।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বিষয়ক যেকোনো সমস্যা সমাধানে আসা আবেদন আর ঝুলে থাকবে না। আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকেই আইনে নির্ধারিত সময়েই সব আবেদন নিষ্পত্তি করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন এবং পৌরসভাসহ অন্যান্য স্থানীয় নির্বাচনের কর্মযজ্ঞের কারণে সারাদেশে লাখ লাখ আবেদন নিষ্পত্তি করতে পারেননি স্থানীয় কর্মকর্তারা। তাই আবেদনগুলো নিষ্পত্তির এবার ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে কয়েক লাখ এনআইডি সংশোধন, ঠিকানা পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে করা আবেদনগুলো অনিষ্পত্তি অবস্থায় পড়েছিল। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হয়েছে। তাই নির্বাচন কমিশন আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এক্ষেত্রে ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়ে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সেগুলো নিষ্পত্তি করা হবে। নির্বাচন কমিশন এজন্য ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছে। এরপর থেকেই আরও কোনো আবেদন যাতে পড়ে না থাকে সে নির্দেশনাও দিয়েছে।

জানা গেছে, আবেদন করার পর যথাযথ দলিল সরবরাহ না করার কারণেও অনেকের আবেদন অনিষ্পত্তি অবস্থায় পড়ে আছে। আবার অনেক আবেদন স্থানীয় কর্মকর্তার ব্যস্ততার কারণে নিষ্পত্তি হয়নি। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভবিষ্যতে আর কোনো আবেদন বছরের পর বছর পড়ে থাকবে না। চাহিদা অনুযায়ী কিংবা আইন অনুযায়ী কোনো আবেদনে উল্লেখিত সমস্যা সমাধান না হলে, তা দ্রুত নিষ্পত্তি করে অর্থাৎ নাকচ করে দেয়া হবে। তবু ফেলে রাখা হবে না কারো আবেদন। এভাবে নিষ্পত্তি হলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর পরে আবার আবেদন করতে হবে।

এরইমধ্যে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা মাঠ পর্যায়ে সব কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছেন ইসির এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম। এতে বলা হয়েছে- দীর্ঘদিন ধরে ‘প্লিজ সাবমিট ডকুমেন্ট’, ‘ইনভেস্টিগেশন রিকোয়ার্ড’ এবং ‘প্রবলেম ইন ফাইল’ স্ট্যাটাসে থাকা আবেদনগুলো কর্মকর্তারা নিষ্পত্তি/ঊর্ধ্বগামী করবেন। আর এই তিন ধরনের আবেদন ছাড়া অন্য আবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক/উপ-পরিচালক, পরিচালক অপারেশন্স ক্ষেত্রমতে নিষ্পত্তি/ঊর্ধ্বগামী করবেন।

নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনগুলোর মধ্যে যেগুলোর সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে, সেগুলো নতুন করে ছাপানো হবে জেলা পর্যায়েই। সেখান থেকেই সংশ্লিষ্ট উপজেলা কর্মকর্তার মাধ্যমেই আবার সরবরাহ করা হবে আবেদনকারীর কাছে। আর জেলা পর্যায়ে ওই এনআইডি ছাপানোর আগে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন নিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

নির্বাচন কমিশন দেশের সাড়ে ১০ কোটির মতো ভোটারদের এনআইডি সরবরাহ সংক্রান্ত সেবা দিয়ে আসছে। উন্নতমানের এনআইডি বা স্মার্টকার্ডও দেয়া হবে সব নাগরিককে। তবে স্মার্টকার্ড প্রকল্পে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় সংশোধন, স্থানান্তর, হারানো কার্ড উত্তোলনের আবেদন নিষ্পত্তি হলে সংশ্লিষ্টদের আপাতত লেমিনেটিং করা এনআইডি সরবরাহ করছে ইসি।

Digiprove sealCopyright protected by Digiprove © 2019
Acknowledgements: বাংলানিউজ
All Rights Reserved