।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

বগুড়ায় টেন্ডার ছাড়াই সরকারি পাটকলের প্রায় আড়াই একর জায়গা বিক্রির মামলায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই মামলায় বগুড়ার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা না-মঞ্জুর করে লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, জেলার আদমদীঘি উপজেলার দারিয়াপুর মৌজায় বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশনের ২ দশমিক ৩৮ একর জমি একসময় সরকারি ‘পাট ক্রয়কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যবহার হতো। ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর কোনো টেন্ডার ছাড়াই তৎকালীন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী তার পূর্ব পরিচিত বগুড়া শহরের কাটনার পাড়া এলাকার জাহানারা রশিদের কাছে ২৩ লাখ টাকায় পরিত্যক্ত ওই সরকারি জমি বিক্রি করেন। অথচ, বাজারমূল্যে ওই জমির দাম প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। এই অভিযোগে আদমদীঘি থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তভার দেয়া হয় দুদকের কাছে। তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, এই অবৈধ বিক্রিতে সরকারের ৪০ লাখ ৭০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে গত ফেব্রুয়ারিতে সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী ও জাহানারা রশিদকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়।

মামলায় জামিন পেতে বৃহস্পতিবার সকালে বগুড়ার আদালতে হাজির হন লতিফ সিদ্দিকী। তবে বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার তার জামিন আবেদন মঞ্জুর না করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে বগুড়া জেলা কারাগারে নেয়া হয় মহাজোট সরকারের সাবেক এই মন্ত্রীকে।