।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

পাকিস্তানের বৃহত্তম নগরী করাচিসহ সিন্ধু প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা ভারি বৃষ্টিপাতের সময় বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত করাচিতে টানা ১২ ঘণ্টা বৃষ্টিপাতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ডন।

এতে করাচির দুর্বল বৈদ্যুতিক অবকাঠামো ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বিভিন্ন সড়কে ট্র্যাফিক জ্যাম শুরু হয় ও নগরীর কয়েকটি এলাকা পানিতে তলিয়ে যায় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

করাচির স্থানীয় সময় রাত ৮টায় সর্বোচ্চ ৬৯ দশমিক চার মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় বলে পাকিস্তান আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা ধরে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা। রাত নামার পর করাচির পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে বলে জানা গেছে।

এদিন করাচির আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তা সরদার সরফরাজ বলেন, আজ সকালে সিন্ধুতে বহু প্রতীক্ষিত বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা ধরে করাচিতে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি আমরা। বর্তমানে এই অঞ্চলে দুটি চক্র সক্রিয় আছে, এর একটির উৎপত্তি আরব সাগরে আর অপরটির বঙ্গোপসাগরে।

দুই মাস তীব্র গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া বিরাজ করার পর বৃষ্টি করাচিবাসীর জন্য স্বস্তির বয়ে নিয়ে এলেও ব্যাপক দুর্ভোগেরও কারণ হয়। নগরীর দুটি প্রধান সরকারি হাসপাতাল নয়টি মৃতদেহ গ্রহণ করে। নিহতদের মধ্যে পাঁচ জনই কিশোর বয়সী।

বৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত কারণে এদের সবার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। অধিকাংশ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন।

বৃষ্টিজনিত কারণে সিন্ধু প্রদেশের অন্যান্য এলাকায় আরও সাত জন মারা গেছেন। এদের মধ্যে পাঁচ জন বজ্রপাতে, একজন ঘরের ছাদ ধসে ও অপর একজন পাহাড়ি ঢলে ভেসে গিয়ে নিহত হয়েছেন।

এসব ঘটনার জন্য সিন্ধুর প্রাদেশিক সরকার ও করাচির নগর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায় দেওয়া হলেও তাদের দাবি, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে রকমভাবে তুলে ধরা হচ্ছে পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক ভালো।

Digiprove sealCopyright protected by Digiprove © 2019
Acknowledgements: বিডিনিউজ
All Rights Reserved