।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

দুই বছর আগে ঢাকার পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে অবস্থান নিয়ে নব্য জেএমবির এক জঙ্গির জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচিতে ‘হামলা পরিকল্পনার’ সঙ্গে আরও ১৪ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

ওই ঘটনার তদন্ত ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে জানিয়ে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম রোববার বলেছেন, সন্ত্রাস বিরোধী আইনের এ মামলার অভিযোগপত্র অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সরকারের অনুমোদন পেলেই তা আদালতে দাখিল করা হবে।

২০১৭ সালে ১৫ অগাস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান চলার মধ্যেই ৩০০ মিটার দূরে পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে অভিযান চালান কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও সোয়াট সদস্যরা। কয়েক ঘণ্টা ধরে ওই অভিযানের এক পর্যায়ে চারতলা হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনাল থেকে বিকট বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ পাওয়া যায়। বিস্ফোরণে হোটেলের চতুর্থ তলার রাস্তার দিকের অংশের দেয়াল ও গ্রিল ধসে নিচে পড়ে।

পরে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, সাইফুল ইসলাম নামে নব্য জেএমবির এক সদস্য আত্মসমর্পণের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সে ‘সুইসাইড ভেস্টে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী’ হয়েছেন।

সাইফুল ছাড়া আর যাদের নাম অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, তারা হলেন- আকরাম হোসেন ওরফে নিলয়, তার মা সাদিয়া হোসেন লাকি, বাবা আবু তুরাব খান, বোন তাজরীন খানম শুভ, তানভীর ইয়াসীন কবির তার স্ত্রী হুমায়রা জাকির নাবিলা, আব্দুল্লাহ আয়চান কবিরাজ, আবুল কাশেম ফকির, লুলু সরদার ওরফে শহিদ মিস্ত্রী, তাজুল ইসলাম ছোটন, নাজমুল হাসান মামুন, নব মুসলিম আবদুল্লাহ, কামরুল ইসলাম শাকিল এবং তারেক মোহাম্মদ আদনান।

এই ১৪ জনের সবাই গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন এবং তাদের মধ্যে দশজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে রোববার পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল।

তিনি বলেন, এরা প্রত্যেকেই নব্য জেএমবির সদস্য। গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে যখন জঙ্গিরা কোনঠাসা, তখন নিলয় এ সংগঠনের দায়িত্ব নেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নিজেদের অবস্থানের জানান দিতে জাতীয় শোক দিবসে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের ওপর বোমা হামলা চালানোই ছিল জঙ্গিদের এই দলটির উদ্দেশ্য।

তিনি আরো বলেন, হামলার ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হল নিলয়। তাদের প্রত্যেকের কাজ ভাগ করা ছিল। তাদের অর্থ যোগানদাতা ছিলেন তানভীর, তার স্ত্রী এবং নিলয়ের মা-বাবা ও বোন। বোমার সরঞ্জাম সরবরাহ করেন কাশেম, শহিদ মিস্ত্রী ও ছোটন।

মনিরুল বলেন, সরবরাহ করা ওই সরঞ্জাম দিয়ে বোমা বানিয়েছিলেন মামুন। বাকি চারজন ছিলেন তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সহায়তাকারী ও আশ্রয়দাতা।

হামলা পরিকল্পনায় জড়িত ১৫ জনের মধ্যে সাইফুলের মৃত্যু হওয়ায় বাকি ১৪ জনের নামে আমাদের অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানান কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান।