।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিয়োগের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় শ্রমিক আন্দোলন কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদসহ ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার (৭ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়- বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিট নির্মাণকারী চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ১৫৪ জন শ্রমিক ২০১৮ সালে তৃতীয় ইউনিট নির্মাণ শেষে বেকার হয়ে পড়েন। বর্তমানে তারা বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন।

শনিবার (৬ জুলাই) সকালে কিছু সময় তারা পরিবার পরিজন নিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে অবস্থান ধর্মঘট করে চলে যায়। রোববার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে তারা পুনরায় ওই সড়কে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। ফলে পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী সড়কে সবধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেলা ১১টার দিকে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এসময় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ ঘটনায় অন্ততপক্ষে ২০ শ্রমিক আহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা।

 পুলিশের হাতে আটক হওয়া অনান্য শ্রমিকরা হলেন- আরিফুল ইসলাম, মাজেদুল ইসলাম, মনোয়ার হোসেন, আব্দুল আজাদ, মমিনুল ইসলাম, মাজেদুল হক, জিয়াদুল হক ও শাহিনুর রহমান।

 এদিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আটক শ্রমিক নেতাদের মুক্তির দাবি করে আবারও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

 পুলিশের লাঠিচার্জ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ঘটনার পর আন্দোলরত শ্রমিকরা সংগঠিত হয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে এ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন শ্রমিক অধিকার আন্দোলন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবি শাহাজান।

এসময় কমিটির সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম, আরিফ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফুলবাড়ী শাখার সাধারণ সম্পাদক নুর আলমসহ অনান্য শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 শ্রমিক অধিকার আন্দোলন কমিটির সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও আরিফের অভিযোগ, শ্রমিকরা তাদের ন্যায্যদাবি পূরণের লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন, কিন্তু পুলিশ বিনা উস্কানিতে হঠাৎ তাদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করে।

তবে পুলিশ বলছে আন্দোলনকারীদের বারবার অনুরোধ করেও তারা সড়ক থেকে সরে না যাওয়ায় তাদের ধাওয়া দিয়ে সড়ক থেকে তুলে দেয়া হয়েছে।

 বড়পুকুরিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক সুলতান মাহমুদ বলেন, আন্দোলনকারীরা দাবি আদায়ের নামে ফুলবাড়ী-পাবর্তীপুর সড়ক অবোরোধ করে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়। এতে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়, এ কারণে তাদের মৃদু ধাওয়া দিয়ে সেখান থেকে তুলে দিয়ে ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, আন্দোলনকারীরা তাপবিদ্যুৎ  কেন্দ্রের নির্মাণকালীন একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অধিনে উন্নয়ন কাজ করেছিলেন, এখন উন্নয়ন কাজ শেষ। আবারও যখন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে জনবল প্রয়োজন হবে তখন তাদের কাজে লাগানো হবে, এখন জনবলের প্রয়োজন নাই। তবে সরকারিভাবে নিয়োগের ব্যাপারে আমাদের কিছুই করার নাই।

 বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিটের উন্নয়ন কাজের স্থানীয় অভিজ্ঞ শ্রমিকরা উৎপাদন কাজে কর্মী হিসেবে নিয়োগের দাবিতে গত শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান ফটকের সামনে, ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর সড়কে অবস্থান নিয়ে পূর্ব ঘোষিত অবোরোধ কর্মসূচি শুরু করে।