।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।। 

ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে ফিলিপাইন। চারটি অঞ্চলে মহামারী ঘোষণা করা হয়েছে আগেই। দেশজুড়ে ঘোষণা করা হয়েছে ‘জাতীয় ডেঙ্গু সতর্কতা’ও। এবার এক স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে নিগ্রোস অক্সিডেন্টাল প্রদেশের পাঁচটি এলাকায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ঘোষণার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রাদেশিক স্বাস্থ্যবিষয়ক কার্যালয়ের প্রধান ড. এরনেল তুমিমবাং-এর সেই প্রতিবেদন এরইমধ্যে গভর্নর ইউজেনিও ল্যাকসনের কাছে জমা দেয়া হয়েছে।

২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ফিলিপাইনজুড়ে শনাক্ত হয়েছে ১ লাখেরও বেশি ডেঙ্গু রোগী। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮৫ শতাংশ বেড়েছে। মিমারোপা, ওয়েস্টার্ন ভিসায়াস, সেন্ট্রাল ভিসায়াস ও নর্দার্ন মিন্দানাও-সহ চারটি অঞ্চলে মহামারী ঘোষণা করা হয়েছে। এসব এলাকায় ২ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস, যা ফিলিপাইনের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ। পাশাপাশি আরও ৯টি অঞ্চলের পরিস্থিতিও নজরে রেখেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

গত ২০ জুলাই ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য দফতরের দেয়া বিবৃতি অনুযায়ী, এ বছরের জানুয়ারি থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত সেদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪৯১ জনের প্রাণহানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি। গত বছর একই সময়ের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছিলো। এ পরিস্থিতিতে সম্প্রতি ‘জাতীয় ডেঙ্গু সতর্কতা’ জারি করে সেদেশের স্বাস্থ্য দফতর।

বিভিন্ন প্রদেশের পাশাপাশি নিগ্রোস অক্সিডেন্টালেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত নিগ্রোস অক্সিডেন্টাল প্রদেশে শনাক্ত হয়েছে ৩,৭৪৪ জন  রোগী। এ পরিস্থিতিতে প্রদেশটির কাবানকালান, বাগো, চাওয়াইয়ান, মুর্সিয়া ও চান্দনি এলাকায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ঘোষণার সুপারিশ করেছেন প্রাদেশিক স্বাস্থ্যবিষয়ক কার্যালয়ের প্রধান ড. এরনেল তুমিমবাং। কাবানকালানে ৪৯০ জন, বাগোতে ২৮৫ জন, চাওয়াইয়ানে ২২৮ জন, মুর্সিয়াতে ১৪৭ জন এবং চান্দনিতে ১৩৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বাগোতে ১ জন, চাওয়াইয়ানে ২ জন, মুর্সিয়াতে ১ জন ও চান্দনিতে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে গভর্নর ইউজেনিও ল্যাকসন নিগ্রোস অক্সিডেন্টাল প্রদেশে ডেঙ্গুজনিত উচ্চ সতর্কতা ঘোষণা করে নির্বাহী আদেশ নং ১৯-১৯ জারি করেন। 

ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, রোগীদের শারীরিক অবস্থাকে বিবেচনায় নিয়ে গ্রুপ এ, বি ও সি এ তিন ভাগে ভাগ করে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। যেসব রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে সক্ষম তাদেরকে রাখা হয়েছে গ্রুপ ‘এ’-তে। যাদের হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা সেবা দেয়া দরকার, তাদের রাখা হচ্ছে গ্রুপ বি-তে এবং যাদের আশু জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন তাদেরকে রাখা হয়েছে গ্রুপ সি-তে।

প্রতি তিন-চার বছর পর পর ফিলিপাইনে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। দেশটিতে সর্বশেষ প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিলো ২০১৬ সালে। সে প্রবণতা অনুযায়ী, এ বছরও আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জাতীয় সতর্কতা জারির উদ্দেশ্য হলো, রোগ মোকাবিলায় নজরদারি বাড়িয়ে দিতে আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আহ্বান জানানো, আক্রান্তের ঘটনায় ব্যবস্থাপনা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালগুলোতে জরুরি ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা বাড়ানো। এছাড়া কমিউনিটি ও স্কুলভিত্তিক স্বাস্থ্য শিক্ষা ক্যাম্পেইন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, নজরদারিমূলক কর্মকাণ্ড এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহ করাও এ সতর্কতা জারির উদ্দেশ্য।