Loading...
উত্তরকাল > বিস্তারিত > মতামত > বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান : কতিপয় প্রসঙ্গ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান : কতিপয় প্রসঙ্গ

পড়তে পারবেন 9 মিনিটে

।। অনুপম হাসান ।।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় যে শিশুর জন্ম হয়েছিল, নিঃসন্দেহে সেদিন ঐ বাড়িতে আনন্দ উৎসব হয়েছিল সংসারে নতুন অতিথির আগমনে। কিন্তু ঐ শিশুই একদিন যে বাঙালি জাতির ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন এবং বাঙালি জাতিকে দীর্ঘ পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে মর্যাদান্বিত করবেন— সেকথা সেদিন কেউ ভাবেনি। তবে একথা সত্য, মধুমতির তীরে বঙ্গবন্ধু যখন শৈশব-কৈশোর পেরিয়ে বেড়ে যৌবনে পা দিচ্ছেলেন তখন থেকেই বয়স্ক এবং অভিজ্ঞ-দূরদর্শী রাজনীতিকেরা তাঁর মধ্যে সুপ্ত নেতৃত্ব ও প্রতিভাগুণের সন্ধান লাভ করেছিলেন। কলেজে লেখাপড়া করার সময় থেকেই তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং বয়স্ক রাজনীতিক হোসেন শহীদ সোহাওয়ার্দীর স্নেহাশীর্বাদে বঙ্গবন্ধু ক্রমেই পূর্ব-বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গনে একচ্ছত্র জনপ্রিয়তা অর্জনের দিকে এগিয়ে যান। মূলত ১৯৪৭ সালের দেশ-বিভাজনের পর থেকেই বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ মোড় সূচিত হয়েছিল। কারণ, সাতচল্লিশের দেশ-বিভাজনের পর থেকে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব-বাংলা তথা পূর্ব-পাকিস্তানের সঙ্গে বিমাতা সুলভ আচরণ শুরু করে। অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনায় উদ্বুদ্ধ এবং দূরদর্শী রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় বঙ্গবন্ধু তখনই অনুভব করেছিলেন কখনো পূর্ব-পাকিস্তানের সঙ্গে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সদাচরণ করবে না। ফলে তিনিও এ সময় থেকে বাঙালি জাতির ওপর শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক মানসিকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। এরপর প্রায় দীর্ঘ দুই যুগব্যাপী নানা রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাত ও বন্ধুর পথ অতিক্রম করে বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তাঁর বজ্রকণ্ঠে বাংলার স্বাধীনতার কথা বললেন। তিনি ঘোষণা দিলেন, বাঙালিকে আর দাবিয়ে রাখা যাবে না, তারা মুক্তি চায়, তারা চায় স্বাধীনতা।

প্রসঙ্গত বলার অপেক্ষা রাখে না, ১৯৪৭-’৭১ পর্যন্ত সময়পর্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলা ও বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হয়েছিলেন। বলা ভুল হবে না, তাঁর নির্দেশেই তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের সর্বস্তরের নাগরিক বিনাবাক্যে মেনে নিতেন। তাঁর এই অর্জন সম্ভবত পৃথিবীর কোনো নেতার সাথেই তুলনা যাবে না। কারণ, তিনি বক্তৃতায় সবসময় বাংলার জনগণকে ‘আমার মানুষ’ বলে উল্লেখ করতেন। পৃথিবীর দ্বিতীয় কোনো নেতা কিংবা জাতির জনক তাঁর মতো করে জনগণকে ভালোবাসতেন এবং বিশ্বাস করতেন এমন উদাহরণ পাওয়া দুষ্কর। এই মহামানবের আগমনে বাঙালি জাতি হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তি লাভ করেছিল তা অনস্বীকার্য। সেদিন টুঙ্গিপাড়ায় যদি বঙ্গবন্ধু না জন্মাতেন, তাহলে বাঙালি আজো হয়তো একটি পরাধীন জাতি হিসেবে অত্যাচার-নির্যাতন ও গ্লানি সহ্য করতে বাধ্য হতো। তিনি বাঙালি জাতির ত্রাতা ও মুক্তির প্রতীক।

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতি সত্তার মুক্তির সনদ ঘোষণা করেছিলেন ঐতিহাসিক ছয়দফা প্রস্তাবের মাধ্যমেই। তবে এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর তোফায়েল আহমেদ এক লেখায় কমরেড মণি সিংহের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছেন : ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫১ সালে কারাগারে থাকা কালেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরিকল্পনা করেছিলেন।’ (তোফায়েল আহমেদ, ‘বঙ্গবন্ধুর চেতনা অমর, অবিনশ্বর’, দৈনিক কালের কণ্ঠ, ঢাকা :  ১৬ আগস্ট ২০১০) মণি সিংহের এ বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয় বঙ্গবন্ধুর আজীবনের স্বপ্নই ছিল বাংলার স্বাধীনতা। ফলে ধারাবাহিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু বাংলা ও বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে গেছেন। ’৬৬-র ছয় দফা প্রস্তাব এবং ’৬৯-র গণ-অভ্যূত্থানের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন চূড়ান্ত পর্যায় উপস্থিত হয়। এ প্রসঙ্গে ’৭০-র নির্বাচনও ছিল বঙ্গবন্ধুর জন্য চূড়ান্ত রাজনৈতিক পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগকে জনগণও নিরঙ্কুশ সমর্থন প্রদান করে, ফরে বঙ্গবন্ধুর জন্য স্বাধীনতা অর্জনের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন সহজতর হয়ে ওঠে। ফলে ’৭১-র ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণটি তাৎক্ষণিক কোনো আবেগ হিসেবে দেখার অবকাশ আছে বলে মনে হয় না। রেসকোর্স ময়দানের ঐ ভাষণটির জন্যই যেন বঙ্গবন্ধু তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন। সাত মার্চের মাহেন্দ্রক্ষণে তিনি মঞ্চে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই যেমন তাঁর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছিল তেমনি হাজার বছরব্যাপী নিগৃহীত বাঙালি জাতিরও স্বাধিকার অর্জনের জন্য যে প্রতীক্ষা ছিল সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে। এজন্যই সেদিন বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে বাঙালি জাতিকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন : ‘এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম’। তিনি এই বাক্যটি বলার জন্য যেমন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনব্যাপী অপেক্ষা করেছেন তাঁর মতোই সমগ্র বঙালি জাতিও যেন অধীর প্রতীক্ষায় ছিল সাত মার্চের জন্য এবং বঙ্গবন্ধুর মুখ থেকে স্বাধীনতার সেই অমৃত বাণীটি শোনার জন্য। বঙ্গবন্ধু জানতেন সংগ্রাম ছাড়া স্বাধীনতা অর্জিত হবে না; আর সংগ্রাম মানেই প্রয়োজন আত্মত্যাগের। ঠিক এ কারণেই তিনি তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেছিলেন : ‘রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো, এদেশকে মুক্ত করে ছাড়বো ইন্শাল্লাহ।’ মহান স্বাধীনতার নেতা জানতেন, নির্বোধের মতো শুধু শত্রুর বুলেটের সামনে বুক পেতে দিলেই স্বাধীনতা আসবে না, সেজন্য তিনি একজন দক্ষ সেনাধ্যক্ষের ন্যায় ৭ মার্চের ভাষণে বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা দেন : ‘তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করবা।’ শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার এই আহ্বানের মধ্যে নিহিত আছে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার বিস্ময়কর ভূমিকা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পথে বাঙালি জাতি যে হাজার বছর ধরে সংগ্রাম করেছে, স্বপ্ন দেখেছে তা পূরণের সমস্ত উপায়ই বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে তুলে ধরেছিলেন জাতির সামনে। প্রথমত তিনি স্বাধীনতা অর্জনের জন্য, জাতিকে সংগ্রামী মনোভাব নিয়ে সাহসের পরিচয় দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এরপর তিনি বলেছেন, শুধু সাহস থাকলেই হবে না— থাকতে হবে আত্মত্যাগেরও মানসিকতা। তবে সাহস কিংবা আত্মোৎসর্গের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতা আসবে না, এজন্য দরকার হবে শত্রুর বিরুদ্ধে কৌশলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন, জনগণের শক্তিই পরিণামে চূড়ান্ত শক্তি। জনসাধারণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের সামনে শত্রুর আধুনিক অস্ত্র পরিণামে ব্যর্থ হবেই। এজন্যই তিনি নিরস্ত্র বাঙালিকে মানসিক শক্তি দিয়ে সশস্ত্র শত্রু বাহিনীকে মোকাবিলা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ৭ মার্চের বক্তৃতায়। এ প্রসঙ্গে বলা দরকার, বঙ্গবন্ধু শুধু শত্রুকে মোকাবিলা করার কথাই বলেননি, তিনি ঐতিহাসিক সেই ভাষণে বাঙালি জাতিকে জানিয়ে দিয়েছিলেন— কিভাবে অস্ত্রে সজ্জিত শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাতে হবে। তাই তো তিনি সেদিন বজ্রকণ্ঠে উচ্চারণ করেছিলেন : ‘আমরা তাদের ভাতে মারব, পানিতে মারব…’। একথার মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে শুধু একজন রাজনীতিক হিসেবেই বক্তব্য প্রদান করেননি, তিনি একইসঙ্গে ঐদিন বাঙালি জাতির হাজার বছরের স্বপ্ন পূরণের নায়ক হিসেবে সেনাপ্রধানের মতোও দিক-নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত একথাও বলা দরকার যে, ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদানের পর বঙ্গবন্ধুর বেঁচে থাকার কোনো নিশ্চয়তা ছিল না; তিনি এরকম আশঙ্কা করেছিলেন। তিনি অনুমান করেছিলেন, এই বক্তৃতা দেয়ার পর পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী হয় তাকে হত্যা করবে, নয়তো বন্দি করবে। অর্থাৎ মুক্ত অবস্থায় তিনি আর কখনো বাঙালি জাতির সামনে দাঁড়াতে পারবেন এমন নিশ্চয়তা ছিল না। সেজন্যই তিনি ঐদিন ভাষণে একথাও উল্লেখ করেন : ‘আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি…’। বাস্তবিকই তিনি আর মুক্ত থাকেননি, তাঁকে মুক্ত থাকতে দেয়নি পশ্চিমা শাসকচক্র; তাঁকে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয় ২৫ মার্চ মধ্যরাতের আগেই। এমন ঘটনার আশঙ্কা আছে জেনে-শুনে এবং বুঝেই বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণ প্রদান করেছিলেন ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ জনতার সামনে দাঁড়িয়ে। আর এ ঘটনা থেকে খুব স্পষ্ট বোঝা যায়, বঙ্গবন্ধু তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা অর্জনকেই তাঁর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে গণ্য করেছিলেন। এটা তিনি মনেপ্রাণে করেছিলেন বলেই জীবনের পরোয়া না করে তিনি ৭ই মার্চের ভাষণ প্রদান করেছিলেন। তিনি ঐ ভাষণ জনগণের সামনে উপস্থাপন করার আগেই উপলব্ধি করেছিলেন তাঁর এ জাতীয় বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পশ্চিমা শাসকচক্র তাঁকে হত্যা কিংবা গ্রেফতার করতে পারে। এমন সম্ভাবনার কথা জেনে-শুনেই বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত নির্দেশ প্রদান করেছিলেন বীরদর্পে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের প্রদত্ত ভাষণের প্রতিটি কথাই পরবর্তী পর্যায় সত্যে পরিণত হয়েছিল। ২৫ শে মার্চ মধ্যরাতের আগেই তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং এরপর নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালি ওপর পশ্চিমা সামরিক বাহিনী চালায় অকথ্য নির্যাতন ও নির্মম হত্যাকা-। সাময়িকভাবে বাঙালি জাতি বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে পশ্চিমাদের আক্রমণে। কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই বাঙালি জাতির মনে পড়ে বঙ্গবন্ধুর দেয়া ৭ই মার্চের ভাষণের কথা, তাঁর নির্দেশের কথা। ফলে সমগ্র বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য চার রাজনৈতিক সহকর্মীর নির্দেশনায় সুসংগঠিত হয়ে বঙ্গবন্ধুর কথানুযায়ী বাংলার ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলে হানাদার পশ্চিমা সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে। নিরস্ত্র বাঙালি একাত্তরে শুধু শেখ মুুজিবের ৭ই মার্চের অভয়বাণীর প্রেরণায় ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস পেয়েছিল হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। এরপর ৯ মাসব্যাপী সুফলা সুজলা বাংলায় চলে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। তবে মুহূর্তের জন্যও জাতি ভোলেনি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক দিক্-নির্দেশনা। যার অনিবার্য ফল হিসেবে বাঙালি জাতি একাত্তরের ১৬ই ডিসেম্বর ঘরে তুলেছিল স্বাধীনতা, লাল সবুজের একটি সার্বভৌম পতাকা। বাঙালি জাতির হাজার বছরের স্বাধীনতা অর্জনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে, বাঙালি পেয়েছে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের ওপর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার। বাঙালি জাতির মাথা উঁচু করে জাতীয় পরিচয় দেয়ার এই অহংকার অর্জনের পেছনে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের অনুপ্রেরণা না থাকলে তা অদ্যাবধি সম্ভব হতো কিনা নিশ্চিত করে বলা যায় না।

এভাবে বিবেচনা করলে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ আখ্যা দেয়া যায়। যে সনদ বাঙালিকে স্বাধীনতা অর্জনের পথ দেখিয়েছিল। যে দিক্-নির্দেশনা না থাকলে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করতে পারতো না। ফলে দলমত নির্বিশেষে সমগ্র বাঙালি জাতির উচিত বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে শ্রদ্ধা করা এবং স্বাধীনতা অর্জনের মূলমন্ত্র হিসেবে মূল্যায়ন করা। সর্বোপরি ৭ মার্চের ভাষণের তাৎপর্য অনুধাবন করে বঙ্গবন্ধুকে তাঁর প্রাপ্য আসনে অধিষ্ঠিত করে তাঁকে মর্যাদা দেয়া। আর তাঁকে সম্মানিত করা কিংবা মর্যাদা দেয়া মানে পক্ষান্তরে নিজেকেই গৌরবান্বিত করা।

একালের রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন এবং অসৎ রাজনীতিকের ভিড়ে কুচক্রী একটি মহল যারা এদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল একাত্তর সালে তাঁরাই বঙ্গবন্ধুর মতো মহামানবকে নিয়ে কটূক্তি করে। কিংবা তাঁর মতো একজন আদর্শবান জনদরদী নেতাকেও বিতর্কিত করা হয়েছে বাংলাদেশে। কিন্তু একথা আমাদের মনে রাখা উচিত যে, তিনিই বাঙালিকে মুক্তি এবং পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্ত করেছিলেন। শুধু তিনি কেন, পুরো বঙ্গবন্ধু পরিবারই তো বাংলা এবং বাঙালি জাতির জন্য জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দিয়েছেন। সুতরাং রাজনীতিতে যতোই নোংরামি প্রবেশ করুক কিন্তু এসব নোংরামির ঊর্ধ্বে রাখা উচিত বঙ্গবন্ধুকে। এদেশের তাঁর মতো দ্বিতীয় কোনো নেতা কিংবা মানুষের যে জন্ম হয়নি, তা বিবিসি কর্তৃক জরিপে প্রমাণিত হয়েছে। ব্রিটিশরাই বঙ্গবন্ধুকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে উপাধিতে ভূষিত করে তাঁকে সম্মানিত করেছেন। বলাবাহুল্য, এই জরিপের তালিকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো বিশ্বকবির স্থান হয়েছে দ্বিতীয় নম্বরে। অতএব বাংলাদেশের রাজনীতিতে একালের রাজনীতিকগণের দায়িত্ব এবং কর্তব্য অন্তত তারা যেন বঙ্গবন্ধুর মতো মহান রাজনীতিবিদকে কোনো ধরনের বিতর্কে না জড়ান এবং তাঁকে জাতির জনক হিসেবে এক কথায় মেনে নিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক কলুষতা থেকে তাঁকে দূরে রাখেন। অন্যথায় আমাদের উত্তরপ্রজন্মের নিকট ইতিহাসের সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়া যাবে না। যে জাতি তার ইতিহাসকে কলুষিত করে সে জাতি কখনোই বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না। আমাদের প্রত্যাশা ইতিহাসের সত্য গোপন না করে কিংবা প্রকৃত ইতিহাসকে বিকৃত না করে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিকট পৌঁছে দেয়া। কারণ, যে জাতির ইতিহাসের জ্ঞান নেই, সেই জাতি কোনোভাবেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে না। ইতিহাসের প্রকৃত সত্য সমুন্নত রাখার দায়িত্ব সমগ্র বাঙালি জাতির।

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি সংরক্ষণ

নৃতাত্ত্বিক এবং ঐতিহাসিক দিক থেকে বিবেচনা করলে দেখা যায়, বাঙালি জাতি সহজেই অতীত ভুলে যায়। বলা যায়, বাঙালি হচ্ছে ‘ভুলোমন’ জাতি। বাঙালি জাতির অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে অনুমান করতে অসুবিধা হয় না যে বাঙালি জাতি ইতোমধ্যেই তার নিকট অতীতের কথাও ভুলে গেছে। এ কথার সত্যতা প্রমাণের জন্য বেশি দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ, আমাদের সামনেই রয়েছে নিকট অতীত ‘একাত্তর’। একাত্তরে বাঙালি জাতির ওপর যে নির্মম নিষ্ঠুর আচরণ করেছিল পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী, তা ইতোমধ্যে এ জাতির নিকট বিস্মৃতপ্রায়। প্রমাণ হিসেবে স্বরূপ বলা যায়, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী রাজাকার আল-বদর, আল-শামস বাহিনী, যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের বিরোধিতা করেছে হত্যা করেছে নিরীহ-নিরস্ত্র বাঙালিকে এবং মুক্তিসেনাদের, সম্ভ্রম হরণ করেছে মা-বোনের; বাঙালি জাতি সেই অপরাধীদের জঘন্য কৃতকর্মের কথাই ভুলতে বসেছে। ভুলতে বসেছে কি, বলা যায় ভুলেই গেছে। তা না হলে সেই একাত্তরের ঘৃণ্য অপরাধীদেরকে এ জাতি ভোট দিয়ে দেশের পবিত্র পার্লামেন্ট ভবনে পর্যন্ত গমনের অধিকার দিয়েছে। বাঙালির স্মৃতি ভ্রষ্টতার এমন অনেক উদাহরণ দেয়া যায়; একাত্তরের মতোই বাঙালি নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের কথাও ভুলে গেছে। কিন্তু কোনো জাতিকে সমৃদ্ধি ও গৌরব অর্জন করতে হলে অবশ্যই সেই জাতিকে তার অতীত ইতিহাস স্মরণ রাখতে হবে। কারণ, অতীতের ভিতের ওপরই নির্মিত হবে ভবিষ্যতের গৌরবগাথা। বাঙালি জাতি যেহেতু অতীতের কথা ভুলে যায়, অতীত সেই স্মৃতি দুঃখের কিংবা আনন্দের যাই হোক না কেন; এজন্যই বাঙালি জাতিকে তার ইতিহাস ঐতিহ্য কিংবা জাতীয় গর্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার বাস্তবসম্মত ও বৈজ্ঞানিক উপায় অবলম্বন করা দরকার। বর্তমান সরকার হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁর প্রতিকৃতি দেশের অফিস আদালতের দেয়ালে টানানো বাধ্যতামূলক করেছে। এই স্বীকৃতি কিংবা রাষ্ট্রীয় নির্দেশ যাতে সহজেই অমান্য করা না যায়, সেজন্য সরকার সংবিধানের প্রথম ভাগের ৩ ও ৪ নং অনুচ্ছেদের পরিবর্তন করেছে। সরকারের এই মহতী উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তবে একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর কৃতিত্বকে বাঙালি জাতির সামনে আরো স্থায়ীভাবে ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে ধরে রাখার উদ্যোগ নেয়ার কথাও সরকার ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে গ্রহণ করার কথা বলতে চাই।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক কৃতিত্ব ও গৌরবগাথা ‘ভুলোমন’ বাঙালি জাতিকে সবসময় স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য শুধু সংবিধান পরিবর্তন কিংবা বই পুস্তকে তাঁর জীবনী পাঠ্যক্রমের আওতাভুক্ত করা অথবা কোনো প্রতিষ্ঠান বা সেতুর নাম রাখার মধ্য দিয়ে সম্ভবপর নয়। ইতোমধ্যে এই প্রক্রিয়া যে দীর্ঘস্থায়ী হয় না, তা প্রমাণিত হয়েছে। কেননা বিগত সরকারের পরিবর্তনগুলো পরবর্তীতে ভিন্ন রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হলে মুছে দেয়— এরকম একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়ে গেছে বাংলাদেশে। ফলে ভবিষ্যতে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হলে তারা সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে, পাঠ্যপুস্তকের সিলেবাস তারাও পরিবর্তন করতে পারে এবং বর্তমানের সংযোজন জাতির পিতার বঙ্গবন্ধুর জীবনী বাদ দিতে পারে। এছাড়া রাতারাতি প্রতিষ্ঠানের নাম কিংবা সেতুর নাম মুছেও দিতে পারে। বলাবাহুল্য, এ ধরনের ঘটনার উদাহরণ আমাদের অজানা নয়। অথবা বলা যায় আমাদের এ জাতীয় আশংকা যে অমূলক নয়, তা বিগত দিনগুলোতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রতীয়মান হয়েছে। মহাজোট সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধুর ‘হত্যা দিবস’ ১৫ই আগস্ট ‘জাতীয় শোকদিবস’ পালিত হলেও তা বিগত সরকারের আমলে উপেক্ষিত হয়েছিল।

অতএব, এসব আশংকার কথা মাথায় রেখেই আমরা চাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি ও কীর্তিগাথা চির অম্লান, চির জাগরূক রাখার ব্যাপারে বর্তমান মহাজোট সরকার আরো বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তকে কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা সেতুর নামকরণের মাধ্যমে যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তা রাজনৈতিক পালাবদলে পুনরায় পরিবর্তিত হওয়ার শঙ্কা থেকেই যায়। এজন্য শুধু নাম লেখার মাধ্যমে বাঙালির মনে কিংবা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক কৃতিত্বকে পৌঁছে দেয়ার প্রক্রিয়া ছাড়াও অতিরিক্ত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

শেষকথা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মহান কৃতিত্বকে ধরে রাখার জন্য তাঁকে জাতির সামনে বিমূর্ত নয় মূর্তরূপে দৃশ্যমান করে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ হচ্ছে বর্তমান মহাজোট সরকার ও আওয়ামী লীগের মাননীয় সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যেন জাতির পিতার স্মৃতি ও কীর্তিগাথা স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের স্বার্থে তাঁর ভাস্কর্য নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ম্যুরাল নয়, ভাস্কর্যের মাধ্যমে বাঙালি জাতির সামনে বঙ্গবন্ধুর কৃতিত্বকে সর্বদা দৃশ্যমান রাখার উদ্যোগ নেয়ার বিকল্প নেই। আমরা মনে করি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কৃতিত্বের কথা বাঙালির সামনে সর্বদা দৃশ্যমান রাখার লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে অন্তত আমাদের ছয়টি বিভাগীয় শহরের কেন্দ্রস্থলে তাঁর ভাস্কর্য নির্মাণ করা দরকার। এছাড়াও বিভিন্ন বিনোদন পার্ক ও পর্যটন স্থলেও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করার কথাও যেন সরকার বিবেচনায় রাখেন। ভাস্কর্য নির্মাণের ক্ষেত্রে বিষয় হিসেবে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে যেমন প্রেক্ষাপট হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে, তেমনি এ বিষয়ে আরো সুন্দর কোনো ধারণা আমাদের ভাস্করদের নিকট থেকেও সরকার গ্রহণ করতে পারেন।

