Loading...

এরশাদ আর নেই

পড়তে পারবেন 2 মিনিটে

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)। রোববার (১৪ জুলাই) রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

আইএসপিআরের সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খান জানিয়েছেন, ৭টা ৪৫ মিনিটে সিএমএইচে এরশাদ মারা যান।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল সুভ রায় বলেন, সকাল পৌনে ৮টার দিকে সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন।

সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ অনেকে। সাবেক রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ এমপি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

প্রায় আট মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন এরশাদ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরেন। অসুস্থতার কারণে নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হলেও কোনও প্রচারে অংশ নেননি।

গত ২৬ জুন বারিধারা বাসা থেকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয় এরশাদকে। ক্রমশ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক তাকে দেখতে হাসপাতালে যান।

জাতীয় পার্টির ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করেন এরশাদ। এরপর ১৯৫২ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে অফিসার পদে নিয়োগ লাভ করেন তিনি। ১৯৬৯ সালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি লাভের পর ১৯৬৯-৭০ সালে তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে এবং ১৯৭১-৭২ সালে সপ্তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এরশাদ পশ্চিম পাকিস্তানে আটকা পড়েন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে তিনি পাকিস্তান থেকে দেশে আসেন। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল পদে তাকে নিয়োগ করা হয়। ১৯৭৩ সালে কর্নেল এবং ১৯৭৫ সালের ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ওই বছরই আগস্টে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে তাকে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান নিয়োগ করা হয়। ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এরশাদকে সেনাবাহিনীর প্রধান করা হয় এবং ১৯৭৯ সালে তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

এরশাদের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে। এরপর তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছেন, সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, সর্বশেষ ছিলেন একাদশ সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা। বর্তমানে তার ভাই গোলাম মোহাম্মদ কাদের জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্ত্রী রওশন এরশাদের সঙ্গে জাতীয় পার্টির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া জীবনবৃত্তান্তে বলা হয়েছে, ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রংপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এরশাদ। এরশাদের বাবা রংপুরের আইনজীবী মকবুল হোসেন ও মাতা মাজিদা খাতুন। যদিও কোনও কোনও তথ্যমাধ্যম বলছে, এরশাদের জন্ম ভারতের কুচবিহার জেলার দিনহাটায়। তবে নিজের আত্মজীবনীতে এরশাদ লিখেছেন, তার জন্ম কুড়িগ্রামে মামাবাড়িতে।

ব্যক্তি জীবনে এরশাদ দুটি বিয়ে করেন। তার প্রথম স্ত্রী রওশন এরশাদ, যিনি এখন সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতার দায়িত্ব পালন করছেন। দ্বিতীয়বার তিনি বিয়ে করেন বিদিশাকে। পরে তাদের বিচ্ছেদ হয়। বিদিশা ও এরশাদের সংসারে রয়েছে একমাত্র ছেলে এরিক এরশাদ। এছাড়া নিজের আত্মজীবনীতে এরশাদ জানিয়েছেন, এরিক ছাড়াও জেবিন, সাধ ও আলম নামে তার তিন সন্তান রয়েছে।

রাজনীতির বাইরে এরশাদ অসংখ্য কবিতা ও গান লিখেছেন। এর মধ্যে জীবন সন্ধ্যার সন্ধ্যাতারা, নবান্নে সুখের ঘ্রাণ, কবিতা সমগ্র, যুদ্ধ ও অন্যান্য কবিতা, নির্বাচিত কবিতা (ইংরেজি ভাষান্তরসহ), এক পৃথিবী আগামীকালের জন্যে শীর্ষক কবিতা গ্রন্থ রয়েছে তার। কবি ফজল শাহাবুদ্দিন এরশাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।

Digiprove sealCopyright protected by Digiprove © 2019
Acknowledgements: বাংলা ট্রিবিউন
All Rights Reserved

সবশেষ আপডেট

উত্তরকাল

বিশ্বকে জানুন বাংলায়

All original content on these pages is fingerprinted and certified by Digiprove
%d bloggers like this: