Loading...
উত্তরকাল > বিস্তারিত > সমসাময়িক > গতিহীন নির্মাণকাজ, ভোগান্তি চরমে রাজশাহী-নওগাঁ সড়কে

গতিহীন নির্মাণকাজ, ভোগান্তি চরমে রাজশাহী-নওগাঁ সড়কে

পড়তে পারবেন 3 মিনিটে

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ

।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

দীর্ঘ সময় ধরে মাত্র ১৮ ফুটের সরু রাস্তা ছিলো রাজশাহী-নওগাঁ চলাচলকারী মানুষের দুঃখ। অবেশেষে গত বছর থেকে শুরু হয় এই আঞ্চলিক মহাসড়ক ৩৪ ফুটে প্রশস্ত ও উন্নতকরণ। এরই মধ্যে এর বেশিরভাগ অংশের কাজও শেষ। কিন্তু একটি অংশের নির্মাণকাজে ধীরগতির কারণে নিত্য ভোগান্তিতে পড়েছেন চলাচলকারীরা।

মহাসড়কটির রাজশাহী অংশের অন্তত ২০ কিলোমিটার এখন প্রায় চলাচলের অযোগ্য। এর মধ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশের কার্পেটিং তুলে রাস্তার পাশে স্তূপাকারে রাখা হয়েছে। রাস্তা হয়ে উঠেছে এবড়োথেবড়ো মেঠোপথ। জলনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় পানি জমে তৈরি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরো শুষ্ক মৌসুমে সড়কের এই অংশে কাজ চলেছে ঢিমেতালে। এখন বর্ষা এসে পড়ায় কাজ বন্ধ করতে হয়েছে। তাই এই দুর্ভোগ অন্তত পুরো বর্ষা মৌসুম জুড়েই পোহাতে হবে। আর তাই এই প্রকল্পের বেঁধে দেয়া সময় আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়া নিয়েই দেখা দিয়েছে সংশয়।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য বলছে, আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের (রাজশাহী জোন) আওতায় নওগাঁ সদর উপজেলার ঢাকা মোড় থেকে রাজশাহী বিমানবন্দর এলাকা পর্যন্ত নওগাঁ-রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়কের মোট ৭৪ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ শুরু হয় গেলো বছরের ১৪ মে।

মোট ১২টি প্যাকেজে ভাগ করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শুরু হয়। মোট ব্যয় ধরা হয় ৪৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে প্যাকেজ বাস্তবায়ন করে নওগাঁ সওজ বিভাগ। বাকি তিনটি প্যাকেজের বাস্তবায়ন করার কথা রাজশাহী সওজ বিভাগের। নওগাঁ অংশের পুরো কাজই শেষ হয়ে গেছে এরই মধ্যে।

রাজশাহীর অংশের ২১ কিলোমিটার সম্প্রসারণের এই তিনটি প্যাকেজের মধ্যে দুটির কাজ পায় ওয়াহিদ কন্সট্রাকশন। এর মধ্যে প্যাকেজ-১০ এর অধীনে সাড়ে ৫কিলোমিটার রাস্তার কাজ ২৭ কোটি টাকায় এবং প্যাকেজ-১১ এর অধীনে ৮কিলোমিটার রাস্তার কাজ ৩৯ কোটি টাকায়। প্যাকেজ-১২ তে ৮কিলোমিটার রাস্তার কাজ ৩৯ কোটি টাকায় পায় আমিনুল হক প্রাইভেট কোম্পানি। এই তিন প্যাকেজের কাজেই এখন সবচেয়ে দুর্গতি।

সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী ট্রাক চালক আজিজুল জানান, শুকনো মৌসুমে ধুলায় দিনের বেলা হেডলাইড জ্বালিয়ে চালানোর মতো পরিস্থিতি হয় এই রাস্তায়। বর্ষা শুরুর পর থেকে তা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। গর্ত ও খানাখন্দে পড়ে যানবাহন আটকে যাচ্ছে। ছোট পিকআপ উল্টে যাবার ঘটনাও ঘটেছে।

কেশরহাট পৌর এলাকার একটি বড় অংশ পড়েছে এই রাস্তায়। কেশরহাট বাজারে সব সময়ই যানজট লেগেই থাকছে। পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান শহিদ অভিযোগ করেন, রাস্তার কার্পেটিং তুলে সড়কে রাখার ফলে পানি নিস্কাশন না হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। আর এই জলাবদ্ধতার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগে থাকছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, আমিনুল হক প্রাইভেট কোম্পানি হয়তো টেনেটুনে নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবে। কিন্তু ওয়াহিদ কন্সট্রাকশনের কাজ দুটি নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ার আশঙ্কা আছে। আবার শেষ হলেও তড়িঘড়ি করে করতে গিয়ে কাজের মান খারাপ হতে পারে।

ওই কর্মকর্তার দাবি, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মৌখিকভাবে তাগাদা দেয়া হয়েছে। কিন্তু ওয়াহিদ কন্সট্রাকশনের নামে প্রকৃতপক্ষে কাজটি করছেন রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের নেতা মুনজুর রহমান পিটার। তার প্রভাব খাটানোর প্রবণতা কাজ শেষ করার পথে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা বলেন, “এই কাজে যে ধরনের দক্ষতা দরকার, পিটার সাহেবের তা নেই। সে কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে মুনজুর রহমান পিটার স্বীকার করেন যে ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনের পক্ষে কাজটি মূলত তিনিই করছেন। তবে তিনি দাবি করেন, বৃষ্টির কারণে কাজটি বিলম্ব হচ্ছে। তাহলে শুকনো মৌসুমে কী করেছিলেন? এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো জবাব না দিয়ে তিনি বলেন, “যেভাবেই হোক, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা কাজ শেষ করবো।”

এবিষয়ে জানেত চাইলে রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইউনুস আলী জানান, বৃষ্টির মধ্যে কাজ করলে কাজ টিকবে না। সে কারণেই ঠিকাদাররা কাজ করতে পারছেন না। তবে বিলম্বের বিষয়টি তাদের মাথায় আছে বলে তিনি দাবি করেন।

সবশেষ আপডেট

উত্তরকাল

বিশ্বকে জানুন বাংলায়

All original content on these pages is fingerprinted and certified by Digiprove
%d bloggers like this: