।। তানজিদ সুমনরাশেদ রায়হান ।।

১৯৭৫ সালের ২৯ মে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো হয় এক তারবার্তা। বাংলাদেশে দেশটির রাষ্ট্রদূত ইউজিন বোস্টারের সেই তারবার্তার আলোচ্য বিষয় ছিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ইস্যু ‘ডিয়েগো গার্সিয়া’। ব্রিটিশ-ইন্ডিয়ান সমুদ্র অঞ্চলের অন্তর্গত ভারত মহাসাগরে অবস্থিত চ্যাগস দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপ এই ডিয়েগো গার্সিয়া। যেখানে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সর্ববৃহৎ সামরিক ঘাটি স্থাপন করে বিশ্বজুড়ে কর্তৃত্বের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়।

আমরা তারবার্তার যে সময়টার কথা বলছি, তখন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর সবেমাত্র বৃটেনের কাছ থেকে ডিয়েগো গার্সিয়া পেয়েছে। কিন্তু এর জন্য সেখানকার স্থানীয় অধিবাসীদের উচ্ছেদের পাশাপাশি ভারত মহাসাগরে মার্কিনদের এমন কর্তৃত্ব নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের অবস্থান যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারত মহাসাগর সন্নিহিত অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোকে ইতিবাচক ভূমিকায় নিতে না পারলে, তখন মার্কিন এই সামরিক ঘাটি স্থাপনের উদ্দেশ্য ভেস্তে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা তখন তাদের। কাজেই ইউজিন বোস্টারের সেই তারবার্তায় সেই আলোকেই কিছু তথ্য দেয়া হয়। সামান্য এই তথ্য থেকেই সেই সময় মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান তাদের কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চলেছিলো, তার আভাস মেলে। মনে রাখতে হবে, এই তারবার্তাটি বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের মাত্র কয়েক মাস আগের। বোস্টারের তারবার্তাটির সারসংক্ষেপ অনেকটা এমন-

ডিয়েগো গার্সিয়া নিয়ে বাংলাদেশের সর্বশেষ অবস্থান প্রকাশ্যে আসে ১৯৭৪ সালের ১০ ডিসেম্বর। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী চবনের ঢাকা সফরকালে দ্বিপক্ষীয় এক বৈঠক শেষে সেই বক্তব্যটি সামনে আসে। ডিয়েগো গার্সিয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, এখানে মার্কিন সামরিক ঘাটি স্থাপন পুরো ভারত মহাসাগরটিকেই অশান্ত করে তুলতে পারে। যদিও এই মুহূর্তে এ অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলো পুরো এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জোর দিচ্ছে। ভারত মহাসাগরে মার্কিন উপস্থিতি তাদের সেই প্রচেষ্টাকে ভেস্তে দিতে পারে।

বোস্টার তারবার্তায় লিখেছেন, ‘ওই সময়ের পর থেকে এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের কোনো বক্তব্য আমরা পাইনি। কিন্তু আমি জানি, জানতে চাইলে তারা বলবে যে, তারা এর বিরুদ্ধে।’ তারবার্তার শেষদিকে জানানো হয়, সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘সম্মিলিত এশিয়ান নিরাপত্তা ব্যবস্থা’র প্রতি ভারত ও বাংলাদেশের আস্থা রয়েছে। বোস্টারের শেষ বাক্যটি ছিলো এমন, ‘সময় এলে বাংলাদেশ ঠিকই ডিয়েগো গার্সিয়ার (মার্কিন ঘাটি স্থাপনের) বিরোধিতা করবে।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা অনুযায়ী অবশ্য সেই সময় আর আসেনি। কারণ তার আগেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঘাতকের হাতে প্রাণ দিতে হয়। এই এক ঘটনাতেই বদলে যায় এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণ। আর হত্যার আগেও যে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক রাজনীতির এই সম্ভাব্য সংকট নিয়ে ভাবছিলেন তার প্রমাণ মেলে আবদুল গাফফার চৌধুরীর লেখায়। তিনি লিখেছেন, মুজিব চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন মস্কোতে। সেখান থেকে এসে গেলেন ইন্দিরা গান্ধির সাথে দেখা করতে।অপর দিকে ঠিক একই সময় ভুট্টো গেলেন পিকিং এ।অর্থাৎ একদিকে ভারত-বাংলাদেশ-রাশিয়া অন্য দিকে পাকিস্তান-চিন-আমেরিকা।

দেশে ফিরে গাফফার চৌধুরীর সাথে এ বিষয়ে তার কথোপকথন হয়। তার ভাষায়, “বঙ্গবন্ধু বললেন: বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে জন্ম নেয়ায় ভারত উপমহাদেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য সম্পূর্ণ বদলে গেছে।এই বাস্তবতা নিক্সন আডমিনিস্ট্রেশন মেনে নিতে পারছেনা।তারা চেয়েছিল পাকিস্তান ও বাংলাদেশ কে মিলিত ভাবে তারা ভারত মহাসাগরে নৌঘাটি স্থাপন ও ভারতে সোভিয়েত প্রভাব হ্রাসে ব্যবহার করবে।ভারত ও সোভিয়েত ইয়ুনিয়ন মিলিত ভাবে বাংলাদেশকে স্বাধীনতা লাভে সাহায্য করায় তাদের এই পরিকল্পনা ভন্ডুল হয়ে গেছে।পাকিস্তানের সাথে জয় লাভ করায় ভারত এশিয়ার সাব-সুপার পাওয়ার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।এটা আমেরিকা চিন কারোরি মনঃপূত ন্য।পরাজিত ও দুর্বল পাকিস্তান কে দিয়ে ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব নয়।এজন্য চীন কে সঙ্গে টানা হয়েছে।অন্যদিকে ভারতের অভ্যন্তরে ডানপন্থী ও সাম্প্রদায়িক দল গুলোকে সাহায্য জুগিয়ে ইন্দিরা সরকার কে অপসারণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”

আর সে কারণেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে মনে করতেন ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) সাবেক কর্মকর্তা ব্রুস রিডেলকে উদ্ধৃত করে কয়েক বছর আগে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনদেশ-বিদেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্দিরা গান্ধী মনে করতেন ১৯৭১ সালের প্রতিশোধ হিসাবে বঙ্গবন্ধুর পর তাকেও হত্যার জন্য সিআইএ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ১৫ আগস্টের পর তার এ সন্দেহ আরো দৃঢ় হয়। রিডেল বলেন, ইন্দিরা গান্ধীর যুক্তরাষ্ট্রকে দরকার ছিলো না। তবে তিনি নিক্সনকে শত্রু বলেই মনে করতেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সবসময়ই আন্তরিক ছিল কিন্তু ঘনিষ্ঠ ছিল না। নেহরু ও ইন্দিরাকে যুক্তরাষ্ট্র সবসময় কূটনৈতিকভাবেই স্বাগত জানিয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থনের জন্য ইন্দিরা যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছিলেন। যদিও ওভাল অফিসে রিচার্ড নিক্সনের চরম বাধার মুখে পড়েন তিনি।

ইন্দিরা গান্ধীর সন্দেহের বড় কারণটি ছিলো, তাদের হাতে থাকা নানা তথ্য। যে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শেখ মুজিবকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল তাতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দৃঢ় বিশ্বাস। সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক অরুণ ব্যানার্জি নিজেও এই মতের শরিক। তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট করে এই ১৫ই অগাস্ট তারিখটা বেছেই নেওয়া হয়েছিল খুব সচেতনভাবে। ভারতের স্বাধীনতা দিবস ওটা- আর ক্যুর ষঙযন্ত্রকারীরা ভারতকেই একটা মেসেজ দিতে চেয়েছিল। বার্তাটা ছিল, তোমাদের এত খাতিরের লোক- আর তোমাদের বিশেষ দিনে দ্যাখো এই তার অবস্থা। ‘ওই অভ্যুত্থানের কিছুদিনের মধ্যেই যেভাবে বাংলাদেশের টপ ইনটেলেজিন্সিয়া বা বুদ্ধিজীবীদের শেষ করে দেওয়া হল, তাজুদ্দিন আহমেদ-সহ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের দ্বিতীয় সারিটাকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হল, তাতে বোঝাই যায় এর মাধ্যমে কারা লাভবান হতে চেয়েছিল’- বলছিলেন ওই টালমাটাল সময়ে ঢাকায় কাটানো এই প্রাক্তন কূটনীতিক।

কলকাতায় কংগ্রেসী ঘরানার সংবাদপত্র যুগান্তরে তো সে সময় সরাসরি লেখা হয়েছিল ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিস বোস্টার এই ক্যুতে প্রত্যক্ষভাবে জডড়ত। বর্তমানে মার্কিনপ্রবাসী ভারতীয় গবেষক বি জেড খসরু লিখেছেন, ‘কলকাতার মার্কিন কনসাল জেনারেল নিজে যুগান্তর অফিসে গিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। এই খবর প্রত্যাহার করে যুগান্তরকে প্রথম পাতায় ক্ষমা চাইতে হবে বলেও তিনি জেদ ধরে ছিলেন।’ ভারতের বিভিন্ন খবরের কাগজেও সিআইএর দিকে আঙুল তুলে সে সময় নানা সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছিল। দিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশনস ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমেরিকা বিভাগের প্রধান জে এস তেজার সঙ্গে দেখা করে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে এসেছিলেন, এ রকম চলতে থাকলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তার ফল ভাল হবে না।

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং বা র-এর সাবেক কর্মকর্তা আর কে যাদব তাঁর বই মিশন আর অ্যান্ড আ ডব্লিউতে লিখেছেন, ‘তারা সরাসরি জডড়ত না থাকলেও অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া কারও কারও ওপর ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের সিআইএ কর্তাদের আশীর্বাদ ছিল।’ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট অভ্যুত্থান সম্পর্কে সুস্পষ্ট আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায় কেবল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএরই।

জওহরলাল নেহরুর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা কাও সিআইএ ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোশাদের ছাঁচে গড়ে তুলেছিলেন র। কাও যাদবের চোখে মহানায়ক; বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সহায়তার নেপথ্যে অন্যতম মস্তিষ্ক। কাওর একাত্তরের ভূমিকার স্বীকৃতি অবশ্য ভারত দেয়নি। বাংলাদেশও দেয়নি বলে যাদব দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

১৯৭৫-এ সিআইএর পরিচালক ছিলেন উইলিয়াম কলবি, কেজিবির চেয়ারম্যান ইউরি আন্দ্রোপভ। ১৫ আগস্ট সম্পর্কে তাঁদের তেমন কোনো ভাষ্য জানা যায় না। মার্কিনিরা অবশ্য শেখ মুজিবকে সতর্ক করেছিল। সেদিক থেকে কাও ব্যতিক্রম। সানডের ২৩-২৯ এপ্রিল ১৯৮৯ সংখ্যায় তিনি এ সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। কাও লিখেছেন, ডিসেম্বর ১৯৭৪-এ তিনি নিজে ঢাকায় এসে মুজিবকে এ ষঙযন্ত্রের খবর দেন। কিন্তু মুজিব সেটি উডড়য়ে দিয়ে বলেন, ‘ওরা আমার সন্তান। আমার কোনো ক্ষতি ওরা করবে না।’

কাও আরও লিখেছেন, ‘প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আমার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে মার্চ ১৯৭৫-এ আমি ঢাকায় পাঠাই। শেখ মুজিবের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে তিনি জানান যে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া ও গোলন্দাজ অংশের দুটি ইউনিটে তাঁর বিরুদ্ধে হত্যার ষঙযন্ত্র চলছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে এসব সতর্কবার্তায় তিনি কান দেননি।’
অভ্যুত্থানের ষঙযন্ত্রের খবর কাও কীভাবে পেয়েছিলেন? মুজিবের খুব ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। তিনি ইন্দিরা গান্ধীকে বলেছিলেন, ‘এসব তথ্য পাওয়া গেছে নাজুকভাবে রোপণ করা এক সূত্র থেকে। যেকোনো মূল্যে তার গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে।’
বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের হত্যাকা-ের ঠিক এক সপ্তাহ পর নিউইয়র্ক টাইমস মস্কো থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে লিখেছিল, ‘গত সপ্তাহে বাংলাদেশে হওয়া সেনা বিদ্রোহের প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় ক্রেমলিন আজ (২২ আগস্ট) ইঙ্গিত দিয়েছে যে, শেখ মুজিবুর রহমানের উৎখাত হয়তো দেশটিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে দূরে সরিয়ে চীনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।’

১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৫-এ ঢাকার ডেটলাইন দিয়ে ভারতীয় পত্রিকা হিন্দুস্থান টাইমস জানায়, সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দেয়ার এক সপ্তাহ পর চীনও তার স্বীকৃতি দিয়েছে। এ-ও বলা হয়, ভারতও মোশতাক সরকারের সঙ্গে মিলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যাবে।

বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম বার্ষিকীতে সানডে টাইমসের অ্যান্থনি মাসকারেনহাস লন্ডনের আইটিভি’র ‘ওয়ার্ল্ড ইন অ্যাকশন’ অনুষ্ঠানের জন্য বঙ্গবন্ধুর দুই স্বঘোষিত হত্যাকারী লে. কর্নেল ফারুক ও লে. কর্নেল রশিদের সাক্ষাৎকার নেন।

২ আগস্ট প্রচারিত ওই অনুষ্ঠানে হত্যাকারীরা বর্ণনা করেন কীভাবে তারা ১৯৭৫-এর ২০ মার্চ তৎকালীন ডেপুটি চিফ অব আর্মি স্টাফ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের সঙ্গে দেখা করেছিলেন, কীভাবে দেশের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথা তাকে বলেছিলেন। তবে জিয়া তাদের বলেছিলেন, ‘ আমি এমন কোনো কাজে জড়াতে চাইছি না। আপনারা যদি এমন কিছু করতে চান, তবে জুনিয়র অফিসাররা নিজেরাই করুন।’

সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজ ও মার্টিন উলাকট ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের বর্ণনা ছিল সবচেয়ে বিস্তারিত বর্ণনার একটি। ওই দিন কী হয়েছিল এবং তার পেছনে কী কী কাজ করেছে তার অনেক কিছুই বেরিয়ে এসেছিল তাদের লেখনিতে। ওই প্রতিবেদন ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ান ২৮ আগস্ট, ১৯৭৫ তাদের লিড নিউজ হিসেবে প্রকাশ করেছিল।

বঙ্গবন্ধু-১৫ আগস্টএর চার বছর পর ১৯৭৯-র ১৫ আগস্ট লিফশুলজ শেখ মুজিবুর রহমানের উৎখাতের সেই সেনা অভ্যুত্থানের পেছনের চক্রান্ত নিয়ে আরেকটি লেখা লিখেন। সেটাও গার্ডিয়ানে প্রকাশিত হয়েছিল।

প্রতিবেদনটিতে লিফশুলজ লিখেছিলেন, ‘ঢাকায় আমেরিকান দূতাবাসে কর্মরত মার্কিন কর্মকর্তা এবং বিস্তারিত জানা বাঙালি কিছু সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই বঙ্গবন্ধু হত্যার জন্য ঘটানো সেনা অভ্যুত্থান সম্পর্কে জানত। এমনকি আমেরিকান দূতাবাসের কয়েকজন কর্মকর্তা হত্যাকা-ের ছ’মাসেরও বেশি সময় আগে বিদ্রোহ পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনায় বসেছেন।’

‘বিভিন্ন প্রতিবেদনে কোনো বিদেশি বা বাঙালি সাংবাদিকই ভাসাভাসা কথাগুলোর গভীরে গিয়ে কিছু জানার চেষ্টা করেননি। সেনা কর্মকর্তারা একাই ঘটনাটা ঘটিয়েছিলেন কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা ছাড়াই – এই ব্যাখ্যার সংস্করণটি একটি মিথ, যাকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল,’ লিখেছিলেন লিভশুলজ।