।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

প্রকৃত চালকল মালিকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ না করে অবৈধভাবে বন্ধ চালকল থেকে দুই ট্রাক চাল আমদানি করে রাজশাহীর তানোর উপজেলার কামারগাঁ সরকারি খাদ্য গুদামে চাল তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার বিকেলের এঘটনায় স্থানীয় মিলারসহ কৃষকরা হাতেনাতে চাল ভর্তি ট্রাক দুটিকে আটকে রাখে সংশ্লিষ্টদের খবর দেয়। এসময় তানোর কামারগাঁ গুদাম কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) মাইনুল ইসলাম স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে পালিয়ে যান।

এঘটনায় প্রকৃত চালকল মালিকরা গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বুধবার (১৯ জুন) উপজেলা নির্বাহীর দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

মিলারদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কামারগাঁ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মাইনুল ইসলাম প্রকৃত মিলারদের বাদ দিয়ে যেসব মিল বন্ধ পড়ে রয়েছে তাদের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে বরাদ্দ দিয়ে পুরাতন ভাঙাদানাযুক্ত চাল গুদামে সরবরাহ করিয়ে নিচ্ছেন।

অভিযোগ কারী কামারগাঁ ইউপি এলাকার মৃদুল চালকলের মালিক আব্দুল মান্নান, মৃধা চালকলের মালিক মুঞ্জুর সর্দার, চালকলের মালিক খাজেম আলীসহ একাধিক মিলাররা জানান, আমাদের মিলগুলো চালু থাকলেও বরাদ্দ না দিয়ে যে সব মিল চালু নাই তাদেরকে চাল সরবরাহের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা আইনের লঙ্ঘন। নিয়ম মতে সচল চালকল থেকেই চাল কিনতে হবে সরকারি খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষকে।

আমরা উপজেলা খাদ্য অফিসারকে বিষয়টি জানালে তিনি সাফ জানিয়ে দেন আপনারা এমপিকে অভিযোগ করেছেন এজন্য আপনাদের বরাদ্দ দেয়া হয়নি। অথচ গত মঙ্গলবার মাদারিপুর বাজারে অবস্থিত অকেজো শরিফ মুন্সী এবং চৌবাড়িয়া বাজারের করিম চাল কলের নামে নওগাঁ জেলার রাকিব চাল কল থেকে দুই ট্রাক চাল আনা হয়েছে। এ দুই চালকলের নামে সরবরাহের অর্ডার ইস্যু করছেন গুদাম কর্মকর্তা এবং তানোর পৌর সদরের কুঠিপাড়া গ্রামের মিজান নামের এক ব্যবসায়ী।

এনিয়ে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা  বিকাশ এবং তানোর চালকল মালিক সমিতির সভাপতি হাজী মোবারক বলেন, এসব ঝামেলা না করে সমঝোতা করে নেয়া ভালো।

এনিয়ে কামারগাঁ খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মাইনুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি। উপজেলা খাদ্য অফিসারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসরিন বানু বলেন, আমি ঢাকায় আছি। বিষয়টি শুনেছি। আটককৃত দুই ট্রাক চাল গুদামে না নেবার জন্য দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে বলেছি। আমি তানোরে ফিরে এসে ব্যবস্থাগ্রহণ করবো।

এদিকে রাজশাহীর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা বিষয়টি জেনেছি। প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।