনও করছি প্রতিনিয়ত। কারণ, অনেকেই চায় না বাচ্চু ভাইয়ের গানগুলো বেঁচে থাক এলআরবির মাধ্যমে। এটাই স্বাভাবিক। কারণ, এই দলের প্রতি টান আর মমতা বাচ্চু ভাইয়ের পরে আমার চেয়ে বেশি আর কারও থাকার কথা না। টানা ৩৪টি বছর আমি আর বাচ্চু ভাই একসঙ্গে আছি। এরপর ৯১ সালে আমরা দুজনে মিলেই গড়ে তুলি এলআরবি। ভাই চলে গেলেন, এখন এই দলটাকে বাঁচানোর দায়িত্ব তো আমারই।’

প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীকে সামনে রেখে স্মৃতিকাতর স্বপন বলেন, ‘মনে পড়ে ১৯৮৪ সালের কথা। বাচ্চু ভাই ছিলেন আমার বড় ভাইয়ের বন্ধু। সেই সুবাদে প্রথম তার সংস্পর্শে আসা। উনার কাছ থেকেই প্রথম গিটার তালিম। সেই থেকে শেষ দিন পর্যন্ত গুরু-শিষ্য একসঙ্গে কাটিয়েছি। কেউ কাউকে ছেড়ে যাবো, কখনো ভাবিনি। অথৈ সাগরে আমাকে ফেলে বস চলে গেলেন পরপারে। গত এক বছর আমার চেয়ে একা এবং অসহায় মানুষ পৃথিবীতে আর কেউ ছিল কিনা জানি না।’

স্বপন জানান, আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কারও কোনও আয়োজনের খবর তার কাছে নেই। তবে তিনি একাই আইয়ুব বাচ্চুর মাগফেরাত কামনায় মিলাদের আয়োজন করছেন।

সবশেষ আপডেট

উত্তরকাল

বিশ্বকে জানুন বাংলায়

All original content on these pages is fingerprinted and certified by Digiprove
%d bloggers like this: