।। কনটেন্ট এডিটর, সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক ।।

“হজের প্রধান সূচি আরাফাতের ময়দানে সমাবেশের দিন রোববার আরাফাতে ঝড়বৃষ্টির পর সোমবার মক্কায়ও বৃষ্টি হলো। সৌদি আরবে বৃষ্টি যেন দুর্লভ প্রাকৃতিক ঘটনা। আর হজের সময়, গ্রীষ্মকালে হলে, তা তো আকাঙ্ক্ষার চেয়ে বেশি। কারণ ৪০-৪২ সেলসিয়াসে চামড়াপোড়া রোদের দিনে বৃষ্টি কিছু সময়ের জন্য তাপমাত্রা কমায়। হাজিদের কাছে এটা ‘আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি’।” এভাবেই এই হজে মক্কায় এক দুর্লভ অভিজ্ঞতার কথা নিজের ফেসবুক পেজে জানিয়েছেন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু।

ভিডিওটি সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু শেয়ার করেছেন তার ফেসবুক পেজে

একাধিক ছবিসহ তিনি লিখেছেন, “হজের তিন ফরজের শেষেরটি তাওয়াফে যিয়ারত। এটি সম্পন্ন করতে কাবা শরীফে গিয়েছি ১১ই জিলহজ ফজরের নামাজ পড়ার কিছু পরে। মসজিদুল হারামে ঢোকার সময় নির্মেঘ আকাশে সকালের রোদ চড়চড়ে হয়ে তেতে উঠছে কেবল। তাওয়াফ মানে কাবাঘরের চতুর্দিকে সাতবার পরিক্রমণ। এরপর ওয়াজিব কাজ সায়ী (সাফা-মারোয়া পাহাড়ের মাঝে সাতবার দৌড়াদৌড়ি) সেরে ভিড়ের কারণে বেরুতে বেরুতে বেলা ১টা বেজে গেল। তখনই দেখলাম মক্কার আকাশে মেঘ প্রবল সূর্যকে ঢেকে দেওয়ার মল্লযুদ্ধে লিপ্ত। হাঁটতে হাঁটতেই ছবি তুললাম।”

সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জুর তোলা ছবিতে মক্কার আকাশে ঘন-কালো মেঘ

সোমবারের অভিজ্ঞতা তাৎক্ষণিক জানাতে না পারলেও বুধবার ফেসবুকে পোস্ট দেন তিনি। ভোরের কাগজ, প্রথম আলো, সমকাল, আমাদের সময় ও সকালের খবরের মতো দৈনিক পত্রিকায় বার্তা সম্পাদক থেকে সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করা এই সাংবাদিক লিখেছেন, “দিনের আরেক কর্মসূচি মিনার জামারাতে গিয়ে ছোট, মেঝ, বড় তিন শয়তানকে তিন স্তম্ভে প্রতীকী ঢিল মারা। ঢিল বলতে পাথরের ছোট ছোট টুকরো, কঙ্কর, যা আরাফাত থেকে আসার পথে মুজদালিফায় কুড়িয়ে রাখা। অগণিত নরনারী তীর্থযাত্রীর কাফেলা রাস্তায়। হেঁটে, মোটরগাড়িতে। হাঁটাই দ্রুতগতির। গাড়ি স্লথ। বেলা তিনটে নাগাদ দেখি কাফেলা দ্বিমুখী। সংখ্যায় কম হলেও ওদিক থেকে মক্কামুখী মানুষ আসছে। জামারাতে ঢিল মারার বিধান সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়া তথা দুপুর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ে। আর কাবা তাওয়াফের কোনো সময়সীমা নেই। ২৪ ঘণ্টাই। তাই হজের আচার পালনে সুবিধামতো হাজীরা কেউ আগে কাবায়, কেউ আগে জামারাতে যান। শেষোক্তরা এখন মক্কামুখী। (তবে আগের দিন ১০ই জিলহজ শুধু বড় শয়তানকে জামারায়ে আকাবায় কঙ্কর মারা হয় ভোরে মুজদালিফা থেকে এসে; ফলে সব হাজীই তখন থাকেন।) গাড়িতে থাকতেই বৃষ্টি শুরু। আর জামারাতের অদূরেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ি এগুনো বন্ধ করে দেওয়ায় নেমে হাঁটতে হলো। তক্ষুনি ঝম ঝম বৃষ্টি। ভিজে একসা। ভারি বৃষ্টির মধ্যে অনেকের সংগে আশ্রয় নিলাম একটি ওভারব্রিজের নিচে। ভেজা ব্যাগের ভেতর থেকে কোনোমতে সেলফোনটি বের করে মক্কার বৃষ্টির কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও ধরে রাখলাম। বৃষ্টির ফোঁটা ছোট হয়ে এলেই আবার কাফেলায় মিশে গেলাম। তার আগে ব্রিজের নিচে থেকে বৃষ্টিস্নাত মিনার পাথুরে পাহাড়ের ছবি।”