।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

এবারের বর্ষা মওসুমে এডিস মশার প্রাদুর্ভাব ও ডেঙ্গুর প্রকোপ যে বাড়তে পারে, সে বিষয়ে সিটি করপোরেশনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল বলে জানালো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

মশা নিয়ন্ত্রণ ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যেই সরকারের আরেক দপ্তর থেকে এমন বক্তব্য এলো। 

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বশেষ প্রস্তুতি জানাতে সোমবার মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক ডা. সানিয়া তাহমিনা ঝরা বলেন, প্রাণঘাতি এ রোগ যে ঢাকার বাইরেও ছড়াতে পারে, সেই আশঙ্কার কথাও তারা আগেই জানিয়েছিলেন।

“হ্যাঁ, আমরা ধারণা করতে পেরেছিলাম। ডাক্তারদেরকে ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই সতর্ক করা হচ্ছিল যাতে তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রস্তুতি নিতে পারে।”

ডা. সানিয়া জানান, মার্চ মাসে তারা ঢাকায় এডিস মশার বিষয়ে জরিপ চালান। তখনই সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে রাখা হয়েছিল।

“আশঙ্কা থেকেই আমরা ডেঙ্গু গাইডলাইন আপডেট করেছি। ইতোমধ্যে প্রতিটি জেলাশহরে ডেঙ্গু টেস্ট কিট পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

ঢাকায় এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুজ্বরে প্রকোপ বাড়তে শুরু করে গত জুন মাস থেকে। জুলাইয়ের শেষে এসে তা রাজধানীর বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে। এবার ডেঙ্গুর লক্ষণ ও উপসর্গগুলো আলাদা হওয়ায় শুরু থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন চিকিৎসকরা।

এই পরিস্থিতিতে মশা নিধনে ব্যর্থতার জন্য ঢাকার দুই মেয়র সাঈদ খোকন ও আতিকুল ইসলাম তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। এই নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে হাই কোর্টের একজন বিচারক বলেন, পৃথিবীর আর কোনো দেশে মশা মারতে আদালতকে রুল দিতে হয় না।

মেয়র সাঈদ খোকন অবশ্য পরিস্থিতি ‘নিয়ন্ত্রণে’ আছে বলেই দাবি করে আসছিলেন। ডেঙ্গু আক্রান্তের তথ্য নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ে ‘ছেলেধরার মত গুজব’ ছড়ানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

তবে রোববার ঢাকার এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীদের দেখতে গিয়ে তিনিও স্বীকার করেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখন ‘উদ্বেগজনক’।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৮২৪ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়তে থাকায় রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে রোগীদের স্থান সঙ্কুলান হচ্ছে না। ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ সরকারি হাসপাতালগুলোতে নির্ধারিত শয্যার বাইরেও মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে রোগীদের।

তবে বেসরকারি হাসপাতালগুলো ধারণক্ষমতার বাইরে রোগী ভর্তি করছে না। ফলে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্তদের নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে দৌড়াতে হচ্ছে স্বজনদের।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে রোববার পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১ হাজার ৬৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী। এ সময়ের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮ হাজার ৭২৫ জন।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ২০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমে এলেও সরকারি হিসাবে এখনও মৃতের সংখ্যা আটজন।

মৃতের সংখ্যা ও হাসপাতালে ভর্তির প্রকৃত সংখ্যা কেন জানা যাচ্ছে না- এই প্রশ্নে ডা. সানিয়া বলেন, “বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে বার বার বলার পরেও তাদের অনেকে তালিকাগুলো দেয়নি। তারা ডেঙ্গু রোগী সামলাতে গিয়ে অনেক চাপে আছে হয়তো।”

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ডেঙ্গু পরীক্ষায় বেঁধে দেওয়া ফি ঠিকমত আদায় হচ্ছে কিনা- সে বিষয়ে নজরদারি করতে অধিদপ্তরের ১০টি দল সোমবার থেকে মাঠে নেমেছে।

পাশাপাশি প্রতিটি হাসপাতালে ‘ডেঙ্গু কর্নার’ এবং বিষয়টি তদারকি করার জন্য একজন ফোকাল পয়েন্ট নিয়োগ দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এছাড়া দেশের প্রবেশমুখগুলোতে, বিশেষ করে বিমানবন্দর ও স্থল বন্দরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আগামী বৃহস্পতিবার মেডিকেল কলেজগুলোর তত্ত্বাবধায়নে ঢাকার প্রতিটি জোনে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান চালাবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।