।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

রাজশাহীতে হাইকোর্টের নির্দেশের বরাত দিয়ে কাজলায় অবস্থিত বালুমহাল বন্ধে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বালু ব্যবসায়ী আজিজুল আলম বেন্টু। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তৎপরতাকে ‘উদ্দেশ্যমূলক’ বলে দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আমিন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী বেন্টু বলেন, “চলতি বছরের পহেলা বৈশাখ দরপত্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমি বালুুমহাল দুই কোটি দুই লাখ টাকায় পরিশোধ করে ইজারা নেই। জেলা প্রশাসনের বুঝিয়ে দেয়া সীমানার ভিতর চরশ্যামপুর মৌজা থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। পরিবহনের জন্য কাজলা মৌজার সড়ক ব্যবহার করা হচ্ছিল। ইজারার শর্তের উল্লেখ রয়েছে সুবিধামত স্থান দিয়ে বালু সরবরাহ করা যাবে।”

বুধবার জেলা প্রশাসনের টানিয়ে দেয়া সেই নোটিশ
আলোকচিত্র : মাহফুজুর রহমান রুবেল

মহানগর আওয়ামী লীগের এই সাংগঠনিক সম্পাদক ‘আকাশপথে বালু পরিবহনের সুযোগ নেই’ বলে উল্লেখ করে বলেন, “বুধবার (২৪ জুলাই) দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালত সেই বালুমহালের বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ করে দেয়া জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে সেখান থেকে বালু উত্তোলনে নিয়োজিত আটজন শ্রমিককে আটক করে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। একই সথে সেখানে হাইকোর্টে রিট ও আদেশর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “গত ২০ জুলাই রাজশাহী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বালুমহালের সীমানার মধ্যে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আগামী ২০ আগস্ট এ নিয়ে হাইকোর্টে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। কিন্তু এর আগেই হঠাৎ করে কেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচলানা করে বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ করে দেয়া হয়।”

বেন্টু অভিযোগ করেন, তার বালুমহালটি চালুর পর থেকে একটি চক্র এর বিরুদ্ধে তৎপর। তিনি বলেন, “ইজারা ব্যবসায় টিকতে না পেরে বুলনপুর এলাকার বালু ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন এই বালুমহাল অবৈধ বলে হাইকোর্টে রিট করেন।”

তবে আজিজুল আলম বেন্টুর অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ আখ্যা দেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হামিদুল হক। দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, “কাজলা মৌজায় জেলা প্রশাসন কোন বালুমহাল ইজারা দেয়নি। অথচ চরখিদিরপুর ও চরশ্যামপুর মৌজার বালুমহাল ইজারা নিয়ে আজিজুল আলম বেন্টু বালু তুলছিলেন কাজলা মৌজা থেকে। সোমবার অবৈধ এই বালুমহাল বন্ধে আমার হাতে হাইকোর্টের নির্দেশনা আসে। সেখানে সময় ছিলো ১৫ দিন। সে অনুযায়ীই অভিযান চালানো হয়েছে।”

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক জানান, চরশ্যামপুর ও চরখিদিরপুর বালুমহাল থেকে ইজারাদার বালু তুলতে পারবেন। সেক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।