।। আনাদুলু এজেন্সি, আঙ্কারা ।।

রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র গঠনকেই চলমান সংকটের সমাধান হিসেবে ভাবেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। এই রাষ্ট্র গঠন করতে মিয়ানমারকেই নির্দিষ্ট অঞ্চল রোহিঙ্গাদের জন্য ছেড়ে দিতে হবে বলে মনে করেন তিনি। শুক্রবার তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ব সংবাদ সংস্থা আনাদুলুকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার হিসেবে পরিচিত এই নেতা এমন কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ও চীনে উইঘুর সম্প্রদায়কে নিয়ে সৃষ্ট সংকট প্রসঙ্গেও খোলামেলা কথা বলেন।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মালয়েশিয়ার অবস্থান প্রশ্নে তিনি বলেন, “মালয়েশিয়া সাধারণত অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। তবে এক্ষেত্রে গণহত্যা জড়িত। সে কারণেই আমাদের অবস্থান গণহত্যা এবং মিয়ানমারের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে। সুতরাং, রোহিঙ্গারাও যে মিয়ানমারের নাগরিক তার স্বীকৃতি দিয়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।”

তিনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, “মিয়ানমার অবশ্যই একসময় অনেকগুলি আলাদা রাজ্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল। কিন্তু ব্রিটিশরা মিয়ানমারকে একক রাষ্ট্র হিসাবে শাসন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে অনেকগুলি জাতিগোষ্ঠী বার্মা নামক রাষ্ট্রে অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু এখন অবশ্যই তাদেরকে নাগরিক হিসাবে বিবেচনা করতে হবে অথবা নিজেদের রাষ্ট্র গঠনের জন্য তাদেরকে আলাদা অঞ্চল ছেড়ে দিতে হবে।”

এই প্রবীণ রাজনীতিক অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “আন্তর্জাতিক আদালত কেবল তখনই কাজ করতে পারে যখন কোনো বিষয়ে বিবাদমান পক্ষ আদালতের অনুসন্ধানগুলি মেনে নিতে রাজি হয়। আইসিজে যদি একতরফা সিদ্ধান্ত নিলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলি সে সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা নাও করতে পারে। সুতরাং, আইসিজের পদ্ধতিকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে আমাদের মিয়ানমার সরকারের বিষয়ও মাথায় রাখতে হবে।”

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল প্রশ্নে মাহাথির ফিলিস্তিন অঞ্চলের মধ্যে ইসরায়েলের স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করার কথা বলেন। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়গুলোর ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন তিনি।

এই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “উইঘুরদের নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য চীনকে আমাদের বলতে হবে।”

মাহাথির তুরস্ককে মালয়েশিয়ার বিকল্প বাণিজ্য অংশীদার হিসেবেও আখ্যা দেন আঙ্কারা সফরকালে দেয়া সাক্ষাৎকারে।