।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার কায়ামাজমপুর গ্রামের মন্ডলপাড়া থেকে দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে তার বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়। সোমবার (২০ আগস্ট) দুপুর তিনটার দিকে এ ঘটনার শিকার ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ তাদের মেয়েকে অস্ত্রের মুখে (পিস্তল ও ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে) তুলে নিয়ে গেছে স্থানীয় কয়েকজন বখাটে যুবক। এসময় বাড়িতে উপস্থিত নারীদের ওপর আক্রমণ করা হয় ও তাদের কাছ থেকে মূল্যবান গহনা ও নগদ অর্থ লুট করা হয়।

দুর্গাপুর থানায় এসে এবিষয়ে অভিযোগ করেন মেয়েটির বাবা। গুরুত্বের কারণে তাৎক্ষণিক ঘটনা কন্ট্রোল রুম পর্যন্ত জানাজানি হয়। রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহর নির্দেশে সংশ্লিষ্ট থানা দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। একই দিন মাত্র ছয় ঘন্টার ব্যবধানে রাত নয়টার দিকে দুর্গাপুর থানাধীন পুরাতনতাহিরপুর স্কুলের সামনে থেকে সেই মেয়েকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

জেলা পুলিশ সুপারের দেয়া তথ্য মতে, উদ্ধার হওয়া মেয়েটি বর্তমানে জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে আছে। প্রকৃত ঘটনা জানতে মেয়েটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। তবে গ্রেফতারে এখনো মাঠে কাজ করছেন তারা।

এদিকে উদ্ধার হওয়া মেয়েটির বাবা শ্রী আনন্দের সোমবার বিকেলে দেয়া বয়ান অনুসারে, স্থানীয় বখাটে যুবক টুটুল (২০) তাদের মেয়েকে বছর খানেক ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিলো। সে আরো ৪ থেকে ৬ জন সঙ্গীদের নিয়ে এসে আনন্দের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় অস্ত্রের মুখে মেয়েকে জোরপূর্বক অপহরণ করে ও বাড়িতে থাকা মূল্যবান সম্পদ লুট করে।

তবে কায়ামাজমপুর গ্রামের মন্ডলপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, মেয়েটির সঙ্গে টুটুলের প্রায় চার বছর ধরে প্রণয়ের সম্পর্ক। যা আজও বিদ্যমান। তবে উভয়েই ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হওয়ায়, তাদের পরিবার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। এর মাঝে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর মেয়েটির বিয়ে ঠিক করে তার পরিবার।

মেয়েটিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটি জানিয়েছে তার সঙ্গে টুটুলের সম্পর্ক রয়েছে। মেয়েটি নিজ সম্মতিতেই টুটুলের সঙ্গে বাড়ি ছাড়ে। তবে আদালতে মেয়েটি কী বয়ান দিচ্ছে তা গুরুত্বপূর্ণ।

রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া মেয়েটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার পরিবারকেও ডেকে আনা হয়েছে। যেহেতু বিষয়টি নিয়ে মামলা হয়েছে, মেয়েটির বয়ান এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ। আদালতে সে বয়ান দেবে। এর পর প্রকৃত ঘটনা জানানো সম্ভব হবে।  

মেয়েটিকে কীভাবে বা কী অবস্থায় উদ্ধার করো হলো? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরো জানান, দুর্গাপুর থানাধীন পুরাতন তাহিরপুর স্কুলের সামনে সে দাঁড়িয়ে ছিলো, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। মেয়েটি সম্পূর্ণ সুস্থ আছে। প্রয়োজন অনুসারে তাকে মেডিকেল টেস্ট করানো হবে।