প্রকল্পিত এ প্রস্তাবের চেয়েও উত্তম উপায় থাকতে পারে; জাতির পিতার গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতি ধারণ করার এর চেয়েও হয়তো কোনো সুন্দর বা অভিনব ধারণা আমাদের দেশের সৃজনশীলদের নিকট থাকতে পারে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘ভুলোমন’ বাঙালি জাতির সামনে বঙ্গবন্ধুকে ভাস্কর্য শিল্পের মাধ্যমে দৃশ্যমান করে তোলা অত্যন্ত জরুরি। রাস্তাঘাটে বিনোদন পার্কে যদি বঙ্গবন্ধুর কান্তিমান সৌষ্ঠব পৌরুষদীপ্ত দেহাবয়াবের ভাস্কর্য বসিয়ে দেয়া যায় তাহলে চলতে ফিরতে চোখের সামনে পড়া মূর্তিটি এ জাতিকে সর্বদা প্রশ্নবিদ্ধ করবে। এবং একইসঙ্গে পরবর্তী প্রজন্মকেও স্মরণ করিয়ে দেবে জাতির পিতার মহৎ কীর্তির কথা। বলাবাহুল্য, এ প্রস্তাবনা নিঃসন্দেহে অভিনব নয়; কারণ আমাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতের দিকে তাকালেই আমার দেয়া প্রস্তাবনার উদাহরণ চোখে পড়বে মহাত্মা গান্ধীর ভাস্কর্য প্রত্যক্ষ করার মধ্য দিয়ে। এছাড়া আমেরিকা, ইটালি কিংবা ইংল্যান্ডেও এ জাতীয় উদাহরণ যে বিরল নয়, তা বলার অবকাশ নেই।

সুতরাং বর্তমান সরকার অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি যদি আমার প্রস্তাবনা বিবেচনা করেন, তাহলে নিশ্চয় এর তাৎপর্য অনুধাবন করতে পারবেন। জাতির পিতার অন্যূন ছয়টি ভাস্কর্য ছয়টি বিভাগীয় শহরে নির্মাণের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা। বলাই বাহুল্য, ছয়টি বিভাগীয় শহরে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করার পরও যদি সম্ভব হয় তাহলে বিনোদন পার্কসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করার কথা বিবেচনায় রাখা। প্রসঙ্গত বলা ভালো, ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের ঐতিহাসিক স্থান বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) যেন অতি অবশ্যই একটি ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। আমরা বিশ্বাস করি, জাতির পিতার ভাস্কর্য নির্মাণ করে যদি আমরা তা যথাস্থানে স্থাপন করতে পারি তাহলে আর সহজেই বঙ্গবন্ধুর গৌরবগাথার কথা বাঙালি জাতি চাইলেও ভুলে যেতে পারবে না। অথবা ভিন্ন রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়েও তাঁর ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। কোনো জাতীয় নেতার স্থাপত্য নিদর্শন ভাঙার পূর্বে সেই দলের কর্মী-সমর্থকরাও বিবেকের দংশনবিদ্ধ হবেন।

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ধরে রাখার নানান উদ্যোগের মাঝে আমাদের এ প্রস্তাবনাও একটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলবো সরকারকে। আমাদের প্রস্তাবনা কার্যকরী হলে আশা করি, জাতির জনকের গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতি বাঙালি জাতির নিকট চাক্ষুস হবে, ফলে সেই দৃশ্যমান মূর্তিটি এ জাতিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অমর কীর্তির কথা অন্তত ভুলে যেতে দেবে না। তাছাড়া, এটি আলাদা শিল্প মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকে ধারণ করারও একটি উদ্যোগ বটে; যে শিল্প মাধ্যম অন্যান্য শিল্প মাধ্যমের চেয়ে অধিকতর জীবন্ত। আশাকরি সরকার আমাদের প্রস্তাবনা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকে স্থায়ী করার লক্ষ্যে তাঁর ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

অনুপম হাসান : শিক্ষক ও গবেষক।

সবশেষ আপডেট

উত্তরকাল

বিশ্বকে জানুন বাংলায়

All original content on these pages is fingerprinted and certified by Digiprove
%d bloggers like this: