Loading...
উত্তরকাল > বিস্তারিত > তারুণ্য > বিশ্বভ্রমণে ‘মিস আর্থ কুইন অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন নাজমুন নাহার

বিশ্বভ্রমণে ‘মিস আর্থ কুইন অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন নাজমুন নাহার

পড়তে পারবেন 2 মিনিটে

।। ওয়াসিফ রিয়াদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ।।

১ সেপ্টেম্বর রাত ৯টা। নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড শহরের নাসাউ কলসিয়ামে ৩৩তম ফোবানা সম্মেলনের আসর বসেছিল। সারা পৃথিবী থেকে আগত কয়েক হাজার  বাংলাদেশীদের মিলন মেলায় মুখরিত এক বিশেষ মুহূর্তে নাজমুন নাহারকে ‘মিস আর্থ কুইন অ্যাওয়ার্ড’ দেয়া হয়। সম্মাননাটি নাজমুন নাহারের হাতে তুলে দেন ফোবানার কনভেনার নার্গিস আহমেদ সহ ফোবানার আইকনপ্রাপ্ত বিশিষ্টজনেরা।

মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা তিন ভাই, পাঁচ বোনের মধ্যে নাজমুন নাহার সবার ছোট। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর ২০০৬ সালে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করেন। এখন স্বপ্ন একটাই ‘বিশ্বভ্রমণ’।

এর আগে লাল-সবুজের পতাকা হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নিয়ে শততম দেশ হিসেবে জিম্বাবুয়েতে পা রাখার পর জাম্বিয়া সরকারের গভর্ণর তাঁকে ‘ফ্ল্যাগ গার্ল’ উপাধীতে ভূষিত করেন। বিশ্ব ভ্রমণে অসামান্য কৃতিত্ব রাখায় চলতি বছরের ২৩ মার্চ আলোকিত নারী ও তারুণ্যের আইকন হিসেবে নারীদের সবচেয়ে সম্মানিত পুরষ্কার ‘অনন্যা সম্মাননা’ অর্জন করেছেন।

ইতিমধ্যে তিনি শিরোনাম হয়েছেন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিখ্যাত গণমাধ্যমে। তার এই দুঃসাহসিক কৃতিত্বের অবদান স্বরূপ দেশ-বিদেশে নাজমুন নাহার পেয়েছিলেন বেশ কিছু সম্মাননা। ২০১৯ সালের ২৩ মার্চ ‘তারুণ্যের আইকন’ উপাধি পান অনন্যা সম্মাননার মাধ্যমে। এ ছাড়া চলতি বছর তিনি অতীশ দীপঙ্কর গোল্ড মেডেল সম্মাননা, বাংলা সম্মাননা ও রেড ক্রিসেন্ট মোটিভেশনাল অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।

বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে পৃথিবীর পথে পথে পৌঁছে দেয়ার এক ভিন্ন ইতিহাস সৃষ্টি করেন নাজমুন নাহার। আমাদের গৌরব ও তারুণ্যের আইকন অদম্য সাহসী বীর এই নারীকে দেশের জন্য তার এমন বিরল অবদানের কৃতিত্ব স্বরূপ তাকে দেয়া হয় বিশেষ এই সম্মাননা।

তিন দিনব্যাপি এই অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে ‘নিউইয়র্ক স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ আয়োজিত ইয়ুথ কনফারেন্সে তার বিশ্ব ভ্রমণের উপর ‘উইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ নামক এজেন্ডায় নাজমুন নাহার ইনস্পিরেশনাল বক্তব্য ও প্রেজেন্টেশন দেন। এছাড়াও ইয়ুথ কনফারেন্সে প্রদর্শিত হয় তার জীবনের উপর তথ্যচিত্র। অনুষ্ঠানের শেষ দিন ইয়ুথ কনফারেন্সে নাজমুন নাহার কে ‘গ্লোব অ্যাওয়ার্ড’ এর মাধ্যমে সম্মাননা জানানো হয়।

সারা পৃথিবীজুড়েই তিনি তরুণদেরকে এভাবে উৎসাহিত করছেন। তিনি যে পথ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন তার বিশ্বভ্রমণ অভিযাত্রার মাধ্যমে তা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি আলোকিত পথের মাইলফলক হয়ে থাকবে। তিনি ইতিমধ্যে ১৩০ টি দেশ ভ্রমণ করে ফেলেছেন, তার সর্বশেষ দেশ ছিল কানাডা। আমেরিকা ও কানাডার সীমান্তবর্তী নায়াগ্রা জলপ্রপাতে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে তিনি সম্পন্ন করেছিলেন তার বিশ্বভ্রমণের ১৩০ তম দেশ।

গত ১৯ বছর ধরে তিনি বাংলাদেশের পতাকাকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করার জন্য চালিয়ে যাচ্ছেন তার অভিযাত্রা। ২০২১ সালের মধ্যে তিনি জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি দেশ ভ্রমণ করবেন বলে জানিয়েছে। তাঁর বিশ্ব ভ্রমণ সম্পর্কে জানতে চাইলে নাজমুন নাহার বলেন, কোটি প্রাণের লাল সবুজের পতাকা নিয়ে ১৩০ টি দেশের সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের পতাকাকে নিয়েছি সর্বোচ্চ উচ্চতায়। দীর্ঘ ভ্রমণে সড়ক পথের কঠিন সফর শেষ করে ১৩ জানুয়ারী নাইজেরিয়ায় উড়াই বাংলাদেশের পতাকা।

বিশ্বভ্রমণ অনেক কষ্ট হলেও আছে অনেক আনন্দ।  তিনি বলেন দেখেছি অনেক, শিখেছি অনেক। বিশ্বভ্রমণ করতে গিয়ে কখনও ৪৮ ডিগ্রি তাপমাত্রায় পুড়েছি, কখনও টানা ২৬ ঘন্টা না খেয়ে ছিলাম। মাটিতে, জঙ্গলে আদিবাসীদের সাথে ঘুমিয়েছি। কখনো ইয়াম আলু, কখন হোয়াইট অরেঞ্জ খেয়েও থেকেছি।

পশ্চিম আফ্রিকার পথে পথে আমাকে অনেক কঠিন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু আমি সবই আমার মানসিক শক্তি আর ইতিবাচক চিন্তা দিয়ে মোকাবিলা করেছি। সকল ধরনের প্রতিবন্ধকতায় এই পতাকা আমাকে ছায়া দিয়েছে! বাংলাদেশের এই লাল সবুজের পতাকা বহন করার জন্য আমি সব কষ্টকে মাথা পেতে নিয়েছি।

সবশেষ আপডেট

উত্তরকাল

বিশ্বকে জানুন বাংলায়

All original content on these pages is fingerprinted and certified by Digiprove
%d bloggers like this: