Loading...
উত্তরকাল > বিস্তারিত > ঘরে বাইরে > মানসিক রোগের ওষুধ সারাজীবন খেতে হবে না তো!

মানসিক রোগের ওষুধ সারাজীবন খেতে হবে না তো!

পড়তে পারবেন 2 মিনিটে

।। ডা. তনয় মাইতি ।।

লিখতে লিখতে ডা. সুপ্রিয় একবার আড়চোখে দেখে নিলেন, অমিতাভবাবুর মুখটা আগের মতোন চিন্তিত না থাকলেও খুব নিশ্চিন্ত দেখাচ্ছে না। 

“সিমলা কেমন ঘুরলেন , অমিতাভবাবু?”

“সিমলা তো ভালই ছিলো। কিন্তু ছেলে আমার আগের মতন নেই আর ডাক্তারবাবু।”

গলাটা ভিজে শোনায় কি?

অমিতাভ সেন বলে চলেন, “ও কীরকম চুপ হয়ে গেছে, আগের চনমনে নেই, মাঝে মাঝে হাত কাঁপে, গ্লাস ধরতে গেলে বোঝা যায়…রাতে দেখছি মুখে থুতু আসছে, বালিশ ভিজে যাচ্ছে। সবাই বলছে ওষুধ থেকে হচ্ছে।”

ডা. সুপ্রিয় হাসলেন অল্প, তবে চিন্তার গুরুত্বও বুঝলেন। বললেন, “পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অনেক সময় সাময়িকভাবে এরকম হতে পারে। তবে তাতে বিশেষ চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। আর পাঁচটা অন্যান্য আলোপ্যাথিক ওষুধের মত মনের অসুখের ওষুধগুলিরও কিছু সাইডএফেক্ট আছে, যেগুলি সহজেই ধরা য়ায় এবং অতি সহজেই উপশম করা যায়। মারাত্মক প্রাণঘাতী সাইডএফেক্ট সেরকম আকছার হয় না। আর যেকোনো দায়িত্বশীল চিকিৎসক সেব্যাপারে আপনাকে বা যেকোনো বাড়ির লোক কিংবা পরিজনকে সাবধান করে দেবে।”

“সাধারণ বলতে আপনি কোন লক্ষণগুলি বলছেন, ডাক্তারবাবু?”

“সাধারণ অর্থাৎ যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক বেশী মাত্রায় হয়ে থাকে, এবং এদের সামলানো আমাদের কাছে তুলনামূলকভাবে সহজ, যেমন হাত কাঁপা, মুখে লালা আসা, কোষ্ট-কাঠিন্য হওয়া, চলাফেরা চিন্তাভাবনা একটু স্লোহয়ে যাওয়া ইত্যাদি…”

“এগুলি সব কি পুরো ঠিক করা সম্ভব?”  

“হ্যাঁ”, ডা. সুপ্রিয় জোর দিয়ে বললেন, “কখনো ওষুধের মাত্রা বদল করে বা সাময়িকভাবে অন্য ওষুধ যোগ করে এগুলো সহজেই বাগে আনা যায়।”

“তাহলে সিরিয়াস কোনগুলো?” 

“অনেক সময় কিছু বিশেষ রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যেতে পারে, অথবা শরীরের বিভিন্ন অংশে র‌্যাশ হতে পারে। সময়মত চিহ্নিত করতে না পারলে মুশকিল হতে পারে। তবে ভরসার জায়গা এটাই যে, এই ধরনের সম্ভাবনা অনেক কম। সঠিক শনাক্তকরণে দক্ষ চিকিৎসক এগুলি সামলে নিতে পারবেন।”

অমিতাভবাবুকে চুপ থাকতে দেখে ডাক্তারবাবু আবারও বলতে লাগলেন, “ভয় পাবেন না। আমার কর্তব্য আপনাকে চিকিৎসার সমস্ত দিক সম্পর্কে জানানো। সিদ্ধান্ত নেওয়াটা আপনাকে-আমাকে দুজনকে মিলেই নিতে হবে, আপনার ভূমিকা এখানে আমার সমান গুরুত্বপূর্ণ।”

“কিন্ত ও যে ওষুধ খেতে চাইছে না। ওর তো লাগছেই না যে ওর কোনো অসুবিধা বা প্রবলেম আছে বলে।”

“সেটা দুর্ভাগ্যবশত ওর অসুখেরই লক্ষণ। এর কথা আমরা আগে আলোচনা করেছি। যে insight-এর কথা আগের বার বলেছিলাম, সেটি ফিরতে বেশ খানিকটা সময় নেয় এবং পুরো ফিরে পাওয়া বেশ সময়সাপেক্ষ। যতদিন না সেটি ফিরে আসছে ততদিন আমাদের কর্তব্য হচ্ছে ওর খেয়াল রাখা আর ওর চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া।”

অমিতাভবাবু অনেকটা নিশ্চিন্তভাবে বেরিয়ে এলেন। ডাক্তারবাবুর কথায় ভরসা পেলেন; অসুখ সম্পর্কে অনেক ধারনা পরিস্কার হলো। অন্ততপক্ষে যে ভয়গুলো ছিলো সেগুলো কমলো; ডাক্তারবাবুর সাথে কথা বলে যে বিষয়গুলি জানা গেলো-

  • ওষুধ মাত্রেই কিছু না কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকবে সেটা নিয়ে অকারণ ভয় না পেয়ে ডাক্তারের কাছে বুঝে নেওয়া ভালো।
    • তাতে অমূলক ভয়গুলো অন্তত দূর হয়।
  • সাইকোসিস মানেই স্কিজোফ্রেনিয়া নয়। যদিও স্কিজোফ্রেনিয়া একধরনের সাইকোসিস।
    • তারও নিরর্দিষ্ট চিকিৎসা আছে। তবে সেই রোগ হয়েছে কিনা সেই বিবেচনা চিকিৎসকের ওপর ছেড়ে দিলেই ভালো।
  • সারাজীবন ওষুধ খেতে হবে এরকম একেবারেই সত্যি নয়, তা নিয়ে অযথা ভীত হওয়ার দরকার নেই৷ 
  • নিজের মনের চিন্তাগুলো নিয়ে অকারণে ‘ডাক্তার গুগল’কে ব্যতিবস্ত  না করে নিজের চিকিৎসকের উপর ভরসা রাখুন। চিকিৎসককেই আপনার প্রশ্নগুলি করে নিন।
    • মনে রাখবেন, আপনার বাড়ির অসুস্থ মানুষটিকে গুগল চেনে না। গুগল-এর দেওয়া তথ্যগুলি সারা পৃথিবীর ডাক্তার বা মেডিকালশাস্ত্র থেকে নেওয়া। কোনো একটি বিশেষ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে।

ডা. তনয় মাইতি ভারতের ভুবনেশ্বরের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিউট মেডিকেল সায়েন্সেসের (AIIMS) মনোচিকিৎসক। তিনি উত্তরকালে নিয়মিত লিখছেন প্রতি মাসের দ্বিতীয় ও শেষ শনিবারে।

সবশেষ আপডেট

উত্তরকাল

বিশ্বকে জানুন বাংলায়

All original content on these pages is fingerprinted and certified by Digiprove
%d bloggers like this: