Loading...
উত্তরকাল > বিস্তারিত > শিল্প ও সাহিত্য > আজাদুর রহমানের কবিতা

আজাদুর রহমানের কবিতা

পড়তে পারবেন < 1 মিনিটে

স্টেশনের পর স্টেশন পেরিয়ে

স্টেশনের পর স্টেশন পেরিয়ে, গাছেদের পাতা ছুঁয়ে, যেন স্নেহের হাতগুলো বহুকাল ঘুমিয়ে ছিল মাছেদের প্রাচীন টানেলে, কোথাও যাচ্ছি। অপেক্ষায় থেকে থেকে মানুষেরা যেমন একদিন মরে যায়, তেমন করে সবুজ পাতারা হলুদ হতে হতে খসে পড়ে চিরুনি করা মেঘেদের গ্রামে, তার পাশে সরু একটা নদী বয়ে যায়, দেখা মেলে না, দেখা মেলে না, দেখা মেলে না… একবার শুধু ঘাঁই দিয়ে উঠেছিল রুপালি মাছ। আধশোয়া আজান; শঙ্খধ্বনি, কিশোরীর সাদা-শঙ্খ পা জোড়া ভেসে যায়। এভাবে একদিন জলের কাছে পুন্যার্থী হলে পাপীদের তালিকায় কেউ হয়তো খুঁজবে আমার নাম। আমি কোথাও যাচ্ছি, স্টেশনের পর স্টেশন পেরিয়ে।

মনুমেন্ট

আপনি যখন চেম্বারে ডেকে নিয়ে আমাকে গালাগালি করেন, তখন আমি মাথা নিচু করে বসে থাকি, মাঝে মাঝে বিনীতভাবে আপনার চোখের দিকে তাকাই, আমার মায়া লাগে। আপনার কলিগদের সামনে আপনি আমাকে বকবেন-শিক্ষামূলক বিরক্তিবান ছাড়বেন, আপনার ভাল লাগবে-সে কথা ভেবেই আপনি একা থাকলে আমি ঢুকি না, আপনার কলিগদের জন্য অপেক্ষা করি। বসে থাকাটা বেয়াদবি ভেবে উঠে পড়ি, তারপর সার বাধা চেয়ারের পেছনে একা একটা মনুমেন্টের মতো দাঁড়িয়ে থাকি, আপনি তখন লাগসই শব্দ খুঁজছে থাকেন, ছোট ছোট বাক্য গঠন করেন, একটু একটু করে ক্রমান্বয়ে রেগে যান।

আপনার ঝোলানো মুখের দিকে তাকিয়ে আমার মায়া লাগে। ভাবি, দু-দিন পরে আমরা তো এক দরিয়াতেই যাব, সেখানে চাইলেও আপনি কোনো চেম্বার খুঁজে পাবেন না!

হলুদফুল

ছেলেবেলার কোনো হলুদ ফুলের কথা কি আপনার মনে পড়ে, অথবা গোলাপি নয়নতারা, সন্ধ্যা মালতি কিংবা ঘাসফুলের গভীরে বেগুনীর কথা বলে যে অধিক গোলাপী থাকে, মনে করুন দু একটা তপ্ত দুপুরের প্রজাপতি, দেখতে পাচ্ছেন কি ওদের! ছবি করতে পারছেন কী! হয়তো পারছেন! হয়তো পারছেন না! না পারলে বুঝবেন আপনার সেই ম্লান বালকটি অন্য কোথাও হারিয়ে গেছে, আর আপনার ভেতরে আপনার পরিবর্তে অন্য কেউ বসবাস করতে শুরু করেছে!

অলংকরণ : রাজিব রায়

সবশেষ আপডেট

উত্তরকাল

বিশ্বকে জানুন বাংলায়

All original content on these pages is fingerprinted and certified by Digiprove
%d bloggers like this: